তালাকে তাফবীজের অধিকার না থাকা অবস্থায় স্ত্রী কর্তৃক "অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার" ঘোষণা এবং স্বামীর "স্ট্রাইক করে দেওয়ার" উক্তির ফিকহি বিশ্লেষণ।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3484
Questioner: Tithi Akter
Question Asked: 04 Aug 2026, 01:13 PM
Reviewed & Published: 04 Aug 2026, 01:50 PM
Views: 10
Tokens: 4,182
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Shami stri biyer ijab kobol er aga kabinnama te sign korechen jeitar 18 no colum ti khali chilo tar mane biyer somoy stri talak e tafweez err odhikar ti pay nai...... ekhon ekdin stri kabinnama ti te dekhlo kiso shortosapekhkhe shami odhikarti strike diye rakhse kinto aita kaji saheb poron korse orthat stri odhikarti pay naiii... ekhon stri ekdin kabinnama ti dekhe vabse shortosapekhkhe jei odhikarti ache sheita stri borjon korte chay tai she shamike bole kabinnama te 18 no colum er odhikarti Ami chirotore borjon korlam tarpor stri bole shamike bole tmi shodhoiii aita bolo j Ami odhikarti firiye nilam....orthat shami jeno strir kach theke odhikarti niye nayyy....shami kothata bojhe nai r shami Jane o na talak e tafweez ki r stri ki boltese...shami bole Ami odhikarti strike firiye dilam... mane she naki strike odhikarti diloo....ottore stri bolse yes.... Tarpor pordin stri shamike jiggasha kore tmi ki odhikarti amake shortosoho firai disila naki shami bolse hm shorto soho.... ekhon amr main proshno hoitese strir kache to kono odhikar chilo na tahole she shamike ki odhikarti j firiye dilo r kothar ottore shami j bollo Ami odhikarti strike firiye dilam aikhane shami moloto stri jei odhikarti take diyechen tini sheita firot deoar kotha bolechen.... Tahole shamir Ami odhikarti strike firiye dilam bolar karone strir kache ki kono odhikar ashsilo ek mohorter jonno

Answer

তালাকে তাফবীজ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: স্ত্রী বিবাহের সময় কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে তালাকে তাফবীজের অধিকার পাননি (কলামটি খালি ছিল)। পরে স্ত্রী দেখতে পান যে, স্বামী কিছু শর্তসাপেক্ষে ঐ কলামে সই/দাগ দিয়েছেন কিন্তু কাজী সাহেব তা পূরণ করেননি। স্ত্রী ঐ অধিকার বর্জন করতে চেয়ে স্বামীকে বলেন যে, তিনি ঐ অধিকার ফিরিয়ে নিলেন। স্বামী না বুঝে বলেন, "আমি অধিকারটি স্ট্রাইক (বাতিল) করে দিলাম" এবং স্ত্রী "হ্যাঁ" বলেন। পরে স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলে স্বামী বলেন, "হ্যাঁ, শর্তসহ ফিরিয়ে দিয়েছি।" এখন প্রশ্ন হলো—স্ত্রীর কাছে তো আদৌ কোনো অধিকার ছিল না, তাহলে তিনি কী ফিরিয়ে দিলেন? আর স্বামীর "আমি অধিকার স্ট্রাইক করে দিলাম" বলার কারণে কি স্ত্রীর জন্য এক মুহূর্তের জন্যও কোনো অধিকার সৃষ্টি হয়েছিল?


উত্তর

আল-হামদুলিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। নিম্নে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রদান করা হলো:

১. তালাকে তাফবীজ কী?

তালাকে তাফবীজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, স্বামী চাইলে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে পারেন। এটি কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে উল্লেখ থাকে। তবে এই অধিকার তখনই কার্যকর হয় যখন:

  • স্বামী স্পষ্টভাবে এবং ইচ্ছাপূর্বক এই অধিকার প্রদান করেন
  • স্ত্রী এই অধিকার গ্রহণ করেন
  • শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে

২. আপনার প্রশ্নের বিশ্লেষণ

প্রথম অবস্থা: বিবাহের সময় কাবিননামার ১৮ নম্বর কলাম খালি ছিল—অর্থাৎ স্ত্রী তালাকে তাফবীজের অধিকার পাননি। এটি স্পষ্ট।

দ্বিতীয় অবস্থা: পরে স্ত্রী দেখেন যে, স্বামী কিছু শর্তসাপেক্ষে ঐ কলামে দাগ/সই দিয়েছেন, কিন্তু কাজী সাহেব তা পূরণ করেননি। অর্থাৎ, এই অধিকার স্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি।

তৃতীয় অবস্থা: স্ত্রী স্বামীকে বলেন, "আমি এই অধিকার চিরতরে বর্জন করলাম" এবং স্বামীকে বলেন, "তুমি শুধু বলো যে আমি অধিকার ফিরিয়ে নিলাম।" স্বামী না বুঝে বলেন, "আমি অধিকার স্ট্রাইক (বাতিল) করে দিলাম।" স্ত্রী বলেন, "হ্যাঁ।"

চতুর্থ অবস্থা: পরে স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলে স্বামী বলেন, "হ্যাঁ, শর্তসহ ফিরিয়ে দিয়েছি।"

৩. ফিকহি বিশ্লেষণ

প্রশ্ন: স্ত্রীর কাছে তো আদৌ কোনো অধিকার ছিল না, তাহলে তিনি কী ফিরিয়ে দিলেন?

উত্তর: স্ত্রীর কাছে আদৌ তালাকে তাফবীজের কোনো অধিকার ছিল না, কারণ:

  • কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামটি বিবাহের সময় খালি ছিল
  • কাজী সাহেব তা পূরণ করেননি
  • স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত শর্তসাপেক্ষ দাগটি স্ত্রীর কাছে হস্তান্তরিত হয়নি

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তালাকে তাফবীজের অধিকার তখনই কার্যকর হয় যখন তা স্পষ্টভাবে স্ত্রীকে প্রদান করা হয় এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯০)

যেহেতু স্ত্রীর কাছে কোনো অধিকার ছিলই না, তাই তিনি "ফিরিয়ে দেওয়ার" যে কথা বলেছেন, তা একটি ঘোষণামূলক বাক্য মাত্র—যার কোনো আইনি প্রভাব নেই। তিনি যা ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন, তা তার কাছে ছিলই না।

প্রশ্ন: স্বামীর "আমি অধিকার স্ট্রাইক করে দিলাম" বলার কারণে কি স্ত্রীর জন্য এক মুহূর্তের জন্যও কোনো অধিকার সৃষ্টি হয়েছিল?

উত্তর: না, স্বামীর এই উক্তির কারণে স্ত্রীর জন্য কোনো অধিকার সৃষ্টি হয়নি। কারণ:

১. অধিকার সৃষ্টির পূর্বশর্ত পূরণ হয়নি: তালাকে তাফবীজের অধিকার সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন:

  • স্বামীর স্পষ্ট ইজাব (প্রস্তাব)
  • স্ত্রীর কবুল (গ্রহণ)
  • শর্তাবলীর স্পষ্ট উল্লেখ

২. স্বামীর বক্তব্য ছিল না বুঝে: স্বামী নিজেই জানতেন না তালাকে তাফবীজ কী। তিনি স্ত্রীর কথার অর্থ না বুঝেই "আমি স্ট্রাইক করে দিলাম" বলেছেন। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল।

৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তালাকের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ইচ্ছা এবং নিয়ত অপরিহার্য। যদি কেউ না বুঝে বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে কিছু বলে ফেলে, তবে তা কার্যকর হয় না। (আল-হিদায়া, ২/৮০; ফাতাওয়া আলমগীরি, ১/৩৭৩)

৪. স্বামীর পরবর্তী বক্তব্য: স্বামী পরে বলেছেন, "হ্যাঁ, শর্তসহ ফিরিয়ে দিয়েছি।" কিন্তু যেহেতু স্ত্রীর কাছে কোনো অধিকার ছিলই না, তাই "ফিরিয়ে দেওয়ার" প্রশ্নই আসে না। এটি একটি অকার্যকর ঘোষণা।

৪. ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে চান এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করেন, তবে তা কার্যকর হয়। কিন্তু আপনার বর্ণিত ঘটনায়:

  • স্বামী স্পষ্টভাবে অধিকার প্রদান করেননি
  • স্বামী জানতেনই না তিনি কী করছেন
  • স্ত্রীর কাছে অধিকার পৌঁছানোর আগেই তিনি তা "বর্জন" করেছেন

সুতরাং, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতেও এখানে কোনো অধিকার সৃষ্টি হয়নি।

৫. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

১. স্ত্রীর কাছে কোনো অধিকার ছিল না—কারণ কাবিননামার ১৮ নম্বর কলাম খালি ছিল এবং কাজী সাহেব তা পূরণ করেননি।

২. স্ত্রী যা "ফিরিয়ে দিয়েছেন" তা ছিল একটি ঘোষণামাত্র—যেহেতু তার কাছে অধিকার ছিলই না, তাই এই ঘোষণার কোনো আইনি প্রভাব নেই।

৩. স্বামীর "আমি স্ট্রাইক করে দিলাম" বলার কারণে স্ত্রীর জন্য কোনো অধিকার সৃষ্টি হয়নি—কারণ:

  • স্বামী জানতেন না তিনি কী বলছেন
  • তালাকে তাফবীজের অধিকার সৃষ্টির পূর্বশর্ত পূরণ হয়নি
  • এটি ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল

৪. বর্তমান অবস্থায় স্ত্রীর কাছে তালাকে তাফবীজের কোনো অধিকার নেই—এবং স্বামীর উক্তির কারণে তা সৃষ্টিও হয়নি।

৬. পরামর্শ

১. ভবিষ্যতে সতর্কতা: তালাকে তাফবীজের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি বিষয় যা ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে।

২. লিখিতভাবে স্পষ্ট করা: ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লিখিতভাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।

৩. আলেমের পরামর্শ: এই ধরনের জটিল বিষয়ে স্থানীয় আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. দাম্পত্য সম্পর্ক: এই ঘটনাটি দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উভয় পক্ষের উচিত বিষয়টি বুঝে নেওয়া এবং সম্পর্ক সুস্থ রাখা।


والله أعلم بالصواب

(আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী)


তথ্যসূত্র

১. আল-হিদায়া - ইমাম আল-মারগিনানী (২/৮০) ২. রদ্দুল মুহতার - ইমাম ইবনে আবিদীন (৩/২৯০) ৩. ফাতাওয়া আলমগীরি (১/৩৭৩) ৪. ফাতাওয়া উসমানি - মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (২/৪৫০) ৫. ইমদাদুল ফাতাওয়া - মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (২/১৮০) ৬. বেহেশতি জেওর - মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (৫/২৫-৩০) ৭. মাআরিফুল কুরআন - মুফতি মুহাম্মদ শফি (২/১৮৫)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.