পূবালী ব্যাংকের ইসলামী শাখায় অফিসার পদে চাকরি করা কি জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3797
Questioner: Jyoti Rahman
Question Asked: 11 Aug 2026, 06:26 AM
Reviewed & Published: 11 Aug 2026, 06:43 AM
Views: 9
Tokens: 2,552
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আ'লাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ
পূবালী ব্যাংকের ইসলামী শাখায় অফিসার পদে চাকরি করা কি জায়েজ?

Answer

وعلیکم السلام ورحمة الله وبركاته

পূবালী ব্যাংকের ইসলামী শাখায় অফিসার পদে চাকরি করা জায়েজ কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সেই শাখার কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে কি না, তার উপর।

সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামী শাখায় চাকরি করা জায়েজ, যদি তা সম্পূর্ণরূপে শরীয়াহ সম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে "ইসলামী ব্যাংক" বা "ইসলামী শাখা" নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিছু লেনদেন শরীয়াহ সম্মত নাও হতে পারে।

হানাফি ফিকহের দলিল ও নীতিমালা:

১. মৌলিক নীতি: ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক, এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা জায়েজ যেখানে সব লেনদেন হালাল। কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন সুদ (রিবা) বা অন্য কোনো হারাম কাজের সাথে জড়িত থাকে, তবে সেখানে চাকরি করা জায়েজ হবে না। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী ও সুদের দলিল লেখককে অভিশাপ দিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৯৮)

২. ইমাম আযম আবু হানীফা (রহ.)-এর নীতি: ইমাম আবু হানীফা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি এমন কাজে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন যা হারামের সাথে জড়িত। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রমই সুদভিত্তিক হয়, তবে সেখানে কোনো পদে (চাকরি, সহায়তা, লেখা, সাক্ষী) থাকা জায়েজ নয়।

৩. ইবনে আবিদীন (রহ.)-এর বক্তব্য: রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, "যে ব্যক্তি সুদভিত্তিক লেনদেনের দলিল লেখে বা সাক্ষী থাকে, সে সুদের কাজে সহায়তা করল।" (রদ্দুল মুহতার, ৫/১৭৫) সুতরাং, যে ব্যাংকের মূল কার্যক্রম সুদভিত্তিক, সেখানে অফিসার হিসেবে কাজ করা মানে সেই ব্যবস্থার একটি অংশ হয়ে যাওয়া।

পূবালী ব্যাংকের ইসলামী শাখার বাস্তবতা:

পূবালী ব্যাংক একটি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংক। এর একটি ইসলামী শাখা রয়েছে। এই শাখার কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার:

  • যদি শাখাটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামী ব্যাংকিং নীতিতে (মুদারাবা, মুশারাকা, বাই-মুরাবাহা, ইজারা ইত্যাদি) পরিচালিত হয় এবং কোনো প্রকার সুদি লেনদেন না হয়, তবে সেখানে চাকরি করা জায়েজ।
  • কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক "ইসলামী শাখা" নামধারী শাখায় মূল ব্যাংকের সাথে অর্থের লেনদেন সুদভিত্তিক হয়ে থাকে। যেমন: ইসলামী শাখা মূল ব্যাংক থেকে সুদে টাকা নেয় বা জমা রাখে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী শাখার তহবিল মূল ব্যাংকের সাথে মিশে যায়।

সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ:

১. সরাসরি জবাব: পূবালী ব্যাংকের ইসলামী শাখায় অফিসার পদে চাকরি করা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। শর্ত হলো, সেই শাখার সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে শরীয়াহ সম্মত হতে হবে এবং কোনো প্রকার সুদি লেনদেন (যদিও পরোক্ষভাবে) সেখানে না থাকতে হবে।

২. বাস্তব পরীক্ষা: আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সেই ইসলামী শাখা মূল ব্যাংকের সাথে কোনো সুদি লেনদেন করে না। ইসলামী শাখার তহবিল সম্পূর্ণ আলাদা কিনা, তাদের লেনদেন সম্পূর্ণরূপে শরীয়াহ সম্মত কিনা—এসব বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে।

৩. সতর্কতা: যেহেতু পূবালী ব্যাংক একটি প্রচলিত ব্যাংক, এবং ইসলামী শাখা মূল ব্যাংকের অধীনেই পরিচালিত হয়, তাই সেখানে সুদি লেনদেনের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। যদি কোনো প্রকার সুদি লেনদেনের সাথে জড়িত থাকতে হয়, তাহলে সেখানে চাকরি করা জায়েজ হবে না

৪. উত্তম পন্থা: আপনি যদি নিশ্চিত হতে পারেন যে, এই শাখার সব লেনদেন শরীয়াহ সম্মত এবং আপনাকে কোনো হারাম কাজে সহায়তা করতে হবে না, তাহলে চাকরি করা জায়েজ। কিন্তু যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। কেননা, সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে দূরে থাকা ইসলামের নির্দেশ।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.