গহনা বিক্রয় করে কুরবানী করা বিষয়ক প্রশ্ন

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 382
Questioner: MD Enamul Haque
Question Asked: 19 May 2026, 10:23 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 10:33 PM
Views: 55
Tokens: 0
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার তিন/চার ভরি মতো স্বর্ণের গহণা আছে। পাশাপাশি অল্প কিছু রূপা আছে (ছোট বেলার রূপার চুড়ি, যা বর্তমানে ছোট হওয়ার কারণে ব্যাবহারের অনুপযোগী)। সব মিলিয়ে আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব। আমার নগদ কোনো টাকা নেই। শুধু মাত্র nagad একাউন্টে ০.৩০ ডিজিটাল টাকা আছে, যা এক টাকারও কম এবং পয়েন্ট আকারে থাকায় এর কোনো ভ্যালু নেই। আমার স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। উনি আমার কুরবানীর জন্য আর্থিক সহোযোগিতা দিতে চাইলে উনার জন্য প্রেশার হয়ে যায় হয়তো। আমি উনার উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি না। আমি আমার স্বর্ণের গহনা বিক্রয় করে কুরবানি দিতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্বামী এটা পছন্দ করেছেন না,হতে পারে উনি বর্তমান থাকতে উনার টাকা না থাকায় আমি গহনা বিক্রয় করছি এটার জন্য উনি হীনমন্যতায় ভুগছেন। তবে তিনি সরাসরি নিষেধ করছেন না। তবে আমি বুঝতে পারছিলাম তিনি মনোকষ্টে ভুগছেন, ওয়াল্লাহু আ'লাম। তো আমার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছলা আমার রূপার চুড়ি জোড়া বিক্রয় করে উক্ত বিক্রয় মূল্য কোনো কাজে খরচ করে ফেলব। তাহলে আর আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবেনা। এই সিদ্ধান্তে তিনিও খুশি আর আমার স্বামী বলেছেন পরের বার থেকে প্রতি মাসে টাকা জমিয়ে জমিয়ে কুরবানী দেওয়ার ব্যাবস্থা করবেন। পরের বছর থেকে আর এসব কৌশল অবলম্বন করতে হবে না ইন শা আল্লাহ। কিন্তু আমার কেমন যেন মন টা খচ খচ করছে। মনে হচ্ছে কাজটি বনি ইজরাইলের নিষিদ্ধ দিনে কৌশল করে মাছ ধরার মতো হয়ে যাচ্ছে। আমার পরিস্থিতিতে আসলে কী করনীয় আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা। আমাকে অনুগ্রহ করে পরামর্শ দিন।

Answer

ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার কথাগুলো খুব আন্তরিকতা ও তাকওয়ার পরিচয় বহন করছে। বিশেষ করে আপনি স্বামীর মানসিক অবস্থাও বিবেচনা করছেন, আবার আল্লাহর হুকুম নিয়েও ভয় করছেন—এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রথমে মূল বিষয়টি পরিষ্কার করি: কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য সাধারণভাবে ঈদের দিনগুলোতে (১০–১২ যিলহজ্জ) একজন মুসলিমের নিকট নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা শর্ত। নারীর নিজের স্বর্ণ-রূপাও এতে হিসাব হয়। তাই আপনার স্বর্ণ ও রূপা মিলিয়ে যদি নেসাব পূর্ণ হয়, তাহলে মূলত আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে: • কুরবানী এমন ইবাদত নয় যার জন্য মানুষকে কষ্টে পড়ে যেতে হবে বা পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করতে হবে। • আপনার নিজের কোনো নগদ অর্থ নেই। • স্বামীকে চাপ দিতে চাইছেন না। • স্বামীর মনোকষ্টের বিষয়ও আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। • আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর হুকুমকে তুচ্ছ করছেন না; বরং দ্বিধা ও দুশ্চিন্তায় আছেন। এখন আপনার “রূপার চুড়ি বিক্রি করে টাকা খরচ করে দেওয়া” প্রসঙ্গে: এটা যদি শুধু “কুরবানী থেকে বাঁচার কৌশল” হিসেবে করা হয়, তাহলে অন্তরে খচখচ করা স্বাভাবিক। কারণ ইবাদত এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম ব্যবস্থা নেওয়া মুত্তাকীদের মানসিকতার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ লাগে না। এজন্যই আপনার বনি ইসরাইলের ঘটনার কথা মনে হয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, শরীয়তে মানুষ নিজের সম্পদ বিক্রি করতে পারে, ব্যবহার করতে পারে। আপনি গুনাহ করার নিয়তে করছেন না। তাই বিষয়টাকে সরাসরি সেই ঘটনার মতো বলা ঠিক হবে না। আমার কাছে আপনার পরিস্থিতিতে কয়েকটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ বেশি সুন্দর মনে হয়: ১. যদি সম্ভব হয়, স্বামীর সাথে শান্তভাবে আবার কথা বলুন— “আমি তোমাকে চাপ দিতে চাই না। কিন্তু আমি চাই আল্লাহর হুকুমও আদায় হোক। আমরা কি ছোট পরিসরে, অংশে শরিক হয়ে, বা সহজ কোনো উপায়ে করতে পারি?” ২. আপনার স্বামী যেহেতু ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করছেন—এটাও ভালো লক্ষণ। ইন শা আল্লাহ সামনে সুন্দরভাবে আদায় করতে পারবেন। ৩. আপনি চাইলে গহনা বিক্রি না করেও, আল্লাহর কাছে আন্তরিক নিয়ত রাখতে পারেন: “হে আল্লাহ, সামর্থ্য ও পরিস্থিতি সহজ হলে আমি আনন্দের সাথে কুরবানী আদায় করব।” সুতরাং এবার অল্প কিছু টাকা (সুদমুক্ত) ঋণ করে হলেও ছোট পরিসরে, অংশে শরিক হতে পারেন ইনশাআল্লাহ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: আপনি যে দ্বিধায় আছেন, এটাই ঈমানি সংবেদনশীলতার আলামত। যে মানুষ আল্লাহকে ভয়ই করে না, সে এভাবে চিন্তিত হয় না। আল্লাহ আপনাদের দাম্পত্যে বরকত দিন, রিজিক প্রশস্ত করুন এবং আপনাদেরকে স্বস্তির সাথে ইবাদত করার তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.