পায়খানা বা প্রস্রাবের পর ইস্তিঞ্জার পানি গায়ে বা কাপড়ে লাগলে কি অপবিত্র হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4054
Questioner: Rashed Khan
Question Asked: 17 Aug 2026, 05:36 AM
Reviewed & Published: 17 Aug 2026, 06:37 AM
Views: 35
Tokens: 2,396
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পায়খানা বা প্রস্রাব করার পর ঢিলা কুলুক ব্যবহার করে যে পানি ব্যবহার করা হয় সেটি গায়ে বা কাপড়ে লাগলে কি অপবিত্র হবে?

Answer

পায়খানা বা প্রস্রাবের পর ঢিলা/কুলুক ব্যবহারের পানি গায়ে বা কাপড়ে লাগলে কি অপবিত্র হবে?

উত্তর

প্রস্রাব বা পায়খানার পর ঢিলা বা কুলুখ ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নাত এবং এরপর পানি ব্যবহার করা উত্তম ।

১. ব্যবহৃত পানির (মায়ে মুস্তামাল) হুকুম

পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত পানি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাকে ফিকহের পরিভাষায় 'মায়ে মুস্তামাল' বা ব্যবহৃত পানি বলা হয়। হানাফী মাজহাবের নির্ভরযোগ্য ও ফাতওয়া অনুযায়ী, এই ব্যবহৃত পানি স্বয়ং পবিত্র (তহির), তবে তা অন্য কিছুকে পবিত্র করতে পারে না। সুতরাং ইস্তিনজার পর শরীর থেকে গড়িয়ে পড়া পানির ছিঁটা যদি কাপড় বা অন্য অঙ্গে লাগে, তবে তা অপবিত্র হবে না।

২. ঢিলা ব্যবহারের পর ছিঁটা লাগার বিধান

ঢিলা বা কুলুখ ব্যবহারের মাধ্যমে মূল নাপাকি আগেই পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। এরপর যখন পানি ব্যবহার করা হয়, তখন সেই পানি মূলত পবিত্র স্থান ধৌত করার মতো হয়ে যায়। এ বিষয়ে উৎস কিতাবসমূহের ভাষ্য নিম্নরূপ:

  • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড, পৃ. ১২৩-১২৫): এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রস্রাব বা পায়খানার পর ঢিলা ব্যবহার করলে মূল নাপাকি দূর হয়ে যায়। এরপর পানি ব্যবহারের সময় যদি কোনো পানির ছিঁটা কাপড় বা শরীরে লাগে (যাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন নেই), তবে তা শরীর বা কাপড়কে অপবিত্র করবে না
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড, পৃ. ১০৭): যদি কোনো ব্যক্তি সুন্নাত অনুযায়ী প্রথমে ঢিলা ব্যবহার করে এবং পরে পানি দিয়ে ধৌত করে, তবে সেই পানি অপবিত্র হবে না। এমনকি এই পানির ছিঁটা শরীরে লাগলেও কোনো সমস্যা নেই।

৩. নাপাকির চিহ্ন থাকলে করণীয়

যদি ওই পানির ছিঁটার সাথে দৃশ্যমান নাপাকি (যেমন- প্রস্রাব বা পায়খানার রং, দুর্গন্ধ বা কোনো অংশ) থাকে, তবে যেখানে লাগবে সেই জায়গাটি নাপাক বা অপবিত্র হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় ওই অংশটুকু ধুয়ে ফেলা ওয়াজিব।

৪. সামান্য ছিঁটার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় (উমুমুল বালওয়া)

ইস্তিনজা করার সময় অনেক সময় পানির অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিঁটা থেকে বাঁচা কঠিন হয়ে পড়ে। একারণে শরীয়তে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে:

  • নূরুল ঈযাহ (পৃ. ৪৯): প্রস্রাব বা ইস্তিনজার পানির অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিঁটা যা সুঁইয়ের মাথার মতো, তা যদি শরীরে বা কাপড়ে লাগে, তবে তা মাফ বা ক্ষমারযোগ্য। এর জন্য কাপড় পরিবর্তন করা বা ধোয়া আবশ্যক নয়।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড, পৃ. ৫৬-৫৭): রাস্তা বা শৌচাগারের এমন পানির ছিঁটা যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন, তাকে 'উমুমুল বালওয়া' বা ব্যাপক সমস্যার কারণে পবিত্র ধরা হয়, যতক্ষণ না নাপাকির প্রবল প্রমাণ পাওয়া যায়।

সারসংক্ষেপ: যদি আপনি প্রথমে ঢিলা/কুলুখ ব্যবহার করেন এবং এরপর পানি দিয়ে ধোয়ার সময় কেবল স্বচ্ছ পানির ছিঁটা আপনার কাপড়ে বা শরীরে লাগে, তবে আপনার কাপড় বা শরীর অপবিত্র হবে না এবং ঐ পোশাকে নামাযও হবে। এটি একটি সাধারণ সংশয় বা ওয়াসওয়াসা, যা উপেক্ষা করা উচিত।

*(তথ্যসূত্র: ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৫ম খণ্ড পৃ. ১২৩-১২৫ ও ২৫৩-২৫৪; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড পৃ. ৫৬, ৮৩ ও ১০৭; নূরুল ঈযাহ পৃ. ১৪ ও ৪৯।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.