জরায়ুর মধ্যে স্রাব থাকা প্রসঙ্গে
Taharah Purity · Hanafi
Question
"আসসালামু আলাইকুম। মুহতারাম মুফতী সাহেব, আমার একটি মাসআলা জানার ছিল—
পিরিয়ড শুরু হওয়ার ২-৩ দিন আগে যদি জরায়ুর ভেতরে লালচে বা ঘোলাটে স্রাব থাকে, কিন্তু তা স্বাভাবিকভাবে বাহ্যিকভাবে (বাইরে) বের না হয়, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে কি তখন থেকেই হায়েজ (ঋতুস্রাব) শুরু হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং নামায বন্ধ রাখতে হবে? নাকি স্বাভাবিকভাবে বাহ্যিকভাবে নির্গত হওয়ার পর থেকে হায়েজ গণনা করা হবে?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
হায়েজ (ঋতুস্রাব) শুরু হওয়ার শরয়ী মানদণ্ড হলো, রক্ত বা রক্তের মতো (লালচে, ঘোলাটে ইত্যাদি) স্রাব জরায়ু থেকে বের হয়ে যোনিপথের বাইরে (অর্থাৎ, শরীরের বাহিরে) আসা। যতক্ষণ তা জরায়ুর ভেতরে বা যোনিপথের অভ্যন্তরে থাকে এবং বাহ্যিকভাবে প্রকাশ না পায়, ততক্ষণ তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হয় না। তাই প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায়—যদি পিরিয়ড শুরুর ২-৩ দিন আগে জরায়ুর ভেতরে লালচে বা ঘোলাটে স্রাব থাকে, কিন্তু তা বাহ্যিকভাবে বের না হয়—তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে সে সময় থেকে হায়েজ শুরু হয়েছে বলে গণ্য হবে না এবং নামায বন্ধ রাখতে হবে না। বরং যখন স্রাব বাহ্যিকভাবে নির্গত হবে, তখন থেকেই হায়েজ গণনা শুরু হবে এবং নামায বন্ধ করতে হবে।
হানাফি ফিকহের দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (১/২৮২): “হায়েজের রক্ত সেই রক্ত যা জরায়ুর গভীর থেকে নির্গত হয়ে শরীরের বাইরে আসে। আর যা শরীরের ভেতরে থাকে, তা হায়েজ নয়।”
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৬): “যদি রক্ত শরীরের ভেতরে থাকে এবং বের না হয়, তাহলে তা হায়েজ নয়।”
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৫): “যতক্ষণ রক্ত বাহিরে না আসে, ততক্ষণ হায়েজের হুকুম প্রযোজ্য নয়।”
সতর্কতা:
যদি নির্ধারিত পিরিয়ডের সময় (অভ্যাসগত) নিকটবর্তী হয় এবং ভেতরে রক্তের অস্তিত্ব অনুভূত হয়, তবে অধিক সতর্কতার জন্য কিছু আলেম মুস্তাহাজা (ইস্তিহাযা) হিসেব গণনা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু বিধান অনুযায়ী, যতক্ষণ বাহ্যিকভাবে নির্গত না হবে, ততক্ষণ নামায আদায় করা জায়েয এবং ওয়াজিব।
সারসংক্ষেপ:
- বাহ্যিক নির্গমন না হওয়া পর্যন্ত হায়েজ শুরু হয়নি।
- নামায, রোযা ইত্যাদি আগের মতোই আদায় করতে হবে।
- যখন বাহ্যিক স্রাব দেখা যাবে, তখনই হায়েজ গণনা শুরু হবে।
আল্লাহু তাআলা সবচেয়ে ভাল জানেন।