উমরাহ

Hajj and Umrah · Hanafi

Question No: 3581
Questioner: উম্মে ফাতিমা
Question Asked: 06 Aug 2026, 11:45 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 12:13 AM
Views: 36
Tokens: 2,541
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার আম্মু আব্বু উমরাহ করতে যাবে। এখন তারা এবারই প্রথম যাচ্ছে এখন আম্মু চাচ্ছিল যে আসার সময় বোনেদের জন্য কিছু স্বর্ণ আনতে। যেহেতু বারবার যাচ্ছে না। কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য উমরাহ করতে যাওয়া। এখন স্বর্ণ যদি আনে তাহলে কি উমরাহ কবুল হবে না?

Answer

উমরাহস্বর্ণ আনার বিধান

প্রশ্নের উত্তর:

আপনার আম্মু-আব্বু উমরাহ করতে যাচ্ছেন এবং সফর শেষে ফেরার সময় বোনেদের জন্য স্বর্ণ আনার ইচ্ছা রয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য উমরাহ করা। এতে উমরাহ কবুল হবে কি না—এ নিয়ে আপনার উদ্বেগ।

উত্তর:

উমরাহ সহীহ বা শুদ্ধ হবে এবং ইনশাআল্লাহ কবুলও হবে। স্বর্ণ আনার কারণে উমরাহ বাতিল হবে না বা অসম্পূর্ণ হবে না। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

১. মূল উদ্দেশ্য সঠিক থাকা:

যেহেতু তাদের মূল উদ্দেশ্য উমরাহ করা, তাই এটি ইবাদতের নিয়তে সম্পন্ন হবে। স্বর্ণ আনা একটি পার্থিব প্রয়োজন, যা ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। ইসলামে ইবাদতের সাথে পার্থিব কাজের সমন্বয় করা নিষিদ্ধ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত মূল নিয়ত ইবাদতের হয়।

২. শর্তসমূহ:

  • সীমা অতিক্রম না করা: বৈধ উপায়ে এবং দেশের আইন মেনে স্বর্ণ আনা জায়েজ। তবে চোরাচালান বা অবৈধ পথে আনা হারাম হবে।
  • শুল্ক পরিশোধ: দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শুল্ক/কর পরিশোধ করে আনা জরুরি।
  • পরিমাণ: সাধারণ ব্যবহারের জন্য স্বর্ণ আনা জায়েজ। তবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে হলে নিয়ম ভিন্ন।

৩. ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর নীতি:

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, ইবাদতের সাথে বৈধ পার্থিব কাজের সমন্বয় করলে ইবাদত সহীহ হয়, যদি মূল নিয়ত ইবাদতের হয়। যেমন: হজের সফরে ব্যবসা করা জায়েজ, তবে মূল নিয়ত হজ হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমাদের রবের অনুগ্রহ (ব্যবসা-বাণিজ্য) অন্বেষণ করা তোমাদের জন্য গুনাহ নয়।" (সূরা আল-বাকারা: ১৯৮)

৪. হাদীসের আলোকে:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী: ১)

যেহেতু তাদের নিয়ত উমরাহ করা, তাই উমরাহ সহীহ হবে।

৫. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

  • স্বর্ণ আনার সময় যেন কোনো হারাম কাজ না হয় (যেমন: ঘুষ দেওয়া, মিথ্যা বলা, চোরাচালান)।
  • উমরার পবিত্রতা ও আদব বজায় রাখা—ইহরাম অবস্থায় স্বর্ণ কেনাবেচা বা ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে বিরত থাকা। তবে ইহরাম অবস্থায় প্রয়োজনীয় কেনাকাটা জায়েজ।

ফতোয়া:

ফতোয়ায়ে উসমানী এবং ইমদাদুল ফতোয়া-তে উল্লেখ আছে যে, হজ বা উমরার সফরে বৈধ পার্থিব কাজ করলে ইবাদত সহীহ হয়, তবে মূল নিয়ত ইবাদতের হতে হবে। (ফতোয়ায়ে উসমানী, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৪৫)

উপসংহার:

আপনার আম্মু-আব্বু স্বর্ণ আনলে তাদের উমরাহ সহীহ হবে এবং ইনশাআল্লাহ কবুল হবে। তবে তাদের উচিত: ১. বৈধ উপায়ে স্বর্ণ আনা ২. শুল্ক পরিশোধ করা ৩. উমরার ইবাদতকে প্রাধান্য দেওয়া ৪. স্বর্ণ আনার সময় কোনো হারাম কাজ না করা

আল্লাহ তাআলা তাদের উমরাহ কবুল করুন এবং তাদের সফরকে বরকতময় করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.