রাসুলের বিড়ালের নাম জানা প্রসঙ্গে
Family Life · Hanafi
Question
২.বাসায় মেহমান আসলে তাদের ব্যাবহৃত খাবার বা জিনিস দিয়ে দুয়ে গোসল করা হয় বা খাবার খাওয়া হয় তাহলে কি বদনজর নষ্ট হয়? নাকি তাদের অজু করা পানি লাগবে?
Answer
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিড়ালের নাম ও মেহমানের ব্যবহৃত জিনিসের বদনজর সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১: রাসূল (ﷺ)-এর বিড়ালের নাম কী ছিল?
উত্তর:
সহিহ হাদিস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোনো বিড়ালের নাম প্রমাণিত নেই। ইসলামী ইতিহাসের কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, রাসূল (ﷺ)-এর একজন সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.)-এর একটি বিড়াল ছিল, যার কারণে তাঁর নাম "আবু হুরায়রা" (বিড়ালের পিতা) রাখা হয়। তবে এটি রাসূল (ﷺ)-এর বিড়াল ছিল না।
কিছু বর্ণনায় "মুয়াযযা" বা "যাহরাওয়ান" নামে একটি বিড়ালের কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু এগুলো সহিহ সনদ দ্বারা প্রমাণিত নয়।
প্রশ্ন ২: মেহমানের ব্যবহৃত খাবার বা জিনিস দিয়ে গোসল করলে বা খেলে কি বদনজর নষ্ট হয়?
উত্তর:
এই প্রশ্নটি মূলত "বদনজর" (evil eye) সংক্রান্ত একটি কুসংস্কারমূলক ধারণা সম্পর্কে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে:
১. বদনজরের ধারণা: ইসলামে বদনজর (নজর-ই-বাদ) সত্য বলে স্বীকৃত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন: "নজর সত্য" (সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)। তবে বদনজর থেকে বাঁচার উপায় হলো:
- আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া
- দোয়া করা
- কুরআন ও সুন্নাহর আমল করা
২. মেহমানের ব্যবহৃত জিনিস দিয়ে গোসল বা খাওয়ার ধারণা: মেহমানের ব্যবহৃত খাবার বা জিনিস দিয়ে গোসল করলে বা খেলে বদনজর নষ্ট হয়—এমন কোনো ধারণা ইসলামী শিক্ষা দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটি একটি কুসংস্কার এবং বিদআত।
৩. অজুর পানি ব্যবহার: মেহমানের অজুর পানি দিয়ে গোসল করলে বদনজর দূর হয়—এমন বিশ্বাসও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। =
৪. ইসলামী নির্দেশনা: ইসলামে বদনজর থেকে বাঁচার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত:
- "মা শা আল্লাহ" বলা
- আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়া
- রাসূল (ﷺ)-এর শেখানো দোয়া পড়া
৫. কুসংস্কার থেকে সতর্কতা: মেহমানের ব্যবহৃত জিনিস দিয়ে গোসল করা বা খাবার খেলে বদনজর নষ্ট হয়—এমন বিশ্বাস রাখা এবং তা পালন করা ইসলামে নিষিদ্ধ কুসংস্কার। রাসূল (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুসংস্কার বিশ্বাস করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়" (আবু দাউদ)।
ফতোয়া:
মেহমানের ব্যবহৃত খাবার বা জিনিস দিয়ে গোসল করলে বা খেলে বদনজর নষ্ট হয়—এমন ধারণা ইসলামী শিক্ষা দ্বারা সমর্থিত নয়। এটি একটি কুসংস্কার। বদনজর থেকে বাঁচতে হলে ইসলামী নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করুন—দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর উপর ভরসা। মেহমানের অজুর পানি দিয়ে গোসল করারও প্রয়োজন নেই।
সূত্র:
- সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম (বদনজর সংক্রান্ত)
- ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
- বেহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী)