পাত্র দেখতে আসলে কি থ্রি-পিস পড়ে যাওয়া যাবে?
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
Ar ei obosai ki kora jai?? Kivabe help chaibo allah er kase?
Answer
উত্তর:
প্রশ্নকারী বোনের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিম্নোক্ত উত্তর দিচ্ছি। আল্লাহই তাওফীকদাতা।
১. বিয়ে প্রস্তাবের জন্য মেয়েকে দেখা
বিয়ে প্রস্তাবের জন্য পাত্র কর্তৃক পাত্রীকে দেখা জায়েয এবং এটি সুন্নত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের কেউ কোনো নারীর বিয়ে প্রস্তাব করলে, যদি তার দিকে তাকাতে পারে, তবে যেন তা করে।”
(আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৮২; সহীহ ইবনু হিব্বান, আলবানী সহীহ বলেছেন)
সে তাকানোর ক্ষেত্রে শুধু চেহারা ও হাত দেখতে পারে। আর তা অবশ্যই মাহরামের উপস্থিতিতে দেখতে হবে এবং শরীয়তসম্মত উদ্দেশ্যে (অর্থাৎ বিয়ে করার ইচ্ছা থাকতে হবে)।
২. পাত্রপক্ষের সামনে পাত্রীর পোশাক
প্রশ্নে বলা হয়েছে, পাত্রপক্ষের সামনে (যেখানে পাত্রের পরিবারের পুরুষ ও মহিলা উভয়েই থাকতে পারে) সেই মেয়ে ‘থ্রি পিস ও হিজাব’ পরতে পারবে কিনা।
ক. যদি পাত্রপক্ষে নন-মাহরাম পুরুষ থাকে:
- তাহলে সেই মেয়ের জন্য পূর্ণ হিজাব (জিলবাব, খিমার) পরা ওয়াজিব, যাতে সম্পূর্ণ দেহ (মুখ ও হাতসহ) ঢাকা থাকে।
- শায়খ ইবনু বায (রহ.) বলেন: “নন-মাহরাম পুরুষের সামনে নারীকে মুখ ও হাত ঢেকে রাখা ফরয।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ৬/৩৭১)
- শায়খ ইবনু ‘উসাইমীন (রহ.) বলেন: “নন-মাহরাম পুরুষের সামনে মুখ ও হাত উন্মুক্ত রাখা জায়েয নয়।” (শারহুল মুমতি‘, ২/১৩১)
তাই ‘থ্রি পিস ও হিজাব’ (যা শুধু মাথা ও শরীর ঢাকলেও মুখ ও হাত উন্মুক্ত থাকে) যথেষ্ট নয়। তাকে নিকাব (মুখ ঢাকা পর্দা) এবং পুরো শরীর ঢেকে এমন পোশাক পরতে হবে।
খ. যদি পাত্রপক্ষে শুধু মহিলা থাকে:
- তাহলে মেয়েটি ‘থ্রি পিস ও হিজাব’ পরতে পারে, তবে পোশাক আঁটোসাঁটো না হওয়া এবং সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী না হওয়া শর্ত।
- তবে উত্তম হলো, পুরুষ না থাকলেও বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাজসজ্জা না করা। কারণ আল্লাহ বলেন:
“আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া।” (সূরা নূর ২৪:৩১)
৩. মেয়ের পরিবার দ্বীনি না হলে কী করবেন?
- আপনার পরিবার যদি দ্বীনি না হয় এবং তারা আপনাকে অর্ধ-উন্মুক্ত অবস্থায় পাত্রপক্ষের সামনে যেতে বাধ্য করে, তবে আপনার ওপর ফরজ হলো আল্লাহর হুকুম মানা।
- আপনি যতটুকু পারেন পূর্ণ হিজাব করার চেষ্টা করবেন। যদি মুখ ঢাকতে না পারেন, তাহলে অন্তত মাথা, গলা ও পুরো শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখবেন এবং পাত্রের দিকে না তাকিয়ে থাকবেন।
- সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও যদি আপনার ওপর জোর খাটানো হয়, তবে আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ। কেননা আল্লাহ বলেন:
“আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব দেন না।” (সূরা বাকারা ২:২৮৬)
৪. কীভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন?
-
দু‘আ করুন:
“হে আল্লাহ! আপনি আমাকে দ্বীনের ব্যাপারে শক্তি দিন এবং এমন স্বামী দান করুন যে আপনার হুকুম পালনে আমাকে সাহায্য করবে।”
বিশেষ করে তাহাজ্জুদ নামাজে (শেষ রাতে) কাঁদতে কাঁদতে দু‘আ করুন। আল্লাহ দু‘আ কবুলের ঘোষণা দিয়েছেন। -
ছবর (ধৈর্য) ধারণ করুন:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তার সঙ্গী হন।” (বুখারী) -
সৎকর্ম ও তওবা অব্যাহত রাখুন:
আপনার ব্যক্তিগত আমল যেন শক্তিশালী হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা করুন। -
বিয়ে নির্বাচনে সতর্ক হোন:
এমন পাত্র খুঁজুন যে দ্বীনদার এবং পরিবারও দ্বীনের ব্যাপারে সচেতন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের নিকট যখন এমন কেউ বিয়ে প্রস্তাব করে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তখন তাকে বিয়ে দাও…” (তিরমিযী, হাদিস নং ১০৮৪)
সংক্ষিপ্ত উত্তর
- যদি পাত্রপক্ষে নন-মাহরাম পুরুষ থাকে, তাহলে ‘থ্রি পিস ও হিজাব’ যথেষ্ট নয়; পূর্ণ হিজাব (মুখ ও হাত ঢাকা) ওয়াজিব।
- যদি শুধু মহিলা থাকে, তাহলে থ্রি পিস ও হিজাব জায়েয, তবে ঢিলেঢালা ও শালীন পোশাক হতে হবে।
- আপনার পরিবার দ্বীনি না হলেও আপনি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও সহায়।