হায়েজ

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3866
Questioner: Champa0395
Question Asked: 12 Aug 2026, 05:09 PM
Reviewed & Published: 12 Aug 2026, 05:37 PM
Views: 36
Tokens: 3,247
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম
আমার পিরিয়ড ডেড চলছে সাভাবিক নিয়ম এ সব সময় ২৫-২৭ দিনের মধ্য পিরিয়ড হয় তো পিরিয়ড এর আগে সবসময় ৪-৫ বা সারা মাস ও দিন হলুদ স্রাব আসে তারপর পোড়ামাটি কালার তখন বুঝি পিরিয়ড হইছে এখন টিসু দিয়ে দেখলাম।একবার হলুদ স্রাব স্পষ্ট মনে হলো আরেক বার পোড়ামাটি কালার।

এখন আমি কি করব আসর এর ওয়াক্ত পড়ব কি নাকি পড়া বাদ দিব। বুঝতে পারতেছি না

Answer

وعلیکم السلام و رحمة الله و برکاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি অনেক মহিলারই হয়ে থাকে। আসুন আমরা কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের আলোকে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করি।

সমস্যার সমাধান:

আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: যেহেতু আপনি এখনও আপনার স্বাভাবিক পিরিয়ডের (২৫-২৭ দিনের মধ্যে) সময়সীমার মধ্যে আছেন এবং স্রাবের রং হলুদ ও পোড়ামাটি (বাদামী) উভয়ই দেখছেন, তাই এটি হায়েজ (মাসিক) হিসেবেই গণ্য হবে। তাই আপনাকে নামাজ পড়া বাদ দিতে হবে এবং পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গোসল করে নামাজ শুরু করতে হবে।

তবে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. হলুদ ও বাদামী স্রাবের বিধান (Hanafi Fiqh):

হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতানুসারে, মাসিকের সময়সীমার (অর্থাৎ যে দিনগুলোতে আপনার পিরিয়ড হওয়ার কথা) মধ্যে যদি হলুদ বা বাদামী (পোড়ামাটি) রঙের স্রাব আসে, তবে তা হায়েজ (মাসিক) হিসেবেই গণ্য হবে। এটি শুধুমাত্র পিরিয়ডের বাইরের দিনগুলোতে (তুহর বা পবিত্র অবস্থায়) এলে তা ইস্তেহাজা (অপবিত্রতা) হিসেবে গণ্য হবে।

দলিল (হাদিস): উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"আমরা পবিত্রতা ও মাসিকের পর হলুদ ও বাদামী রঙের স্রাবকে কোনো গুরুত্ব দিতাম না।" (সহিহ বুখারি: ৩২৬)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হানাফি ফকিহগণ বলেছেন, এই স্রাবকে গুরুত্ব না দেওয়ার অর্থ হলো, পিরিয়ডের নির্ধারিত দিনগুলোর বাইরে এই স্রাবকে হায়েজ হিসেবে গণ্য করা হবে না। কিন্তু পিরিয়ডের দিনগুলোর মধ্যে এলে তা হায়েজ।

রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থ): ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)《রদ্দুল মুহতার》বলেন,

"মাসিকের দিনগুলোতে হলুদ বা বাদামী স্রাব দেখা গেলে তা হায়েজ। আর পবিত্র অবস্থায় (তুহরে) দেখা গেলে তা হায়েজ নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩)


২. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান:

আপনি বলেছেন, আপনার পিরিয়ড সাধারণত ২৫-২৭ দিনের মধ্যে হয়। এখন আপনি সেই সময়সীমার মধ্যে আছেন এবং টিস্যু দিয়ে দেখেছেন যে, হলুদ ও পোড়ামাটি (বাদামী) উভয় রঙের স্রাব আসছে।

  • যেহেতু আপনি আপনার স্বাভাবিক পিরিয়ডের সময়সীমার মধ্যে আছেন, তাই এই স্রাবকে হায়েজ (মাসিক) হিসেবেই গণ্য করা হবে।
  • আপনি এখন নামাজ পড়বেন না। আসরের নামাজও পড়বেন না। পিরিয়ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ, রোজা (যদি রমজান হয়) থেকে বিরত থাকবেন।
  • যখন দেখবেন স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে (সাদা বা স্বচ্ছ স্রাব দেখা যাচ্ছে বা সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে), তখন গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।

৩. ইস্তেহাজা (استحاضة) কাকে বলে?

আপনি যদি পিরিয়ডের স্বাভাবিক সময়সীমার বাইরে (যেমন: ২৭ দিনের পরে) এই স্রাব দেখতে পান, তাহলে সেটি ইস্তেহাজা (রোগজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। তখন আপনাকে নামাজ পড়তে হবে। কিন্তু যেহেতু আপনি এখনও সেই সময়সীমার মধ্যে আছেন, তাই এটি হায়েজ।


৪. কুরআন ও হাদিসের আলোকে মাসিকের নিয়ম:

  • কুরআন: আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তারা আপনাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা একটি অশুচি অবস্থা। সুতরাং তোমরা মাসিক অবস্থায় স্ত্রী থেকে দূরে থাকবে এবং মাসিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে যাবে না।" (সূরা বাকারা: ২২২)
  • হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তায়ালা আদম কন্যাদের উপর লিখে দিয়েছেন।" (সহিহ বুখারি: ৩০৪)

৫. আপনার করণীয় (সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা):

  1. নামাজ: যেহেতু আপনি পিরিয়ডের সময়সীমার মধ্যে আছেন এবং হলুদ/বাদামী স্রাব দেখছেন, তাই আপনার নামাজ পড়া জায়েজ নেই। আসরের নামাজও পড়বেন না।
  2. পিরিয়ড শেষ হওয়ার শর্ত: যখন দেখবেন স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ (সাদা স্রাব বা শুকনো), তখন গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
  3. মনে রাখবেন: পিরিয়ডের দিনগুলোতে হলুদ বা বাদামী স্রাব দেখা স্বাভাবিক। এতে আপনি পবিত্র হবেন না, যতক্ষণ না স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়।

৬. গুরুত্বপূর্ণ নোট (যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়):

যদি আপনার পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি চলে যায় (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ দিন), তাহলে সেটি ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে। তখন আপনাকে নামাজ পড়তে হবে। কিন্তু যেহেতু আপনি এখনও সেই অবস্থায় নেই, তাই এখনকার জন্য উপরের নিয়মই প্রযোজ্য।


আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীন বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.