দ্বীনদার পাত্র পাওয়ার আমল

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3980
Questioner: Champa0395
Question Asked: 14 Aug 2026, 11:56 PM
Reviewed & Published: 15 Aug 2026, 12:17 AM
Views: 23
Tokens: 4,874
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম
আমি জেনারেল থেকে দীনে ফেরা,আলহামদুলিল্লাহ খাস পর্দা করি,নামাজ পড়ি, ইত্যাদি।
আমি চাই আমার লাইফে দিন্দার কেউ আসুক এই দিন্দার খুজতে খুজতে ৪ বছর পার করে দিছি। আজ অব্দি কেউ আমাকে পছন্দ করে নাই
আমি দেখতে ওতো খারাপ না,পারিবারিক স্ট্যাটাস মাশা আল্লাহ।

অনেক দিন্দার ছেলে আছে তারা শরিয়াহ মেনে দেখতে আসে আমার দিন্দারীত রোতা দেখে শুনে আমাকে দেখতে এসে তারা আর আগাই না।

মানুষ এমন কেনো সবাই দিন্দার এর কথা বলে অথচ তাদের কাছে সুন্দর 'ই সব।

কি ভাবে একজন সত্যিকার দিন্দার কাউকে পাবো?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি দীনের পথে ফিরে এসে খাঁটি দীনদার জীবনযাপন করছেন এবং একজন সত্যিকারের দীনদার জীবনসঙ্গী খুঁজছেন—এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। আল্লাহ তায়ালা আপনার এই নিয়তকে কবুল করুন এবং আপনার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন। আমিন।

আপনার দুশ্চিন্তা ও হতাশা স্বাভাবিক। ৪ বছর ধরে খোঁজার পরও কাউকে না পাওয়া কষ্টের। তবে মনে রাখবেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার জন্য যা নির্ধারিত আছে, তা কোনো অবস্থাতেই অন্য কেউ নিতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ" (সূরা আনআম: ৫৯)

অর্থাৎ, গায়েবের চাবিগুলো একমাত্র আল্লাহর কাছেই।

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

১. দীনদার ছেলেরা কেন এগিয়ে আসে না?

আপনি বলেছেন, দীনদার ছেলেরা আপনার দীনদারি দেখে, শুনে দেখতে আসে, কিন্তু পরে আর এগিয়ে আসে না। এর কারণ হতে পারে:

  • পর্দার কারণে শারীরিক সৌন্দর্য দেখতে না পাওয়া: অনেক ছেলে পর্দার কারণে মেয়ের চেহারা দেখতে না পেয়ে দ্বিধায় পড়ে যায়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ের প্রস্তাবের সময় মেয়ে ও ছেলে একে অপরকে দেখতে পারে (হাদিসে অনুমতি আছে), তবে তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে। অনেক দীনদার ছেলে জানে না যে, বিয়ের জন্য মেয়েকে দেখা জায়েজ, তাই তারা দেখতে এসে পর্দার কারণে পছন্দ করতে পারে না।
  • অতিরিক্ত কঠোরতা: কখনো কখনো মেয়ের পরিবার বা মেয়ে নিজে এত কঠোর শর্ত আরোপ করে যে, ছেলেরা ভয় পেয়ে যায়। যেমন—শুধু মুখ দেখানো হবে না, কথা বলা যাবে না, ইত্যাদি। শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে সহজ-সরল আচরণ করলে ছেলেরা এগিয়ে আসতে আগ্রহী হয়।
  • তাকদিরের বিষয়: এটাও হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য সঠিক সময়টি ঠিক করে রেখেছেন। এখনো সেই সময় আসেনি।

২. সত্যিকারের দীনদার কাউকে পাওয়ার উপায়:

ক. আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করুন: আল্লাহ তায়ালা বলেন: "وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ" (সূরা তালাক: ৩) অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

খ. বেশি বেশি দোয়া করুন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ" (তিরমিজি: ৩৩৭২) অর্থাৎ, দোয়াই হলো ইবাদত। আপনি ফজরের পর, তাহাজ্জুদে, জুমার দিনে বেশি বেশি দোয়া করুন। বিশেষ করে এই দোয়াটি পড়ুন:

"رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ" (সূরা কাসাস: ২৪) অর্থাৎ, হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।

গ. মাধ্যম ব্যবহার করুন:

  • আপনার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, মসজিদের ইমাম, বা বিশ্বস্ত আলেমদের মাধ্যমে খোঁজ নিন।
  • ইসলামিক বিবাহ সংস্থা বা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে দীনদার ছেলেরা থাকে।
  • আপনার এলাকার মাদরাসা বা ইসলামি সংগঠনের মাধ্যমে খোঁজ নিতে পারেন।

ঘ. নিজের দীনদারি বজায় রাখুন: আপনি যে পর্দা করছেন, নামাজ পড়ছেন—এগুলোই আপনার জন্য সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ" (বুখারি: ৫০৯০, মুসলিম: ১৪৬৬)

অর্থাৎ, নারীকে চারটি বিষয়ের জন্য বিয়ে করা হয়—তার সম্পদের জন্য, তার বংশমর্যাদার জন্য, তার সৌন্দর্যের জন্য এবং তার দীনদারির জন্য। সুতরাং তুমি দীনদার নারীকে বেছে নাও, তোমার হাত ধুলাময় হোক (অর্থাৎ সফল হও)।

ঙ. ধৈর্য ধরুন: আল্লাহ তায়ালা বলেন: "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ" (সূরা আলে ইমরান: ২০০) অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো, জিহাদে সদা প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

৩. মানুষের দ্বিচারিতা সম্পর্কে:

আপনি বলেছেন, মানুষ দীনদারির কথা বলে, কিন্তু তাদের কাছে সুন্দরীই সব। এটি দুঃখজনক হলেও সত্য। তবে মনে রাখবেন, এমনও অনেক দীনদার ছেলে আছে যারা সত্যিই দীনদারি দেখে বিয়ে করতে চায়। আপনার কাজ হলো আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং সঠিক মাধ্যম ব্যবহার করা। হতাশ না হয়ে দোয়া ও চেষ্টা চালিয়ে যান।

৪. কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ:

  • বিয়ের প্রস্তাব আসলে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে ছেলেটিকে দেখার ব্যবস্থা করুন। হাদিসে আছে, জাবির (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا، فَلْيَفْعَلْ" (আবু দাউদ: ২০৮২) অর্থাৎ, তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে, যদি সে তার দিকে এমনভাবে দেখতে পারে যা তাকে বিয়ে করতে উৎসাহিত করে, তবে সে যেন তা করে।

  • ছেলেটির দীনদারি, চরিত্র, আখলাক, পরিবার—সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করুন। শুধু চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

  • বিয়ের আগে ইস্তেখারা করুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে প্রতিটি কাজে ইস্তেখারা করতে শিখিয়েছেন।

৫. আপনার জন্য বিশেষ দোয়া:

আপনি প্রতিদিন এই দোয়াটি পড়ুন: "رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا" (সূরা ফুরকান: ৭৪) অর্থাৎ, হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মাধ্যমে আমাদের চোখ শীতল করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন।

উপসংহার:

প্রিয় বোন, আপনার দীনদারি, পর্দা, নামাজ—এগুলো আপনার জন্য রহমত। হতাশ হবেন না। আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই আপনার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তিকে পাঠাবেন। আপনি শুধু ধৈর্য ধরুন, দোয়া করতে থাকুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। মনে রাখবেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا * وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ" (সূরা তালাক: ২-৩) অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।

আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন এবং আপনাকে ধৈর্য ও তাওফিক দান করুন। আমিন।

রেফারেন্স:

  • সূরা আনআম: ৫৯
  • সূরা তালাক: ২-৩
  • সূরা কাসাস: ২৪
  • সূরা আলে ইমরান: ২০০
  • সূরা ফুরকান: ৭৪
  • সহিহ বুখারি: ৫০৯০
  • সহিহ মুসলিম: ১৪৬৬
  • আবু দাউদ: ২০৮২
  • তিরমিজি: ৩৩৭২

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.