ফরয গোসলে কুলি করার নিয়ম
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
ফরয গোসলের ক্ষেত্রে কুলি করা (মাদমাদা) ও নাকে পানি দেওয়া (ইস্তিনশাক) ওয়াজিব—বরং অনেক হানাফি গ্রন্থে একে ফরজ বলা হয়েছে, কারণ মুখ ও নাক দেহের বাহ্যিক অঙ্গ। তবে কুলি করার পদ্ধতি সম্পর্কে সুন্নত হলো ডান হাতের কোষ (পাত্র) করে পানি নিয়ে তা মুখে দিয়ে ভালোভাবে কুলি করা। এক হাতের কোষে পানি নিয়ে কুলি করাই সুন্নত; দুই হাত একত্রে করে পানি নিয়ে কুলি করার কোনো বিশেষ সুন্নত নেই। তবে কেউ যদি দুই হাত দিয়ে পানি নিয়ে কুলি করে, তবে তা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু উত্তম পদ্ধতি হলো ডান হাত ব্যবহার করা।
প্রমাণ:
- বেহিশতী জেওর (গোসলের সুন্নত) গ্রন্থে বলা হয়েছে: “গোসলের সুন্নতসমূহের মধ্যে একটি হলো: ডান হাত দিয়ে তিনবার পানি নিয়ে কুলি করা, প্রতিবার নতুন পানি নিয়ে এবং ভালোভাবে গড়গড়া করে কুলি করা।” (বেহিশতী জেওর, গোসল অধ্যায়)
- রদ্দুল মুহতার (১/৩০৮) গ্রন্থেও গোসলের সুন্নত পদ্ধতি বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, ডান হাত দিয়ে পানি নিয়ে মুখে দেওয়া সুন্নত।
পানি মুখে নেওয়ার পদ্ধতি (উপরে না নিচে):
সুন্নত পদ্ধতি হলো: ডান হাতের কোষে পানি নিয়ে তা সরাসরি মুখে ঢেলে দেওয়া। এটি ‘উপর থেকে পানি দেওয়া’র পর্যায়ে পড়ে, কারণ হাত উপরে থাকে এবং মুখ নিচে থাকে। তবে ‘পানি মুখে নিয়ে উপরে পানি দেওয়া’ বলতে যদি বোঝানো হয় যে, মুখে পানি নিয়ে তারপর উপর থেকে আরো পানি দেওয়া—এটি গোসলের কোনো অংশ নয়। বরং কুলি করার মূল কাজ হলো মুখ ভরে পানি নিয়ে ভালোভাবে গড়গড়া করে বের করে দেওয়া। হাতের অবস্থান এমন হওয়া উচিত যে, সহজে পানি মুখে যায় এবং গড়গড়া করা সম্ভব হয়। নিচের দিক থেকে পানি নেওয়া বলতে কিছু নেই; পানি সর্বদা হাত থেকে মুখে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- ফরয গোসলের ক্ষেত্রে কুলি ও নাকে পানি দেওয়া যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয় তবে গোসল হবে না (হানাফি মতে ফরজ)।
- কুলি করার সময় দাঁত ও মুখের ভেতরের অংশ ভালোভাবে ভিজানো জরুরি।
- অধিক উলামার মতে, কুলি তিনবার করা সুন্নত, তবে একবার করলেও ফরজ আদায় হবে।
সারসংক্ষেপ:
- এক হাতের (ডান হাতের) কোষে পানি নিয়ে কুলি করা সুন্নত।
- দুই হাত একত্রে করে কুলি করাও জায়েজ, তবে সুন্নত নয়।
- পানি হাত থেকে মুখে ঢেলে দিলেই হবে; উপরে বা নিচে নিয়ে বিশেষ কোনো নিয়ম নেই।
তথ্যসূত্র:
- বেহিশতী জেওর (গোসলের সুন্নত)
- রদ্দুল মুহতার (১/৩০৮, কিতাবুত তাহারাহ)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/১০৯)
- আল-হিদায়া (১/১৭)
والله أعلم بالصواب