একজন মেয়েকে অজান্তে অমাহরাম জামাইয়ের আইডি লিংক শেয়ার করায় গুনাহ হবে কি?

Family Life · Hanafi

Question No: 3158
Questioner: Sumaiya Siddika
Question Asked: 27 Jul 2026, 12:01 PM
Reviewed & Published: 27 Jul 2026, 12:09 PM
Views: 28
Tokens: 4,477
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

না বুঝে আমি একজন মেয়েকে কোনো নন মাহরামের আইডি লিংক শেয়ার কোরছি , যাকে লিংক দিচ্ছি উনি তার দূর সম্পর্কের জামাই হোন এখন তারা কথা বললে আমার কি গুনাহ হবে হলে আমার করনীয় কি

Answer

উত্তর

প্রশ্নকারী একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছেন—একজন অমাহরাম পুরুষের আইডি/লিংক একটি মেয়েকে শেয়ার করে দিয়েছেন। পরে জানতে পেরেছেন যে পুরুষটি মেয়েটির দূর সম্পর্কের জামাই (অর্থাৎ মেয়েটির সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্ক থাকলেও সে তার জন্য অমাহরাম—যেহেতু স্বামীর ভাই, বোনের স্বামী বা মেয়ের জামাই সবই অমাহরাম হয়)। এখন তারা কথাবার্তা বলছে। এমতাবস্থায় আপনার করণীয় ও গুনাহের বিষয় নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।


১. অমাহরামের সাথে যোগাযোগের বিধান

কুরআন ও হাদীসের আলোকে:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন:
    “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।” (সূরা নূর, ২৪:৩০)
  • আরও বলেন:
    “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।” (সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭:৩২)
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    “কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে না মিলে, কারণ তৃতীয়জন থাকে শয়তান।” (তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
  • অমাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে ফোন, চ্যাট বা ভিডিও কলেও একই নির্জনতার (খলওয়াত) বিধান প্রযোজ্য। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৫৬)

সুতরাং: অমাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে অনর্থক কথাবার্তা, বিশেষত যা আকর্ষণ বা ফিতনার জন্ম দেয়, তা হারাম


২. আপনার গুনাহের মূল্যায়ন

ক. লিংক শেয়ার করার সময় আপনার অভিপ্রায় (নিয়্যত)

  • আপনি যখন লিংক শেয়ার করেছিলেন, তখন আপনি জানতেন না যে ওই পুরুষ মেয়েটির অমাহরাম জামাই। আপনার নিয়্যত ছিলো শুধু পরিচিতি দেয়া, কোনো পাপের মাধ্যম তৈরি করা নয়।
  • ইসলামে আমলের মূল্য নিয়্যতের উপর। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১)
  • সুতরাং অজ্ঞতাবশত পাপের মাধ্যম তৈরি করলে মূলত আপনার গুনাহ হবে না। তবে শর্ত হলো—আপনার অন্তরে সন্দেহ বা খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।

খ. এখন তাদের কথা বলার পর আপনার দায়িত্ব

  • যেহেতু আপনি এখন জানতে পেরেছেন যে তারা অমাহরাম এবং তাদের কথাবার্তা হারাম হতে পারে, তাই আপনার উপর কর্তব্য হলো:
    1. তওবা ও ইস্তিগফার করা—যে কাজটি অনিচ্ছাকৃত হলেও পাপের দরজা খুলে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
    2. সরাসরি তাদের জানানো যে, তারা অমাহরাম, তাই তাদের কথাবার্তা উচিত নয়।
    3. লিংকটি মুছে ফেলা/ব্লক করা—যদি আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
    4. যদি তারা আপনার নিষেধ সত্ত্বেও কথা বলা চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক ছিন্ন করুন এবং নিজেকে দূরে রাখুন। কারণ আল্লাহ বলেন:
      “তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।” (সূরা বাকারা, ২:১৯৫)

গ. আপনি যদি এখন কিছু না করেন—তবে গুনাহ হবে

  • আপনি যদি জানার পরও নীরব থাকেন এবং তারা পাপ করতে থাকে, তাহলে আপনি পাপের অংশীদার হবেন।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, সে যেন নিজ হাতে তা পরিবর্তন করে; যদি না পারে তবে মুখে; যদি তাও না পারে তবে মনে, আর এটি হলো দুর্বল ঈমানের নিদর্শন।” (সহীহ মুসলিম)
  • তাই নীরব থাকা বা তাদের সুযোগ দেয়া আপনার জন্য আরও বড় গুনাহের কারণ হবে।

৩. আপনার করণীয় (সংক্ষেপে)

| কাজ | বিবরণ | |---------|------------| | তওবা করুন | আল্লাহর কাছে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। | | তাদেরকে জানান | পরিষ্কার ভাষায় বলুন: “আপনারা পরস্পর অমাহরাম, তাই কথা বলা জায়েজ নয়।” | | লিংক সরান | আপনার পক্ষ থেকে লিংক বা শেয়ার করা আইডি মুছে ফেলুন। | | সম্পর্ক কাটুন | যদি তারা না শোনে, তাহলে তাদের থেকে দূরে থাকুন। | | ভবিষ্যতে সতর্ক হোন | কাউকে কারও পরিচয় দেয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে তারা মাহরাম বা প্রয়োজনীয় সম্পর্কে আছে কিনা। |


৪. হানাফী ফিকহের নির্দেশনা

  • ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন: “অমাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে নিরর্থক কথা বলা বা দেখা হারাম, যদি ফিতনার আশংকা থাকে; আর যদি আশংকা না-ও থাকে, তবে তাও মাকরূহ।” (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৪)
  • মুফতী মuhammad শফী (রহ.) লিখেছেন: “ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অমাহরামের সাথে কথোপকথনও খলওয়াতের অন্তর্ভুক্ত; তাই তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।” (মা‘আরিফুল কুরআন, ৬/৪২৩)
  • মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অমাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে, সে পাপের অংশীদার হবে; যদি অনিচ্ছাকৃত হয়, তবে তা জানার সাথে সাথে সংশোধন করতে হবে।” (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৬৯)

৫. চূড়ান্ত ফতোয়া

  • আপনার অজ্ঞতাবশত লিংক শেয়ার করার জন্য গুনাহ হবে না (যদি নিয়্যত খারাপ না ছিল)।
  • কিন্তু এখন জানার পরও যদি আপনি নীরব থাকেন বা তাদের সুযোগ দেন, তাহলে গুনাহ আপনার উপর আসবে—কারণ আপনি পাপের মাধ্যম তৈরি করে দিয়েছেন এবং তা বন্ধ করেননি।
  • তাই এখনই তওবা করুন, তাদেরকে সরাসরি নিষেধ করুন, সংশোধন এর জন্য আপ্রান চেষ্টা করুন এবং নিজেকে দূরে সরিয়ে নিন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ভুল-ত্রুটি থেকে হেফাযত করুন এবং ক্ষমা করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.