থাকবো না আমি তোর সাথে বললে তালাক হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3876
Questioner: ruhani binte
Question Asked: 12 Aug 2026, 07:03 PM
Reviewed & Published: 12 Aug 2026, 07:14 PM
Views: 11
Tokens: 3,500
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম।
আমার স্বামী আমাকে বলেছে উনি আমার সাথে থাকবেনা। অনেকবার বলেছে তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি এসব কি বলেন। উনি বলে কেন স্বামী স্ত্রী কি আলাদা থাকেনা? তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি কি ঐ উদ্দেশ্যে বলেছেন( মানে আমি তালাকের উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করেছি যদি মুখ দিয়ে বলিনি)? উনি বলেছেন হ্যা ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি জানি না উনি বুঝে বলেছেন কিনা। পরে উনাকে আবার জিজ্ঞাসা করলে উনি বলে স্বামী স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছে।তখন আমি বলি আমি তো ঐ বলতে তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করছি। তখন উনি বলে তুমি কোন উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করছো তা জানার দরকার আছে? এখানে কি তালাক হবে?

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনার স্বামী বলেছেন "আমি তোমার সাথে থাকব না" — এই উক্তির মাধ্যমে তালাক পতিত হয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়েছেন।

ফাতওয়া

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার স্বামী বলেছেন: "আমি তোমার সাথে থাকব না" (থাকবো না)। এই উক্তিটি দ্বারা তালাক পতিত হবে না। কারণ এটি স্পষ্ট তালাকের শব্দ নয়, বরং এটি এমন একটি বাক্য যা থেকে তালাকের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. তালাকের শব্দসমূহ

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাকের শব্দ দু প্রকার:

ক. স্পষ্ট শব্দ (صريح): যেমন—"তালাক", "তুমি তালাকপ্রাপ্ত", "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" ইত্যাদি। এসব শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়তের প্রয়োজন নেই।

খ. ইঙ্গিতবোধক শব্দ (كناية): যেমন—"তুমি আমার থেকে আলাদা হয়ে যাও", "আমি তোমার সাথে থাকব না", "তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও" ইত্যাদি। এসব শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য।

২. "আমি তোমার সাথে থাকব না" — এর বিধান

"আমি তোমার সাথে থাকব না" (থাকবো না) বলা একটি ইঙ্গিতবোধক (কিনায়া) শব্দ। এটি দ্বারা তালাক পতিত হবে না, যতক্ষণ না স্বামীর নিয়ত থাকে যে, সে তালাক দিতে চেয়েছে।

৩. আপনার প্রশ্নের উত্তরে স্বামীর জবাব

আপনি যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন "আপনি কি তালাকের উদ্দেশ্যে বলেছেন?", তখন তিনি বলেছিলেন "হ্যাঁ, ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি"। কিন্তু পরে আবার জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন "আমি তো স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার কথা বলেছি"।

এখানে স্বামীর নিয়ত স্পষ্ট নয়। তিনি প্রথমে বলেছেন তালাকের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আবার পরে বলেছেন আলাদা থাকার কথা বলেছেন। যেহেতু তার নিয়ত স্পষ্ট নয় এবং তিনি নিজেই দ্বিধান্বিত, তাই এই অবস্থায় তালাক পতিত হবে না।

৪. গুরুত্বপূর্ণ নীতি

হানাফি ফিকহের নীতি হলো—ইঙ্গিতবোধক শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নিয়ত প্রয়োজন। সন্দেহের ক্ষেত্রে তালাক পতিত হয় না। যেমনটি হেদায়া ও রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ আছে:

"الكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية" "কিনায়া (ইঙ্গিতবোধক) শব্দে নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না।" (আল-হেদায়া, ১/২২৯; রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৯)

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ রয়েছে। তবে আপনার স্বামীর উক্তিটি অত্যন্ত আপত্তিকর এবং ইসলামী দৃষ্টিতে অনুচিত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ ধরনের কথা বলা উচিত নয়।

উপদেশ: আপনারা উভয়ে বসে সমস্যার সমাধান করুন। প্রয়োজনে পরিবারের বড়দের মাধ্যমে মীমাংসা করুন। তালাকের মতো গুরুতর বিষয়ে খেলার মতো কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.