বিড়াল হিটে আসলে করণীয়

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3925
Questioner: Zannatul Nayem
Question Asked: 13 Aug 2026, 09:08 PM
Reviewed & Published: 13 Aug 2026, 09:20 PM
Views: 7
Tokens: 6,089
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমরা ১৫ দিন আগে একটা বিড়ালকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পাই ও তাকে খাবার খাওয়াই। বিড়ালটি আনার ,৬-৭ দিনের মধ্যে বিড়ালটি হিট এ আসে, প্রচুর ডাকাডাকি করে। আমাদের কাছে ছেলে বিড়াল তো নেই। বিড়াল বাসার বাইরে যাওয়ার জন্য অনেক চিলাপল্লা করে। আমরা ওকে ঘুরতেও নিয়ে গেছিলাম, ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দেখি আরও অশান্ত হয়ে গেছে। বিড়ালের একটা ইনজেকশন দেয়ার কথা বলেছিল ডাক্তার যেটা দিলে সে আর প্রেগন্যান্ট হবে না। এই অবস্থায় ইনজেকশন দেয়া কি জায়েজ হবে? ইনজেকশন দেয়া ক্ষতিকর কিনা জানিনা।

(২) বিড়াল হিট এ আসলে অতিরিক্ত ডাকাডাকি করে তখন তার লেজের পেছনে দুইপাশে হালকা করে চাপ দিলে সে শান্ত হয় এটাকে যথাসম্ভব animal masterbation বলে। এটা শরীর বাহিরের অংশে চাপ দিয়ে করা হয়, ভেতরের অংশে না। এটা কি করা জায়েজ হবে?

(৩) এই বিড়াল যেহেতু পোষা বিড়াল ছিল তাই বাড়ির বাইরে চলে গেলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যায় এদের। কারণ এরা একরকম ভাবে জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। একে ছেড়ে দিলেও যেতে চায় না করণীয় কি?

(৪) যেহেতু বিড়াল ৫ তলায় থাকে তাই আমার বাসা থেকে বের করা যায় না। কারণ এতে অন্য ভাড়াটিয়া বিরক্ত হতে পারে এই অবস্থায় বিড়াল হিট এ আসলে তাকে কি ছেড়ে দিতে হবে বাসা থেকে?

Answer

বিড়ালের হিট এ আসা ও করণীয় সম্পর্কে ইসলামি নির্দেশনা

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ দেওয়া হলো:

(১) বিড়ালকে ইনজেকশন দিয়ে প্রেগন্যান্ট হওয়া প্রতিরোধ করা

বিড়ালের হিট (Heat) বা মিলনের সময়কালে তাকে ইনজেকশন দিয়ে প্রেগন্যান্ট হওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়ে ইসলামি বিধান হলো—যদি ইনজেকশনটি বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর না হয় এবং স্থায়ীভাবে তার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট না করে, তবে তা দেওয়া জায়েজ হতে পারে। তবে যদি এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে বা বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে তা জায়েজ হবে না।

ইসলামে প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি একটি চড়ুই পাখি বা তার চেয়ে ছোট কোনো প্রাণীকে হত্যা করল অন্যায়ভাবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।" (নাসাঈ, হাদিস: ৪৩৪৫)

সিদ্ধান্ত: যদি ডাক্তার নিশ্চিত করেন যে ইনজেকশনটি বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং এটি সাময়িকভাবে প্রেগন্যান্ট হওয়া প্রতিরোধ করে (স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব নয়), তবে তা দেওয়া জায়েজ হবে। তবে স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে এমন ইনজেকশন দেওয়া জায়েজ হবে না।


(২) বিড়ালের লেজের পেছনে চাপ দিয়ে শান্ত করা (Animal Masturbation)

বিড়ালের লেজের পেছনে চাপ দিয়ে তাকে শান্ত করার বিষয়টি ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েজ নয়। কারণ এটি প্রাণীর যৌনাঙ্গের সাথে সম্পর্কিত একটি কাজ এবং এটিকে প্রাণীর যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইসলামে প্রাণীর প্রতি দয়া ও সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাণীর যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টি করা বা তাকে যৌনক্রিয়ায় উত্তেজিত করা ইসলামি নৈতিকতার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর আমি তোমাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এই নিরব প্রাণীদের সম্পর্কে।" (আবু দাউদ)

