বিড়ালের লেজের পাশে চাপ দিয়ে প্রশমিত করা
Halal and Haram · Hanafi
Question
বিড়াল বাসা থেকে বের হতে চায়। কিন্তু বাসা ৫ তলা তাই বের হতে দেয়া হয় না। এখন এই বিড়াল বাইরে চলে গেলে বাঁচতেও পারবে না কারণ পোষা বিড়ালের জন্য বাইরের পরিবেশ প্রতিকূল হয়। আবার ওকে ছেড়ে দিতে চাইলেও যায়না। হিট এ আসার কারণে বাসাতে থাকতে চায়না। করণীয় কী
Answer
প্রশ্নের উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আপনার প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত:
১. বিড়ালের লেজের পাশে চাপ দিয়ে প্রশমিত করা জায়েজ কি?
উত্তর: না, বিড়ালের লেজের দুই পাশে বাহ্যিকভাবে চাপ দিয়ে তাকে প্রশমিত করা জায়েজ নয়। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন কোনো কাজ করা যা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর বা অপ্রাকৃতিক, তা ইসলামী নীতির পরিপন্থী।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করে, আল্লাহ তাকে দয়া করেন।" (সহিহ বুখারী)
তবে বিড়ালের হিটের সময় তাকে এভাবে প্রশমিত করার চেষ্টা করা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থনযোগ্য নয়, কারণ এটি প্রাণীর স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের একটি অপ্রাকৃতিক পদ্ধতি।
২. বিড়ালের হিটের সময় করণীয় কী?
বিড়ালের হিট (Heat) বা মেট (Mating season) একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এই সময়ে বিড়াল অধিক ডাকাডাকি করে এবং বাসা থেকে বের হতে চায়। আপনার অবস্থায় করণীয়:
ক. নিরাপদ স্থানে রাখা: বিড়ালকে বাসার ভেতরে একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক স্থানে রাখুন। ৫ তলা বাসা থেকে বের হতে দিলে বিড়ালের জন্য বিপদ হতে পারে।
খ. জীবাণুমুক্তকরণ (Spaying): ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর জীবাণুমুক্তকরণ (Spaying/Neutering) সম্পর্কে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। তবে অনেক হানাফি আলেম মনে করেন, যদি প্রাণীর ক্ষতি রোধ করার জন্য প্রয়োজন হয়, তবে তা জায়েজ হতে পারে। ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) এর মতে, প্রাণীর ক্ষতি রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
গ. পশুচিকিৎসকের পরামর্শ: একজন অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনি হরমোন থেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন যা বিড়ালের হিটের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করবে।
ঘ. ধৈর্য ধারণ: হিট সাধারণত ৪-৭ দিন স্থায়ী হয়। এই সময়ে বিড়ালকে বেশি যত্ন ও স্নেহ প্রদর্শন করুন। তাকে খেলনা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা করুন।
ঙ. নিরাপদ সঙ্গী: যদি সম্ভব হয়, তবে একটি নিরাপদ পরিবেশে অন্য একটি বিড়ালের সাথে মিলনের ব্যবস্থা করুন, তবে তা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ
ইসলাম প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "একজন মহিলাকে একটি বিড়াল আটকে রেখে খাবার না দেওয়ার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।" (সহিহ বুখারী)
সুতরাং, আপনার বিড়ালের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা এবং তার প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা সওয়াবের কাজ। তবে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত যা ইসলামী নীতি ও প্রাণীর স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সারসংক্ষেপ
১. বিড়ালের লেজের পাশে চাপ দিয়ে প্রশমিত করা জায়েজ নয়। ২. বিড়ালকে নিরাপদ স্থানে রাখুন এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৩. প্রয়োজনে জীবাণুমুক্তকরণের বিষয়ে আলেম ও পশুচিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। ৪. হিটের সময় ধৈর্য ধারণ করুন এবং বিড়ালের প্রতি যত্নশীল হোন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আমিন।