কুফরি বা জাদুর মাধ্যমে বিয়ে করানো হয়েছে কি না বোঝার উপায় এবং করণীয় সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3514
Questioner: Maria0045
Question Asked: 05 Aug 2026, 09:18 AM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 10:09 AM
Views: 6
Tokens: 3,379
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বিয়ে হয়েছে ১তারিখ শনিবার। পাত্রপক্ষকে আমরা রিজেক্ট করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কিভাবে যেন ১দিনের মধ্যে দেখতে এসেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের আগে বারবার আমার মনে হচ্ছিল আমি মারা যাবো কি না। বিয়ের পর স্বামীকে আমার একদম ভালো লাগছে না।
নামাজ, কুরআন কোনোকিছুই ভালো লাগে না।

আমার সন্দেহ হচ্ছে আমাকে কুফরির মাধ্যমে বিয়েতে রাজি করানো হয়েছে কি না। এটা বোঝার কি কোনো উপায় আছে?
কুফরি করলেও এখন করনীয় কি?

Answer

উত্তর:
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বর্তমান অবস্থা ও মানসিক অস্থিরতা বোঝা যাচ্ছে। ইসলামে কুফরি বা জাদু-টোনার মাধ্যমে কাউকে বাধ্য করা বা প্রভাবিত করার বিষয়টি স্বীকৃত, তবে এর প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হলো:


১. কুফরি বা জাদুর মাধ্যমে বিয়ে করানো হয়েছে কি না বোঝার উপায়:

  • ইসলামী দৃষ্টিকোণ: কুফরি বা জাদু (সিহর) বাস্তব, তবে এর প্রভাব সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। কুরআনে বলা হয়েছে:

    "আর তারা যা শিখত তা তাদের ক্ষতি করত, উপকার করত না।" (সূরা বাকারা: ১০২)
    অর্থাৎ জাদু ক্ষতি করতে পারে, তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নয়।

  • বোঝার উপায়:

    • মানসিক অবস্থা: বিয়ের আগে আপনার বারবার মৃত্যুর ভয় এবং বর্তমানে স্বামী, নামাজ, কুরআন—সবকিছু থেকে বিমুখতা জাদু বা কুফরির লক্ষণ হতে পারে। তবে এটি সাধারণ মানসিক চাপ বা হতাশার কারণেও হতে পারে।
    • পরামর্শ: কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা ইসলামী মনোবিজ্ঞানীর কাছে যান। তারা আপনার অবস্থা বিশ্লেষণ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দেবেন।
    • রুকইয়াহ (দুআ-দরুদ): নিজে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সূরা ফালাক ও নাস পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।

২. কুফরি করলে এখন করণীয়:

  • তওবা ও ইস্তিগফার: যদি কোনো কারণে কুফরি বা শিরকের কাজ হয়ে থাকে, তবে তা থেকে ফিরে এসে আন্তরিকভাবে তওবা করুন। আল্লাহ বলেন:

    "নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও।" (সূরা বাকারা: ২২২)

  • নামাজ ও কুরআন চর্চা: নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতকে ভালো না লাগলেও বাধ্য হয়ে হলেও শুরু করুন। ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমতে ভালো লাগবে।

  • স্বামীর সাথে সম্পর্ক: স্বামীকে ভালো না লাগলেও ইসলামী আদর্শে ধৈর্য ধরুন এবং সম্পর্ক উন্নত করতে চেষ্টা করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

    "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।" (তিরমিজি: ১১৬২)


৩. বিয়ে বৈধ কি না:

  • আপনার বিয়ে যদি শরিয়তসম্মতভাবে (উপস্থিত সাক্ষী, মেহর, ইজাব-কবুল) হয়ে থাকে, তবে তা বৈধ। কুফরি বা জাদুর মাধ্যমে বাধ্য করা হলে বিয়ে অবৈধ হতে পারে, তবে সেটি প্রমাণ করা কঠিন।
  • পরামর্শ: আপনি যদি মনে করেন বিয়েটি জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে হয়েছে, তবে স্থানীয় ইসলামী আদালত বা মুফতির কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করুন।

৪. আত্মরক্ষার দোয়া:

  • প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং দরুদ শরিফ পড়ুন।
  • দোয়া:

    "বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামা ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।"
    (অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।)


সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. কুফরি বা জাদু হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিশ্বস্ত আলেমের শরণাপন্ন হোন এবং রুকইয়াহ করুন।
২. কুফরি করলে তওবা করুন এবং নামাজ-কুরআন চর্চা শুরু করুন।
৩. বিয়ে বৈধ হলে ধৈর্য ধরে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করুন।
৪. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং বেশি বেশি দোয়া করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার অবস্থা সহজ করুন এবং আপনাকে ধৈর্য দান করুন। (আমিন)

রেফারেন্স:

  • সূরা বাকারা: ১০২, ২২২
  • তিরমিজি: ১১৬২
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৫
  • রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৮০

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.