"আমার সাথে থাকার দরকার নেই" - এই ধরনের কথা তালাকের শব্দ?

Family Life · Hanafi

Question No: 3416
Questioner: Amatullah US
Question Asked: 02 Aug 2026, 04:23 PM
Reviewed & Published: 02 Aug 2026, 05:25 PM
Views: 5
Tokens: 3,507
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সামি তার বাাবার সঙ্গে সিম্পল কথায় রাগারাগি করে কথা বলছে না,,,, তো তার বউ তাকে বারবার বোঝাচ্ছে যে এমন করে না,,, আবার বলছে যে এমন করলে আল্লাহ বেজার হবে,, আর যদি আপনি নত হয়ে কথা বলেন তবে আল্লাহ আপনার ভালো করবে,,
এই কথায় বলা হয় স্বামী বলছে যদি আব্বুর পক্ষ নাও আমার সাথে থাকার দরকার নেই,, আসলে আমি তো কারো পক্ষ নিচ্ছি না আমি কাঁদছি যে আর বাসায় যেন ভাববেন না দুজনে দুজনের সাথে মিলেমিশে থাকতে পারে,, তারপর বলেছে আপনাকে এগুলা মন থেকে আমাকে আমাকে বলেন, সে বলেছে না।। তার এ কথা কি কোন সমস্যা হবে,, শর্ত যুক্ত কিছু আর আমার এক্ষেত্রে করণীয় কি একটু বলবেন প্লিজ,,, এমনিতেই আমি ওয়াসওয়াসার রোগী

Answer

উত্তর

প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়লাম। আপনি আপনার স্বামীকে তার বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করার উপদেশ দিয়েছেন, যা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সঠিক কাজ। আপনার স্বামী আপনার এই উপদেশকে "আব্বুর পক্ষ নেওয়া" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন, "যদি আব্বুর পক্ষ নাও, আমার সাথে থাকার দরকার নেই।"

আপনার স্বামীর কথার বিধান

আপনার স্বামীর এই উক্তিটি তালাক নয়। কারণ তালাকের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হয় (যেমন: "তালাক দিলাম", "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" ইত্যাদি)। আপনার স্বামী যে কথা বলেছেন, তা শর্তযুক্ত হলেও তালাকের নিয়তে বলা না হলে তালাক পতিত হবে না। তবে যদি তিনি তালাকের নিয়তে বলেন, তাহলে ভিন্ন কথা।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, "আমার সাথে থাকার দরকার নেই" - এই ধরনের কথা তালাকের শব্দ নয়, বরং এটি এমন একটি বাক্য যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে। যদি স্বামী তালাকের নিয়ত না করে থাকে, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৩)

আপনার করণীয়

১. ধৈর্য ধারণ করুন: আপনার স্বামী সম্ভবত রাগের মাথায় এমন কথা বলেছেন। রাগ কমলে তিনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে আপনি তার এবং তার পরিবারের কল্যাণ কামনা করেই কথা বলেছেন।

২. ভালোভাবে বোঝান: সুযোগ পেলে তাকে বোঝান যে আপনি কারো পক্ষ নিচ্ছেন না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং পরিবারে শান্তি বজায় রাখার জন্যই এমন উপদেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয় এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন সম্মানিত অতিথির সৎকার করে।" (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৬০১৮)

৩. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব: কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যে কেউ বা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না, বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)

৪. ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচুন: আপনি উল্লেখ করেছেন যে আপনি ওয়াসওয়াসার রোগী। ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের ওয়াসওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা উচ্চারণ করে বা আমল করে।" (সহিহ বুখারী: ২৫২৮) সুতরাং আপনার মনে যে সন্দেহ আসছে, তা শয়তানের প্ররোচনা। আপনি এ বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন না।

৫. দোয়া করুন: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আপনার স্বামীর হৃদয় নরম হয় এবং পরিবারে শান্তি বজায় থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।" (সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫)

গুরুত্বপূর্ণ নোট

আপনার স্বামীর কথা "যদি আব্বুর পক্ষ নাও, আমার সাথে থাকার দরকার নেই" - এটি একটি শর্তযুক্ত বাক্য। কিন্তু যেহেতু এটি তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয় এবং তিনি তালাকের নিয়ত করেননি, তাই এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে সম্পর্কের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আপনার পরিবারে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.