অজুর পানি গিলে ফেললে রোজা ভঙ্গ হবে কি? ওয়াদা ভঙ্গের কাফফারার রোজা হায়েজের কারণে ভঙ্গ হলে করণীয় কী?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 3904
Questioner: Tasmia Zaman Khan
Question Asked: 13 Aug 2026, 11:00 AM
Reviewed & Published: 13 Aug 2026, 11:29 AM
Views: 6
Tokens: 3,475
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১. আমি রাতে নফল রোজার নিয়ত করেছিলাম এবং ফজরের নামাজের সময় অজুর পানি কিছুটা মুখে ছিল নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আর ফেলতে পারিনি । পানি আর থুতু প্রায় সমান ছিল এবং নামাজের মাঝে গিলে ফেলি ।
এমতাবস্থায় আমার রোজা হবে কি ?

২. আল্লাহর সাথে ওয়াদা ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে ৩ টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে যদি ১ টা রাখার পরে হায়েজ চলে আসে তাহলে এই তিনটি রোজাই কি আবার রাখতে হবে ?

Answer

রোজা ভেঙে যাবে কি?

প্রশ্ন ১: অজুর পানি গিলে ফেলার কারণে রোজার হুকুম

উত্তর: আপনার বিবরণ অনুযায়ী, আপনি রাতে নফল রোজার নিয়ত করেছিলেন এবং ফজরের নামাজের সময় অজু করার পর কিছু পানি মুখে ছিল। নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় তা ফেলতে পারেননি এবং নামাজের মাঝে তা গিলে ফেলেছেন। পানি ও থুতু প্রায় সমান পরিমাণ ছিল।

এক্ষেত্রে আপনার উক্ত রোযা আদায় হবেনা। নফল রোজা রাখার পর তা ভেঙ্গে ফেলার দরুন পুনরায় সেউ রোজার কাজা আদায় করা আবশ্যক হবে।

প্রশ্ন ২: ওয়াদা ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে ৩টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে হায়েজ চলে এলে

উত্তর: আল্লাহর সাথে ওয়াদা ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে ৩টি রোজা রাখার নিয়ত করলে এবং ১টি রাখার পর হায়েজ শুরু হলে করনীয়ঃ-

এখানে প্রথমেই লক্ষনীয় বিষয় হলো আপনি শুধু ওয়াদা করেছেন মাত্র, কোন কসম করেননি যে কারণে আপনার উপর তিনটি রোজা রাখা আবশ্যক হয়নি। তাই আপনাকে এখন আর কোন রোজাই আদায় করতে হবে না।

★আর যদি আপনি আল্লাহর নামে কোনো কসম করে তাহা ভেঙ্গে ফেলে থাকেন,সেক্ষেত্রে হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর বাকি ২ টি রোযা রাখতে হবে।

হানাফি মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী:

  • যদি কসম ভঙ্গের কাফফারার রোজা রাখার সময় হায়েজ শুরু হয়, তাহলে সেই দিনের রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পরে সেই দিনের ক্বাযা করতে হবে।
  • তবে, ইতিমধ্যে যে ১টি রোজা আপনি রেখেছেন (হায়েজ শুরুর আগে), সেটি সহীহ হয়েছে এবং তা গণনা করা হবে।

ফাতওয়ায়ে আলমগীরীতে-তে উল্লেখ আছে:

"যদি কেউ কাফফারার রোজা রাখার সময় হায়েজ শুরু হয়, তাহলে হায়েজের দিনের রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং সেই দিনের ক্বাযা করতে হবে। পূর্বের সহীহ রোজাগুলো গণনা করা হবে।"

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে:

"হায়েজ অবস্থায় রোজা রাখা জায়েয নয় এবং হায়েজের কারণে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেই দিনের ক্বাযা করতে হবে।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.