বিচ্ছু দেখার স্বপ্ন সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4034
Questioner: Md Takibur Rahman Tamim
Question Asked: 16 Aug 2026, 06:53 AM
Reviewed & Published: 16 Aug 2026, 07:52 AM
Views: 30
Tokens: 3,605
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস সালামু আলাইকুম। স্বপ্নটি আজকে ভোরে দেখেছি ফজরের সময়। আমাদের বাসার সামনে আগে একটা কুয়া/বদ্ধ নালার মত ছিলো। দেখি সেখানে অনেক বড় একটা বিচ্ছু রয়েছে যেটার মুখটা বিচ্ছুর মত কিন্তু বাকিটুকু সাপের মত এবং অনেক বড়। আমি বিচ্ছুটাকে বারবার বিরক্ত করতেছি। আমার দিকে আসার চেষ্টা করলে আমি ওকে ভয় দেখালে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। আবার ওকে বিরক্ত করি, আমার দিকে আসলে আবার ভয় দেখাই। কিন্তু ৩য়/৪র্থ বার সেইম কাজ করলে ওইটা আমার দিকে তেড়ে আসে কিন্তু আমি ওরে আর ভয় দেখাইনি, আমি ভয় পাচ্ছি কিন্তু দূরেও সরে যাইনি। এরপরেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। এর একটু পরেই ফজরের আজান দিয়েছে। এটা কি ধরণের স্বপ্ন?

Answer

বিচ্ছু দেখার স্বপ্ন সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা

উত্তর:

ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রিয় ভাই, প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে স্বপ্ন তিন প্রকার:

১. সৎ স্বপ্ন (আর-রু'য়া) - যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং সুসংবাদ বহন করে। ২. খারাপ স্বপ্ন (আল-হুলম) - যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং ভয়-ভীতি সৃষ্টির জন্য হয়। ৩. মনের চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন - যা মানুষ দিনের বেলায় যা নিয়ে ভাবে বা যা করে, তার প্রতিফলন।

এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা:

আপনার বর্ণিত স্বপ্নটি শয়তানের পক্ষ থেকে আসা খারাপ স্বপ্ন (হুলম) বলে মনে হচ্ছে। কারণ:

১. এতে ভয়-ভীতি ও উদ্বেগের বিষয় রয়েছে ২. বিচ্ছু ও সাপের মতো ভয়ংকর প্রাণী দেখা গেছে ৩. স্বপ্নটি ফজরের সময় দেখেছেন, যা শয়তানের প্রভাবের সময় হতে পারে

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"সৎ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে।" (সহীহ বুখারী: ৬৯৮৪, সহীহ মুসলিম: ২২৬১)

করণীয়:

যখন কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করতে বলেছেন:

১. বাম দিকে থুথু (হালকা) ফেলা - তবে মসজিদে নয় ২. আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা - "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" বলা ৩. বাম পাশে ঘুমানো অবস্থা পরিবর্তন করা ৪. উঠে নামায পড়া (যদি সম্ভব হয়) ৫. কারো কাছে স্বপ্নের কথা না বলা (খারাপ স্বপ্নের ক্ষেত্রে) ৬. স্বপ্নের ব্যাখ্যা না করা ও নিয়ে বেশি চিন্তা না করা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তা (অন্যদেরকে) জানায়। আর যখন সে এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তবে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং সে যেন শয়তান থেকে আশ্রয় চায় এবং এর ক্ষতি সম্পর্কে কারো কাছে উল্লেখ না করে। নিশ্চয়ই এটা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" (সহীহ বুখারী: ৭০৪৫, সহীহ মুসলিম: ২২৬১)

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

১. এই স্বপ্নের কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নেই - ইসলামে স্বপ্নকে ভাগ্য নির্ধারণের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয় না ২. স্বপ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না - এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা ৩. ফজরের নামাযের পর - আপনি ফজরের আজানের পর নামায পড়েছেন, এটি উত্তম। ফজরের সময় ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"খারাপ স্বপ্ন দেখলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং ব্যক্তি যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এতে ভয় না পায়। কারণ শয়তান মুমিনকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসাকারীদের কোনো ভয় নেই।"

উপসংহার:

এই স্বপ্নটি শয়তানের পক্ষ থেকে আসা খারাপ স্বপ্ন। এটি নিয়ে চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি ফজরের নামায পড়েছেন, এটি উত্তম। স্বপ্নের কারণে কোনো ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা:

"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হামি ওয়াল হাযানি, ওয়া মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়া মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।" (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কার্পণ্য থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের অত্যাচার থেকে।) (সহীহ বুখারী: ২৮৯৩)

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.