“আমি কাউকে ১০০% জান্নাতের গ্যারান্টি দিলে কি ঈমান চলে যাবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 3196
Questioner: Raju Raj
Question Asked: 28 Jul 2026, 05:18 PM
Reviewed & Published: 28 Jul 2026, 05:35 PM
Views: 19
Tokens: 2,996
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন বলেছি আপনি কোরআন হাদিস অনুযায়ী চলে জান্নাতে যাবে ১০০%। এর গ্রেন্টি আমি নিব। এমন কথায় কি আমার ইমান চলে যাবে।আমি ভুল বলে তাকি এখন আমার করণীয় কি।

Answer

উত্তর

প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ঈমান ও আকীদার সাথে সম্পর্কিত। আপনি যে কথা বলেছেন— “আপনি কুরআন-হাদিস অনুযায়ী চললে ১০০% জান্নাতে যাবেন, আর আমি তার জামানত (গ্যারান্টি) নিচ্ছি”— এটি বলা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়।

শরীয়তের বিধান:
কোনো ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্টভাবে জান্নাতের গ্যারান্টি দেওয়া বা ১০০% নিশ্চিত করা শুধু আল্লাহরই এখতিয়ার। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও জমিনের গায়েব জানেন।” (সূরা লুকমান, ৩৪)

কে জান্নাতে যাবে বা না যাবে, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-ও নিজের জন্য নিশ্চিত জান্নাত বলতেন না; বরং তিনি বলতেন:

والذي نفسي بيده لو لم تذنبوا لذهب الله بكم ولجاء بقوم يذنبون فيستغفرون الله فيغفر لهم
“উম্মতের নিকট আমি এতটাই নিশ্চিত জান্নাতের সুসংবাদ দেই যে, আমি নিজেও আল্লাহর রহমত ছাড়া জান্নাতে যেতে পারি না।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭৪৯)

সুতরাং কাউকে ১০০% জান্নাতের গ্যারান্টি দেওয়া বা নিজেকে তার জামিন বানানো শরীয়তে নিষিদ্ধ এবং এটি গুনাহের কাজ। তবে এটি কি ঈমান নষ্টকারী (কুফর)?
হানাফী ফিকহের বড় বড় ইমামগণ (ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম আবূ ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ) বলেন:

  • যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কথা বলে যে, সে নিজের ইচ্ছামতো কাউকে জান্নাত দিতে পারে অথবা আল্লাহর গায়েবের জ্ঞান নিজের আছে বলে বিশ্বাস করে, তাহলে তা কুফরী।
  • কিন্তু যদি কেউ ভুলবশত, অজ্ঞতাবশত বা একান্ত আশা ও উৎসাহ দিয়ে বলে (যেমন: “তুমি নেক কাজ করলে জান্নাত পাবে বলে আমি আশা করি” বা “আল্লাহর রহমতে তুমি জান্নাতি হবে”), তাহলে তা কুফর নয়; বরং এটি একটি ভুল ও গুনাহ।

(আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, ২/২৫২; রদ্দুল মুহতার, ৪/২৪২; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৩৭)

আপনার অবস্থা বিশ্লেষণ:
আপনি বলেছেন, “আমি ভুল বলে ফেলেছি।” অর্থাৎ আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বিশ্বাস করে বলেননি যে, আপনার জামানত সত্যিই কার্যকর হবে; বরং এটি ছিল এক ধরণের আবেগপ্রবণ বা উৎসাহমূলক কথা। তাই আপনার ঈমান নষ্ট হয়নি। তবে এটি বড় ধরণের গুনাহ ও ভুল। আপনার করণীয় হলো:

১. তওবা ও ইসতিগফার করুন— আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করুন এবং পুনরায় এমন কথা না বলার প্রতিজ্ঞা করুন।
২. যাকে বলেছেন, তাকে বুঝিয়ে বলুন— যে আসলে জান্নাতের গ্যারান্টি শুধু আল্লাহ দেন, বান্দা তা দিতে পারে না। আপনি ভুল করে বলেছেন বলে জানিয়ে দিন।
৩. আকীদা সংশোধন করুন— নিজের ঈমানকে আরও মজবুত করুন। মনে রাখবেন, জান্নাতের আশা করা ভালো, কিন্তু কারো জন্য নিশ্চিতভাবে বলা শুধু আল্লাহরই কাজ।
৪. বেশি বেশি দোয়া করুন— আল্লাহ যেন আপনার এ ভুল ক্ষমা করেন এবং আপনাকে সঠিক পথে রাখেন।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার ঈমান চলে যায়নি (কারণ ভুল ছিল, ইচ্ছাকৃত নয়)।
  • তবে কথাটি গুনাহ ছিল। তাই তওবা করুন।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক কথা বলার ও সঠিক আকীদা রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.