অনিচ্ছাকৃত কুফরি শব্দ উচ্চারণের বিধান

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 4000
Questioner: Salahuddin Ahmed
Question Asked: 15 Aug 2026, 03:19 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 03:32 PM
Views: 37
Tokens: 2,556
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যদি কেউ হাদিসের কিতাবের দিকে তাকিয়ে কোন কথা উচ্চারণ না করে শুধু না শব্দ উচ্চারণ করে ফেলে তাহলে কি হবে?

Answer

উত্তর:
আপনার প্রশ্নটি মূলত ওয়াসওয়াসা (Waswasa/OCD) সংক্রান্ত। ইসলামি ফিকহের আলোকে, ঈমানকুফরির সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে শুধুমাত্র মনের খেয়াল বা অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণের কোনো প্রভাব নেই, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে, জেনে-বুঝে এবং অন্তরের সম্মতিতে করা হয়।


১. কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা:

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا"
"আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।"
(সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ"
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত খেয়াল-খুশি ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।"
(সহিহ বুখারি: ৫২৬৯; সহিহ মুসলিম: ১২৭)


২. হানাফি ফিকহের নীতি:

হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহরদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:

  • কুফরি শব্দের বিধান প্রযোজ্য হবে তখনই, যখন তা ইচ্ছাকৃতভাবে, জেনে-বুঝে এবং অন্তরের সম্মতি নিয়ে উচ্চারিত হয়।
  • অনিচ্ছাকৃত, ভুলে, জবরদস্তিতে বা মনের অবসাদ/ওয়াসওয়াসার কারণে উচ্চারিত হলে তা ঈমানের ক্ষতি করে না এবং কুফরি হিসেবে গণ্য হয় না

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) তাঁর রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে লিখেছেন:

"যদি কেউ ভুলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কুফরি শব্দ উচ্চারণ করে ফেলে, তবে তার ঈমান নষ্ট হবে না। কারণ, শুধু উচ্চারণই যথেষ্ট নয়; সাথে সাথে অন্তরের সম্মতি ও ইচ্ছা থাকা শর্ত।"
(রদ্দুল মুহতার: ৪/২৩৬)


৩. আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

আপনি বলেছেন, "হাদিসের কিতাবের দিকে তাকিয়ে কোন কথা উচ্চারণ না করে শুধু 'না' শব্দ উচ্চারণ করে ফেললে" কী হবে?

  • যদি এটি অনিচ্ছাকৃত হয় (যেমন: ওয়াসওয়াসার কারণে, মনের অজান্তে, বা জোর করে উচ্চারিত হয়), তাহলে আপনার ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না। এটি সম্পূর্ণ ক্ষমার যোগ্য।
  • যদি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে, জেনে-বুঝে এবং অন্তরের সম্মতি দিয়ে হাদিসের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে "না" বলেন, তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এটি অনিচ্ছাকৃত এবং ওয়াসওয়াসার কারণে হয়েছে, তাই কোনো সমস্যা নেই

৪. ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়:

১. ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবেন না। শয়তান ঈমানদারকে এভাবেই বিভ্রান্ত করে। ২. আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। ৩. আলেমদের পরামর্শ নিন এবং এই বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, ওয়াসওয়াসা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে তা আরও বেড়ে যায়। ৪. দুআ করুন:

"رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ"
"হে আমার রব! শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আর হে আমার রব! তাদের আমার কাছে উপস্থিত হওয়া থেকেও আপনার কাছে আশ্রয় চাই।"
(সূরা আল-মুমিনুন: ৯৭-৯৮)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হিফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.