চাকরি না থাকলে আমার কি এখন বিয়ে করা উচিত?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3485
Questioner: Md. Abu Rayhan
Question Asked: 04 Aug 2026, 01:17 PM
Reviewed & Published: 04 Aug 2026, 01:46 PM
Views: 12
Tokens: 3,881
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ২১ বছর,আমি অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হইছি।আমার মনে হয় আমার এখন বিয়ে করা উচিত,বিয়ে না করলে আমার জন্য হারাম থেকে বাচা কঠিন হয়ে যাবে।কিন্তু আমি ত স্টুডেন্ট, আমার ইনকাম নাই।বাবা মা চায় আমি ৫-৬ বছর পরে বিয়ে করি।তারা চায় অনেক টাকা খরচ করে ধুমধাম করে আমার বিয়ে দিবে।এই অবস্থায় ত বিয়ের কথা বাড়িতে বলতেও পারব না,এখন আমার কি করা উচিত।এই সমাজে ত বিয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে,কেউ ছাত্র এর কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না,সবাই চাকরি খুজে।আবার চাকরি পর্যন্ত গেলে হয়ত আমার অনেক গুনাহ হয়ে যাবে।আমাকে একটা পরামর্শ দেন দয়া করে

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার উদ্বেগ ও দ্বিধা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। আসুন আমরা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি।

১. বিয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ইসলামে বিবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"হে যুবকদের দল! তোমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান, তারা যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।" (সহীহ বুখারী: ৫০৬৫, সহীহ মুসলিম: ১৪০০)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, যদি কেউ হারামে পতিত হওয়ার আশঙ্কা করে, তাহলে তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

২. আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি

আপনি উদ্বিগ্ন যে আপনার আয় নেই। কিন্তু মনে রাখবেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

"আর তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে রিজিক দিই।" (সূরা আল-আনআম: ১৫১)

তবে এর অর্থ এই নয় যে, দায়িত্বহীনভাবে বিবাহ করা উচিত। বরং ইসলাম সহজ ও সাদাসিধে বিবাহকে উৎসাহিত করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"সর্বোত্তম বিবাহ হলো যেটি সহজ হয়।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১১৭)

৩. পিতামাতার সাথে আলোচনা

আপনার পিতামাতা চান ৫-৬ বছর পর বড় আয়োজনে আপনার বিবাহ দিতে। কিন্তু আপনি মনে করেন এখনই বিবাহ প্রয়োজন। এই অবস্থায় আপনার করণীয়:

ক) পিতামাতার সাথে খোলামেলা ও সম্মানের সাথে আলোচনা করুন। তাদেরকে আপনার ইসলামী দায়িত্ব ও হারাম থেকে বাঁচার প্রয়োজনীয়তা বোঝান।

খ) তাদেরকে বোঝান যে, ইসলামে ধুমধাম করে ব্যয়বহুল বিবাহের কোনো নির্দেশ নেই। বরং সহজ ও সাদাসিধে বিবাহই উত্তম।

গ) আপনি যদি সত্যিই হারামে পতিত হওয়ার আশঙ্কা করেন, তাহলে এটি পিতামাতাকে জানানো আপনার কর্তব্য। কারণ ইসলামে পিতামাতার আনুগত্য ফরজ, কিন্তু আল্লাহর নাফরমানিতে পিতামাতার আনুগত্য জায়েজ নেই।

৪. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: "যদি কেউ বিবাহ না করার কারণে হারামে পতিত হওয়ার আশঙ্কা করে, তাহলে তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব, যদিও তার কাছে মোহরানার সামর্থ্য না থাকে। কারণ বিবাহের মাধ্যমে ইফফাত (পবিত্রতা) রক্ষা পায়, আর এটি আর্থিক সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত নয়।" (বাদায়েউস সানায়ে, ২/২২৮)

৫. ব্যবহারিক পরামর্শ

১. পিতামাতার সাথে বসুন: তাদের সাথে সম্মানের সাথে কথা বলুন। তাদেরকে আপনার অবস্থা বোঝান। বলুন, "আব্বা-আম্মা, আমি জানি আপনারা আমার ভালো চান। কিন্তু আমি হারাম থেকে বাঁচতে চাই। দয়া করে আমার বিবাহের ব্যবস্থা করুন। আমি চাই না বড় আয়োজন হোক, সহজভাবে হলেই হবে।"

২. সহজ বিবাহের প্রস্তাব দিন: আপনি নিজে প্রস্তাব দিন যে, সহজ ও সাদাসিধে বিবাহ হলে আপনার জন্য যথেষ্ট। এতে খরচও কম হবে।

৩. আল্লাহর উপর ভরসা করুন: মনে রাখবেন, আল্লাহ বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।" (সূরা আন-নূর: ৩২)

৪. পড়াশোনা চালিয়ে যান: বিবাহের পরও আপনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। স্ত্রীকে জানিয়ে রাখুন যে, আপনি শিক্ষার্থী এবং পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করবেন।

৬. গুরুত্বপূর্ণ নসীহত

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)在其著名的著作《রাদ্দুল মুহতার》中提到:

"যদি কেউ হারামে পতিত হওয়ার আশঙ্কা করে এবং বিবাহের মাধ্যমে তা থেকে বাঁচতে পারে, তাহলে তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব, যদিও তার কাছে সম্পদ না থাকে। কারণ ইফফাত রক্ষা করা আবশ্যক, আর তা বিবাহ ছাড়া সম্ভব নয়।" (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৫)

৭. চূড়ান্ত পরামর্শ

১. সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং ইস্তিখারা করুন।

২. পিতামাতার সাথে সম্মানের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদেরকে বোঝান। সম্ভবত তারা আপনার ইসলামী দায়িত্ব বুঝতে পারবেন।

৩. সহজ বিবাহের প্রস্তাব দিন যাতে খরচ কম হয়।

৪. যদি পিতামাতা একান্তই রাজি না হন, তাহলে আপনি এলাকার কোনো আলেম বা মসজিদের ইমামের মাধ্যমে পিতামাতাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

৫. ইতিমধ্যে নিজেকে সংযত রাখুন। রোজা রাখুন, কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ রোজা তার জন্য ঢাল স্বরূপ।" (সহীহ বুখারী: ১৯০৫)

আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য সহজ করুন এবং আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.