করোনায় স্বামী সুস্থ হওয়ার পর সন্তান প্রার্থনা করা যাবে কি

Family Life · Hanafi

Question No: 4001
Questioner: Mst. Nazmun Nahar Nafiza
Question Asked: 15 Aug 2026, 03:39 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 03:49 PM
Views: 23
Tokens: 3,459
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

করো না কালীন সময়ে আমার হাজব্যান্ড অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আমি তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করি এবং বলি আল্লাহ তুমি আমার স্বামীকে হায়াত দাও, সুস্থ করে দাও আমি আর কিছুই চাইনা, আমি সন্তানও চাই না, এই কথা বলি। পরে আস্তে আস্তে আমার স্বামী সুস্থ হয়ে যায়, তাহলে কি এখন আমি আল্লাহর কাছে সন্তান চাইতে পারবো । না আমার স্বামীর কোন ক্ষতি হবে, এই ভয়ে আছি।

Answer

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ, আপনার স্বামী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত।

আপনি এখন আল্লাহর কাছে সন্তান চাইতে পারবেন এবং এতে আপনার স্বামীর কোনো ক্ষতি হবে না। আপনার পূর্বের কথাটি কোনো শর্ত বা মান্নত ছিল না, বরং এটি ছিল দুআর সময় আবেগপূর্ণ একটি উক্তি মাত্র।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. দুআর সময় আবেগপূর্ণ কথা শর্ত হিসেবে গণ্য হয় না:

দুআর সময় মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেক কথা বলে থাকে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার বা মান্নত নয়। ইসলামী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, মান্নত শুধুমাত্র সেসব বিষয়ে প্রযোজ্য যা স্পষ্টভাবে মান্নতের নিয়তে বলা হয়।

২. আল্লাহর রহমত প্রশস্ত:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)

৩. সন্তান চাওয়া বৈধ ও উত্তম:

সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত এবং নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সন্তান কামনা করতে উৎসাহিত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"তোমরা এমন নারীকে বিয়ে করো যে বেশি ভালোবাসে এবং বেশি সন্তান জন্ম দেয়। কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করব।" (আবু দাউদ: ২০৫০, নাসাঈ: ৩২২৭)

৪. পূর্বের কথার প্রভাব:

আপনি যখন বলেছিলেন "আমি সন্তানও চাই না" — এটি ছিল আপনার স্বামীর সুস্থতার জন্য দুআর সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে বলা কথা। এটি কোনো শর্ত ছিল না যে, "যদি আমার স্বামী সুস্থ হয়, তাহলে আমি সন্তান নেব না"। বরং আপনি আল্লাহর কাছে স্বামীর সুস্থতা প্রার্থনা করছিলেন এবং আবেগে বলেছিলেন যে, আপনি শুধু স্বামীর সুস্থতাই চান।


উপসংহার

আপনি নিশ্চিন্তে আল্লাহর কাছে সন্তান প্রার্থনা করতে পারেন। এতে আপনার স্বামীর কোনো ক্ষতি হবে না। আপনার পূর্বের কথাটি কোনো শর্ত বা মান্নত ছিল না, বরং এটি ছিল দুআর সময় আবেগপূর্ণ উক্তি মাত্র। আল্লাহর রহমত অপরিসীম — তিনি একই সাথে আপনার স্বামীকে সুস্থ রাখতে পারেন এবং আপনাকে সন্তান দান করতে পারেন।

দুআ করুন:

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ "হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।" (সূরা আলে ইমরান: ৩৮)


আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.