সিদ্ধান্ত: বিড়ালের লেজের পেছনে চাপ দিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা জায়েজ নয়। এটি প্রাণীর প্রতি অশোভন আচরণ। পরিবর্তে বিড়ালকে শান্ত রাখার জন্য অন্যান্য বৈধ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে, যেমন—তাকে নিরিবিলি জায়গায় রাখা, তার খাবারের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।


(৩) পোষা বিড়ালকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে

যেহেতু বিড়ালটি পোষা ছিল এবং বাইরের পরিবেশে বেঁচে থাকা তার জন্য কঠিন, তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। ইসলাম প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশ দেয়। একবার এক মহিলাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল এবং খাবার না দিয়ে মেরে ফেলেছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন:

"একটি বিড়ালের কারণে একজন মহিলাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে এটিকে বেঁধে রেখেছিল এবং খাবার দেয়নি, এমনকি মাটিতে পোকামাকড় খেতে দেয়নি, যতক্ষণ না বিড়ালটি মারা যায়।" (বুখারি: ৩৪৮২, মুসলিম: ২২৪২)

সিদ্ধান্ত: বিড়ালটিকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি তার জন্য ক্ষতিকর হবে। বরং তাকে যথাযথভাবে লালন-পালন করা এবং তার খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা আপনার দায়িত্ব। তবে যদি আপনাদের জন্য পোষা কষ্টকর হয়ে যায় তাহলে অন্য কাউকে পুষতে দিয়ে দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ। অথবা তার জন্য নিরাপদ জায়জায় ছেড়ে দিতে পারেন।


(৪) বিড়াল হিট এ আসলে তাকে বাসা থেকে ছেড়ে দেওয়া

বিড়াল হিট এ আসলে তাকে বাসা থেকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যখন এটি ৫ তলায় থাকে এবং বাইরে গেলে তার বেঁচে থাকা কঠিন। বরং নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. বিড়ালটিকে একটি নিরিবিলি কক্ষে রাখা যাতে অন্য ভাড়াটিয়ারা বিরক্ত না হয়। ২. বিড়ালের ডাকাডাকি কমাতে তাকে ব্যস্ত রাখা, যেমন—খেলনা দেওয়া বা তার সাথে সময় কাটানো। ৩. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বৈধ ও ক্ষতিকর নয় এমন পদ্ধতিতে তার হিট কমাতে সাহায্য করা। ৪. যদি সম্ভব হয়, তাহলে একটি পুরুষ বিড়ালের ব্যবস্থা করা যাতে তার মিলন ঘটানো যায় (যদি আপনি তার প্রজনন চান) অথবা ডাক্তারের পরামর্শে নিরাপদ পদ্ধতি অবলম্বন করা।

ইমাম আল-হিদায়াহ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করা এবং তার কষ্ট দূর করা মুস্তাহাব। তাই বিড়ালটিকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া তার জন্য কষ্টের কারণ হবে, যা ইসলামি নীতির পরিপন্থী। তবে যদি আপনাদের জন্য পোষা কষ্টকর হয়ে যায় তাহলে অন্য কাউকে পুষতে দিয়ে দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ। অথবা তার জন্য নিরাপদ জায়জায় ছেড়ে দিতে পারেন।

সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত

| প্রশ্ন | সিদ্ধান্ত | |--------|-----------| | ইনজেকশন দেওয়া | জায়েজ, যদি ক্ষতিকর না হয় ও স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব না সৃষ্টি করে | | লেজের পেছনে চাপ দেওয়া | জায়েজ নয় | | বিড়াল ছেড়ে দেওয়া | উচিত নয়, দায়িত্ব পালন করতে হবে | | বাসা থেকে বের করা | উচিত নয়, বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে | তবে যদি আপনাদের জন্য পোষা কষ্টকর হয়ে যায় তাহলে অন্য কাউকে পুষতে দিয়ে দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.