ভবিষ্যতের কাজের জন্য মানত জায়েজ কি
Faith and Belief · Hanafi
Question
যদি ভবিষ্যতের কোনো কাজের ব্যাপারে বলা হয় যে অমুক কাজ হলে আমি মসজিদে এতে টাকা দিবো
বা এতে টাকা সদকা করবো
বা ৫০০ বার দরুদ পড়ে দিবো।
এটা কী জায়েজ?
Answer
উত্তর
মানত (নযর) করা ইসলামী শরী‘আতে জায়েজ, তবে তা শুধুমাত্র কোনো সাওয়াবের কাজের জন্য করতে হবে। আপনি ভবিষ্যতের কোনো কাজ শর্ত করে বলছেন: “যদি অমুক কাজ হয়, তাহলে আমি মসজিদে এত টাকা দেব, বা এত টাকা সদকা করব, বা ৫০০ বার দরূদ পাঠ করব” — এটি জায়েজ এবং সঠিক। তবে শর্ত পূরণ হলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
মানত করার নিয়ম ও শর্ত
১. মানত কেবল সাওয়াবের কাজের জন্য করতে হবে
যেমন: নামায, রোযা, সদকা, দরূদ পাঠ ইত্যাদি। গুনাহের কাজ (যেমন: কবর পূজা, মৃতের নামে কিছু দেওয়া) বা নিষিদ্ধ কাজের মানত করা জায়েজ নয় এবং তা পূর্ণ করাও জায়েজ নয়।
২. শর্ত আরোপ করা জায়েজ
ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে মানত পূর্ণ করার শর্ত করা যায়। যেমন: “আমার ছেলে পরীক্ষায় পাশ করলে ১০০ টাকা সদকা করব” — এটি জায়েজ। তবে মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে এ রকম ‘শর্ত’ দেওয়া প্রকৃতপক্ষে কোনো বাণিজ্য নয়; বরং বান্দা নিজেকে সাওয়াবের কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
৩. মানতের ভাষা
আপনি যেমন বলছেন: “অমুক কাজ হলে আমি মসজিদে এত টাকা দেব” — এটি সরাসরি মানতের ভাষা। আরবী বা বাংলা যেকোনো ভাষায় মানত করা যায়। তবে অন্তরে নিয়ত থাকলেও তা মানত গণ্য হয়, যদি মুখে উচ্চারণ করা হয়।
৪. মানত পূর্ণ করা ওয়াজিব
শর্ত পূরণ হলে মানত পূর্ণ করা ফরজ বা ওয়াজিব। যেমন, আপনি যদি বলেন: “যদি আমার কাজ হয়, তাহলে ১০ রাকাত নামাজ পড়ব”, এবং সেই কাজ হয়ে যায়, তাহলে ১০ রাকাত নামাজ পড়া আপনার ওপর ওয়াজিব হয়ে যাবে।
৫. বিশেষ সতর্কতা
- মানত করা মুস্তাহাব বা সুন্নত নয়; বরং অনেক সময় কষ্টকর হয়। তাই শুধু প্রয়োজন হলেই করা উচিত।
- মানতের টাকা বা সদকা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে গরিবকে দেওয়া যাবে।
প্রশ্নের উত্তর প্রদত্ত উদাহরণের আলোকে
| উদাহরণ | হুকুম | কারণ | |--------|-------|------| | “অমুক কাজ হলে ১০০ টাকা সাদকাহ করবো” | জায়েজ এবং পূর্ণ করা ওয়াজিব | উক্ত টাকা গরিব কাউকে দিয়ে দিতে হবে।
| “অমুক কাজ হলে ৫০০ টাকা সদকা করব” | জায়েজ | সদকা নেক কাজ |
দলিল
- কুরআন (সূরা আল-ইনসান ৭-৮): “তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেই দিনের ভয় করে যেদিনের অমঙ্গল সর্বব্যাপী হবে।” এখানে মানত পূর্ণ করার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
- হাদীস (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৭০২): রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের কাজে মানত করে, সে যেন তা পূর্ণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানীর কাজে মানত করে, সে যেন তা না করে (পূর্ণ না করে) এবং আল্লাহর নামে কসম ভঙ্গের কাফফারা দেয়।”
- হানাফী ফিকহ (রদ্দুল মুহতার, ৩/৭৩৬): “মানত করা জায়েজ, কিন্তু তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। শর্ত হলো, মানতটি সাওয়াবের কাজের হতে হবে।”
সতর্কতা
- মানত করার সময় মনে রাখবেন, আপনি আল্লাহর সাথে কোনো ‘চুক্তি’ করছেন না; বরং নিজের জন্য একটি ইবাদতকে ওয়াজিব বানাচ্ছেন।
সারকথা
মনে রাখবেন, মানত করা নিজেই ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং তা পূর্ণ করা ফরজ হয় যখন শর্ত পূর্ণ হয়। তাই সতর্কভাবে এবং শুধু সাওয়াবের কাজের জন্যই মানত করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।