বান্ধবীকে মামির দোষ বলা কি গীবত হবে?
Family Life · Hanafi
Question
আমার বান্ধুবীও আমার মামির খারাপ দিক গুলো জেনে তাকে দোষারোপ করে খারাপ বলে।তো এগুলো বলাতে বান্ধুবীরও কি গীতের গুনাহ হবে?
Answer
উত্তর (ফতোয়া): গীবত (গিবাহ) – হানাফী ফিকহ
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
একজন মেয়ে তার বান্ধবীকে বলে যে, তার মামি “ভালো মানুষ নয়”, সবসময় বাপের বাড়ির লোকজন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, নানির হক আদায় করে না, মুখ খারাপ করে কথা বলে। বান্ধবী মামিকে কখনো দেখেনি বা ব্যক্তিগতভাবে চেনে না। পরে বান্ধবীও মামির দোষ বর্ণনা করে। এটা কি উভয়ের জন্য গীবত হবে?
ফতোয়া: হ্যাঁ, উভয়ের জন্যই গীবতের গুনাহ হয়েছে
গীবতের সংজ্ঞা: সহীহ হাদীসে এসেছে,
“তোমার ভাই (মুসলিম) সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে, যদিও তা সত্য হয়।” (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, হাদীস ২৫৮৯)
হানাফী মতে, কোনো মুসলিমের অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি (যদিও সত্য হয়) শরয়ী কোনো কারণ ছাড়া উল্লেখ করা হারাম। যে ব্যক্তি শুনে এবং নীরব থাকে বা সমর্থন করে সেও গুনাহগার হয়। আর যে ব্যক্তি তা পুনরায় বলে বা বাড়িয়ে বলে, সে পূর্ণ গীবতকারী।
এখানে ভাইপো/ভাইঝি (মেয়েটি) তার মামির বাস্তব দোষ বর্ণনা করেছে (সত্য কথা) এমন এক বান্ধবীকে যার কোনো বৈধ জানার প্রয়োজন ছিল না। মামি যদি এই কথা শুনতেন তবে নিশ্চিতই অপছন্দ করতেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট গীবত।
বান্ধবী প্রথমে শুনে নীরব থেকে গুনাহগার হয়েছে, পরে সে নিজেও মামির দোষ বর্ণনা করে পূর্ণ গীবতকারী হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ হানাফী রেফারেন্স
-
ইমাম ইবনে আবেদীন (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৪২০):
“গীবত হল এমন কিছু বলা যা ব্যক্তি অপছন্দ করে, তা তার শরীর, বংশ, চরিত্র, কাজ, কথা, দ্বীন বা দুনিয়ার বিষয় হোক—এবং তা সত্য হলেও। এটি ইজমা দ্বারা হারাম।” -
ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী, ২/২৩৫):
“যদি কেউ তৃতীয় ব্যক্তির দোষ অপর একজনের কাছে বলে, আর শ্রোতা ব্যক্তিটিকে চেনে না, তবুও তা গীবত হবে। গীবতের গুনাহ শ্রোতার পরিচিতির উপর নির্ভর করে না, বরং বক্তা যে বিষয়টি অপছন্দ করবেন তার উপর নির্ভর করে।” -
আল-হিদায়া:
“কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার দোষ বলা হারাম, যদি না কোনো বৈধ ওজর থাকে (যেমন: জুলুমের বিরুদ্ধে সাহায্য চাওয়া, ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা ইত্যাদি)” -
ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী, ৪/২৮৫):
“যদি কোনো ব্যক্তি গীবত করে এবং আরেক ব্যক্তি তা শোনে ও নিষেধ না করে, তবে সেও গুনাহগার হয়। আর যদি পরে সেই শ্রোতা নিজেও একই গীবত করে, তবে সে নিজেই গীবতকারী হয়ে যায়।”
বান্ধবীর গুনাহ
- প্রথমত: সে গীবত শুনে নিষেধ করেনি বা চলে যায়নি (যতটুকু সম্ভব) – এতে সে গুনাহগার হয়েছে।
- দ্বিতীয়ত: সে নিজেও মামির দোষ বর্ণনা করে পূর্ণ গীবতকারী হয়েছে।
হাদীসে এসেছে:
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” (বুখারী, মুসলিম)
তওবা ও করণীয়
উভয়ের জন্য তওবা করা ফরয:
- সাথে সাথে এ ধরনের কথা বলা বন্ধ করতে হবে।
- আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে, অনুতপ্ত হতে হবে এবং পুনরায় না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
- মামির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে (যদি সরাসরি ক্ষমা চাইতে আরও বেশি সমস্যা হয়, তবে তার জন্য দু‘আ করতে হবে এবং তার পক্ষে সাদাকা দেওয়া যেতে পারে, সাথে নিজের ভালো কাজের সওয়াব তাকে হাদিয়া দেওয়ার নিয়ত করতে হবে)।
শেষ উপদেশ: নিজের জবান ও বান্ধবীর জবানকে সংযত করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।” (বুখারী) নিজের পরিবারের কারো দোষ দেখলে সরাসরি তাকে ব্যক্তিগতভাবে নসীহত করুন, অথবা চুপ থাকুন। মনে রাখবেন, গীবত করা কিয়ামতের দিন নিজের নেকি অন্যের কাছে দিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক পাপ।