দুধ পান করিয়ে জা সন্তানকে মাহরাম বানানো কি যাবে?
Family Life · Hanafi
Question
Answer
দুধ মা হওয়ার প্রসঙ্গে
প্রশ্নের উত্তর:
ইসলামী শরীয়তে দুধ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মাহরাম হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃত এভাবে মাহরাম বানানোর নিয়তে দুধ পান করানো মাকরুহ। বিশেষ এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে যা পালন করা আবশ্যক:
দুধ সম্পর্কের শর্তসমূহ:
১. বয়সের শর্ত: দুধ পান করাতে হবে শিশুর বয়স দুই বছর (২৪ মাস) হওয়ার আগে। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, ৩০ মাসের মধ্যে দুধ পান করালে দুধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দুই বছরের মধ্যে পান করানোই অধিকতর নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য। (সূরা বাকারা: ২৩৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২০৮)
২. পরিমাণের শর্ত: দুধ পান করাতে হবে কমপক্ষে পাঁচবার পূর্ণ পেট ভরে। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, তিনবার পূর্ণ পেট ভরে দুধ পান করালেও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে পাঁচবার পান করানোই সর্বসম্মত ও নিরাপদ। (সহীহ মুসলিম: ১৪৫২; রদ্দুল মুহতার ৩/২০৮)
৩. পদ্ধতির শর্ত: শিশুকে সরাসরি স্তন থেকে দুধ পান করাতে হবে। বোতল বা চামচ দিয়ে দুধ পান করালে দুধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৩)
আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে:
আপনি যদি আপনার জা-এর সন্তানদের (যারা দুই বছরের কম বয়সী) সরাসরি স্তন থেকে পাঁচবার পূর্ণ পেট ভরে দুধ পান করান, তাহলে তারা আপনার দুধ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের সাথে আপনার পর্দার সম্পর্ক থাকবে না—তারা আপনার মাহরাম হয়ে যাবে। ফলে একই বাসায় পর্দার বিষয়টি সহজ হবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
- দুধ পান করানোর সময় অবশ্যই নিয়ত থাকতে হবে যে, আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং বৈধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য দুধ পান করাচ্ছেন।
- দুধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই শিশুরা আপনার সন্তানের মতোই হবে—তাদের সাথে বিবাহ হারাম হবে, তাদের সামনে পর্দা করতে হবে না।
- তবে শুধুমাত্র পর্দার সুবিধার জন্য নয়, বরং সত্যিকার অর্থেই শিশুদের কল্যাণের জন্য এই কাজটি করা উচিত।
উল্লেখ্য:
আপনার জা-এর সন্তানদের দুধ পান করানোর মাধ্যমে আপনি তাদের মাহরাম বানাতে পারবেন, তবে আপনার জা নিজে আপনার মাহরাম হবেন না। জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) শরীয়তে আপনার গায়রে মাহরাম। দুধ সম্পর্কের মাধ্যমে শুধুমাত্র সেই শিশুরা আপনার মাহরাম হবে, জা নয়।
রদ্দুল মুহতার (৩/২০৮) এ উল্লেখ আছে: "দুধ সম্পর্ক দ্বারা সেই ব্যক্তিই মাহরাম হয় যে দুধ পান করে এবং তার বংশধররা।"
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন।