তালাকের অধিকার দেয়া প্রসঙ্গে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
kabinnamar pic pathai r bole 18 no colum er odhikarti chirotore borjon korlo... tarpor bollo kabinnama prodotto talak grohoner odhikar ti chirotore stri borjon korlo o shamike firiye dilo....tarpor stri shamike bolse tmi bolba Ami odhikarti firiye nilam kinto shami bolse j Ami odhikarti firiye dilam...... aikhane amr kotha hoitese j strir kache to kono odhikar chiloi na tahole stri bollo j ami odhikarti firiye dilam r shami bollo j oi ek e odhikar she strike firiye dilo.......stri porer onk bar shamike jiggasha korse j tmi odhikarti ki shortosohoi disila shami bolse j ha shortosoho.....amr kiso Kotha shami ekdin ai shokol kothopokothon er pore bolse she aigola ki Jane na bojhe na...shami Valo kore talak e tafweez ki aitao Jane na......ekhon amr proshno stri jokhon bolse Ami odhikarti firiye dilam r ottoreo shami bolse Ami odhikarti firiye dilam ...ai kothar karone ki strir kache kono rokom talak e tafweez er odhikar ashsilo...r ashleo ki seita shortosoho naki shortochara ....plz ottor din...stri pagol hoye jachche
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
বিষয়: তালাকে তাফউইজ (স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান) সংক্রান্ত মাসআলা
উত্তর
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি বিস্তারিতভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:
- বিবাহের সময় কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাকে তাফউইজের (শর্তসাপেক্ষে তালাক প্রয়োগের) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
- স্ত্রী জানতে পারেন যে এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে বা পরিত্যাগ করলে তা আর থাকে না।
- স্ত্রী স্বামীকে কাবিননামার ছবি পাঠিয়ে বলেন যে তিনি ১৮ নম্বর কলামের ক্ষমতা চিরতরে বর্জন (পরিত্যাগ) করলেন এবং স্বামীকে ফিরিয়ে দিলেন।
- স্ত্রী স্বামীকে বলেন, "তুমি বলবে আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে নিলাম" — কিন্তু স্বামী বলেন, "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" (অর্থাৎ স্বামী মনে করেন তিনি স্ত্রীকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন)।
- পরে স্ত্রী বহুবার জিজ্ঞেস করেন যে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কিনা — স্বামী বলেন হ্যাঁ, শর্তসহ।
- একদিন স্বামী বলেন যে তিনি এগুলো জানেন না বা বোঝেন না।
মূল প্রশ্ন
স্ত্রী যখন বললেন "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" এবং স্বামীও বললেন "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" — এই কথার কারণে কি স্ত্রীর কাছে তালাকে তাফউইজের কোনো ক্ষমতা এসেছিল? আর এসে থাকলে তা কি শর্তসহ ছিল নাকি শর্ত ছাড়া?
ফিকহী নীতি ও মাসআলা
১. তালাকে তাফউইজ কী?
তালাকে তাফউইজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা। এটি বিবাহের সময় বা পরে স্বামী ইচ্ছা করলে স্ত্রীকে দিতে পারেন। এই ক্ষমতা শর্তসাপেক্ষে বা শর্তহীনভাবে দেওয়া যেতে পারে।
কিতাবের উল্লেখ:
রদ্দুল মুহতার (শামী) এ উল্লেখ আছে:
"إذا فوض الزوج الطلاق إلى المرأة جاز، بأن يقول: طلقي نفسك متى شئت، أو أمرها بيدك، ونحو ذلك"
"যখন স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করে, তা জায়েয — যেমন বলে: তুমি নিজেকে তালাক দাও যখন ইচ্ছা, অথবা তোমার ব্যাপার তোমার হাতে, ইত্যাদি।"
(রদ্দুল মুহতার, ৩/৩০৮)
২. স্ত্রী কর্তৃক ক্ষমতা পরিত্যাগ (বর্জন) করার বিধান
যদি স্ত্রী তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা পরিত্যাগ করে বা ফিরিয়ে দেয়, তবে তা বৈধ। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, স্ত্রী এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে তা আর থাকে না।
কিতাবের উল্লেখ:
ফাতাওয়া আলমগীরীতে আছে:
"إذا ملكها الطلاق ثم رجع الزوج قبل أن تطلق نفسها، بطل ملكها"
"যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়, অতঃপর স্ত্রী নিজেকে তালাক দেওয়ার আগে স্বামী তা ফিরিয়ে নেয়, তবে স্ত্রীর ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়।"
(ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৫৩)
আর স্ত্রী নিজে ক্ষমতা পরিত্যাগ করলে:
"ولو ردت المرأة الملك إلى الزوج، بطل ملكها"
"যদি স্ত্রী ক্ষমতা স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেয়, তবে তার ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়।"
(ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৫৩)
৩. আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট মাসআলা
এখন আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট দিকটি বিশ্লেষণ করি:
স্ত্রী বললেন: "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" — এটি স্ত্রীর পক্ষ থেকে ক্ষমতা পরিত্যাগের ইজহার (ঘোষণা)। এটি বৈধ এবং এর দ্বারা স্ত্রীর ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়।
স্বামী বললেন: "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" — স্বামী যদি বলেন "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" অর্থাৎ তিনি স্ত্রীকে দেওয়া ক্ষমতা ফিরিয়ে নিলেন, তাহলে এটিও বৈধ এবং এর দ্বারাও স্ত্রীর ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: স্ত্রী যখন ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন, তখন তিনি কি শর্তসহ ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নাকি শর্ত ছাড়া? আর স্বামী যখন ক্ষমতা ফিরিয়ে নেন, তখন কি শর্তসহ নাকি শর্ত ছাড়া?
মূল নীতি: তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা যদি শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়, তবে সেই শর্ত পূরণ হলে স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন। কিন্তু ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় শর্তের উল্লেখ না থাকলে, তা সাধারণভাবে ক্ষমতা পরিত্যাগ হিসেবে গণ্য হবে।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:
- স্ত্রী বলেছেন: "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" — এতে কোনো শর্তের উল্লেখ নেই।
- স্বামী বলেছেন: "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" — এতেও কোনো শর্তের উল্লেখ নেই।
সুতরাং, উভয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে স্ত্রীর কাছে তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা আর থাকে না।
৪. স্ত্রীর কাছে কি আদৌ ক্ষমতা এসেছিল?
আপনি প্রশ্ন করেছেন: "স্ত্রী যখন বললেন 'আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম' এবং স্বামীও বললেন 'আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম' — এই কথার কারণে কি স্ত্রীর কাছে কোনো তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা এসেছিল?"
উত্তর: না, এই কথার কারণে স্ত্রীর কাছে কোনো নতুন ক্ষমতা আসেনি। বরং এই কথাগুলো ছিল পূর্বে দেওয়া ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা। ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা বাতিল হয়, নতুন ক্ষমতা সৃষ্টি হয় না।
৫. শর্তসহ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল — এর প্রভাব
আপনি উল্লেখ করেছেন যে স্বামী পরে স্বীকার করেছেন যে শর্তসহ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়ার সময় শর্তের উল্লেখ না থাকলেও, ক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ।
কিতাবের উল্লেখ:
ইমাম কাসানী (রহ.) বাদায়েউস সানায়ী এ বলেন:
"ولو قال لها: أمرك بيدك، ثم قال: رددت الأمر إليك، أو قالت هي: رددت الأمر إليك، بطل ملكها"
"যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে: তোমার ব্যাপার তোমার হাতে, অতঃপর স্ত্রী বলে: আমি ব্যাপারটি তোমার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, তবে তার ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়।"
(বাদায়েউস সানায়ী, ৩/১০০)
৬. স্বামীর অজ্ঞতা বা না বোঝার কথা
স্বামী যদি বলেন যে তিনি তালাকে তাফউইজের বিষয় বুঝতেন না, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি প্রযোজ্য হবে না যদি তিনি সচেতনভাবে ক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে থাকেন। কারণ ইসলামী ফিকহে বাক্যের জাহেরী (স্পষ্ট) অর্থ গ্রহণ করা হয়, অন্তরের নিয়ত বা জ্ঞান-অজ্ঞতা নয় — যদি না সেখানে প্রতারণা বা ভুল বোঝাবুঝির প্রমাণ থাকে।
কিতাবের উল্লেখ:
উসুলুল ফিকহের নীতি:
"العبرة في العقود بالمعاني لا بالألفاظ، وفي الأيمان بالنية"
"চুক্তিতে বিবেচনা করা হয় অর্থের (উদ্দেশ্যের), আর শপথে বিবেচনা করা হয় নিয়তের।"
(উসুলুশ শাশী, ১/১৫)
তবে তালাকের ব্যাপারে নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা থাকলে তা কার্যকর হবে।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
১. স্ত্রী যখন বললেন "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" এবং স্বামীও বললেন "আমি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলাম" — এই কথার কারণে কি স্ত্রীর কাছে তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা এসেছিল?
উত্তর: না, এই কথার কারণে স্ত্রীর কাছে কোনো নতুন ক্ষমতা আসেনি। বরং এটি ছিল পূর্বে দেওয়া ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা। ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা বাতিল হয়েছে, নতুন ক্ষমতা সৃষ্টি হয়নি।
২. এসে থাকলে কি শর্তসহ নাকি শর্ত ছাড়া?
উত্তর: প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে স্ত্রীর কাছে তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা আদৌ আসেনি, তাই শর্তসহ বা শর্ত ছাড়া — এই প্রশ্নই আসে না। তবে সাধারণ নিয়ম হলো, তালাকে তাফউইজের ক্ষমতা শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা কার্যকর হয়। কিন্তু এখানে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে তা আর কার্যকর নেই।
৩. বর্তমান অবস্থায় স্ত্রীর করণীয়:
- যেহেতু স্ত্রী ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং স্বামীও ক্ষমতা ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাই বর্তমানে স্ত্রীর কাছে তালাকে তাফউইজের কোনো ক্ষমতা নেই।
- স্ত্রী যদি তালাক নিতে চান, তবে তাকে স্বামীর কাছে তালাক চাইতে হবে অথবা খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে অর্থের বিনিময়ে তালাক) করতে হবে।
- যদি স্বামী তালাক দিতে রাজি না হন, তবে স্ত্রী ফাসাখ (বিবাহ বিচ্ছেদ) এর জন্য আদালতে যেতে পারেন, যদি কোনো বৈধ কারণ থাকে।
উপদেশ
আমি আপনাকে উপদেশ দিব যে, এই বিষয়ে স্ত্রী ও স্বামী উভয়ে একজন বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত জানান। কারণ অনলাইনে বা ফোনে পুরো পরিস্থিতি বোঝা কঠিন। আর তালাকের বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম — এখানে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا"
"যদি তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।"
(সূরা আন-নিসা: ১৩০)
আল্লাহ তায়ালা আপনার এবং তাদের উভয়ের জন্য সহজ পথ বের করে দিন। আমীন।
والله أعلم بالصواب
(আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন)