বিবিধ বিষয়ে ওয়াসওয়াসা
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্ন ৪০২৭: কসম ভঙ্গের কাফফারা ও ওয়াসওয়াসার বিধান
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:
১. কসম ভঙ্গের কাফফারা
যেহেতু আপনার পরিচিত ব্যক্তি আল্লাহর ইজ্জতের কসম খেয়ে বলেছে যে সে নির্দিষ্ট কাজ করবে না, কিন্তু পরে সে তা করেছে, তাই তার কসম ভঙ্গ হয়েছে। কসম ভঙ্গের কারণে কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হয়েছে।
কাফফারার বিধান হলো:
- ১০ জন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো, অথবা
- ১০ জন মিসকীনকে পোশাক দেওয়া, অথবা
- একজন দাস/ক্রীতদাস মুক্ত করা
যদি এসব সামর্থ্য না থাকে, তাহলে পরপর ৩ দিন রোজা রাখতে হবে। (সূরা আল-মায়িদা: ৮৯)
২. ওয়াসওয়াসার কারণে বলা কথা
আপনার পরিচিত ব্যক্তি "আল্লাহর সাহস থাকলে এই মরণঘাতী রোগ..." বলে যে কথা বলেছে, তা যদি সম্পূর্ণ ওয়াসওয়াসা (মনের খেয়াল/শয়তানের প্ররোচনা) বশত বলে থাকে, এবং সে তা বিশ্বাস না করে, তবে এটি কুফরি পর্যায়ে পৌঁছাবে না। তবে এটি অত্যন্ত অনুচিত ও গুনাহের কাজ।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার এ উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াসওয়াসার কারণে বলা কথা যদি অন্তর থেকে বিশ্বাস না করে বলা হয়, তবে তা কুফরি হিসেবে গণ্য হবে না। তবে তওবা করা আবশ্যক।
৩. তওবার প্রয়োজনীয়তা
এই ধরনের অশোভন কথা বলার কারণে তাকে তওবা করতে হবে এবং ইস্তিগফার পড়তে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا
"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দেন।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
৪. কসমের কাজ করা যাবে কি?
যেহেতু কসম ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে এবং কাফফারা দেওয়ার মাধ্যমে কসমের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, তাই সে ঐ কাজগুলো (জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা, মিউজিক অফ করে ফুটবল গেম খেলা ইত্যাদি) করতে পারবে। তবে শর্ত হলো:
- প্রথমে কাফফারা আদায় করতে হবে
- তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে
- ভবিষ্যতে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে ভঙ্গ না করার সংকল্প করতে হবে
৫. মরণঘাতী রোগ থেকে হিফাজত
আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি চাইলে যেকোনো রোগ থেকে বান্দাকে হিফাজত করতে পারেন। তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তরিক তওবা এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ
"মুমিনের ব্যাপারটি বিস্ময়কর! তার সকল কাজই কল্যাণকর।" (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)
সারসংক্ষেপ
১. কসম ভঙ্গের কারণে কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব। ২. ওয়াসওয়াসার কারণে বলা অনুচিত কথার জন্য তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে। ৩. কাফফারা আদায়ের পর সে ঐ কাজগুলো করতে পারবে। ৪. আল্লাহ চাইলে তাকে মরণঘাতী রোগ থেকে হিফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ। ৫. ভবিষ্যতে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে ভঙ্গ না করার সংকল্প করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালাই সর্বজ্ঞ।