৮ মাসের গর্ভের সন্তান মারা গেলে করণীয় কি?

Family Life · Hanafi

Question No: 4096
Questioner: Nusrat Jahan
Question Asked: 17 Aug 2026, 11:17 PM
Reviewed & Published: 17 Aug 2026, 11:20 PM
Views: 20
Tokens: 2,267
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amr 1st sontan 8th maser somoy petei mara jai ..amr pancreatitis dhora pore Ami khub osusto cilm..baby delivery howar por or familyr koikjn janaja na poriyei dafon Kore..amr prosno hocche ki Amol krle Ami oke shopno dkbo ba mrittur por e or Sathe amr dka hobe r o jeno akno onk valovbe boro hobe..Pete tkte or maryeum nam thik Kore rkcilm

Answer

উত্তর:
আপনার প্রথম সন্তান গর্ভের ৮ম মাসে ইন্তেকাল করেছে—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য দান করুন। আপনার প্রশ্নের জবাবে ইসলামি বিধান অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানানো হলো:

১. মৃত সন্তানের জন্য দাফন ও নামকরণ:
গর্ভস্থ সন্তান মারা গেলে, যদি সন্তানের শরীরের কোনো অঙ্গ স্পষ্টভাবে গঠিত হয়ে থাকে (যেমন: হাত, পা, মাথা), তাহলে তাকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো এবং জানাজার নামাজ পড়ে দাফন করা ওয়াজিব। আপনার সন্তান ৮ মাসের ছিল, তাই তার শরীর সম্পূর্ণ গঠিত ছিল—সুতরাং তার জানাজার নামাজ পড়া এবং দাফন করা সঠিকই হয়েছে।
আপনি তার নাম "মারইয়াম" রেখেছিলেন—এটি একটি উত্তম নাম। মৃত সন্তানের জন্য নাম রাখা জায়েয এবং এতে সওয়াব রয়েছে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৬১; রদ্দুল মুহতার, ২/২০৮)

২. সন্তানকে স্বপ্নে দেখা বা পরকালে সাক্ষাৎ:
আপনি যদি ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার সন্তান জান্নাতে আপনার জন্য "শাফাআত" (সুপারিশকারী) হবে। হাদিসে এসেছে—যে মুসলিমের সন্তান মারা যায়, সে সন্তান তার পিতামাতার জন্য জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৩৩)
স্বপ্নে সন্তানকে দেখা সম্ভব, তবে এটি নিশ্চিত নয়। স্বপ্নে দেখা গেলে তা ভালো লক্ষণ, কিন্তু না দেখলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পরকালে আল্লাহর রহমতে আপনার সন্তানের সাথে সাক্ষাৎ হবে—এটিই মূল প্রতিশ্রুতি। (সূরা আত-তুর: ২১)

৩. সন্তানের জন্য দোয়া ও আমল:
আপনি চাইলে নিম্নোক্ত আমলগুলো করতে পারেন:

  • প্রতিদিন সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ে মৃত সন্তানের রুহের কাছে পাঠানো (ইসালে সওয়াব)।
  • বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ পড়া।
  • রোজা রাখা, সদকা করা এবং এর সওয়াব সন্তানের নামে দান করা।
  • মৃত সন্তানের জন্য দোয়া করা:
    "اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَسَلَفًا وَأَجْرًا"
    (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ‘আলহু লানা ফারাতান ওয়া সালাফান ওয়া আজরান)
    অর্থ: "হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রগামী, পূর্ববর্তী এবং সওয়াবের কারণ বানিয়ে দিন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৮৯)

৪. আপনার অসুস্থতা (Pancreatitis):
আপনার শারীরিক অসুস্থতার সময় সন্তান হারানো—এটি পরীক্ষা। আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৫৫)
আপনার ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা আপনার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করবে।

৫. মৃত্যুর পর সাক্ষাৎ:
যারা ঈমানদার, তারা জান্নাতে তাদের পরিবারের সাথে মিলিত হবে। আল্লাহ বলেন:
"যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলিত করব।" (সূরা আত-তুর: ২১)
সুতরাং আপনার সন্তান যদি মুসলিম হিসেবে মারা যায় (যেহেতু সে মুসলিম মায়ের গর্ভে ছিল), তাহলে ইনশাআল্লাহ জান্নাতে তার সাথে আপনার সাক্ষাৎ হবে।

উপসংহার:
আপনার সন্তানের জন্য দোয়া করুন, ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন। আপনার সন্তান জান্নাতে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো গুনাহের কাজ করেননি—আপনার সন্তানকে দাফন করা সঠিকই হয়েছে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। (আমিন)

রেফারেন্স:

  • সূরা আত-তুর: ২১
  • সূরা আল-বাকারা: ১৫৫
  • সহিহ বুখারি: ১৩৮৯
  • সহিহ মুসলিম: ২৬৩৩
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৬১
  • রদ্দুল মুহতার: ২/২০৮

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.