কখন ইস্তেগফার করা বেশি ফজিলতপূর্ণ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3092
Questioner: Sanjida Afrin
Question Asked: 25 Jul 2026, 04:22 AM
Reviewed & Published: 25 Jul 2026, 04:27 AM
Views: 26
Tokens: 3,202
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফজরের আগের ইস্তেগফার আল্লাহ তায়ালার কাছে অধিক পছন্দনীয়।এখন কথা হচ্ছে ফজরের আগে বলতে কি ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরুর আগ পর্যন্ত নাকি আমি যখনই ফজরের নামাজ পড়বো তার আগের মুহূর্তটুকু?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত ‘ফজরের আগে ইস্তেগফার’ বলতে ফজরের ওয়াক্ত শুরুর পূর্বের সময় অর্থাৎ শেষ রাত (সাহরির সময়) থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বুঝানো হয়েছে। এটি ইস্তেগফার ও দু‘আ কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। কেউ যদি ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামাজ পড়ার পূর্ব মুহূর্তে ইস্তেগফার করে, তাহলে সেটিও ‘ফজরের আগে’ বলে গণ্য হবে না, বরং সেটি ফজরের ওয়াক্তের ভেতরকার ইস্তেগফার হিসেবে গণ্য হবে।

কুরআন ও হাদিসের দলিল:

  1. কুরআন:
    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ
    “এবং যারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৭)
    এখানে ‘আসহার’ (آسحار) অর্থ শেষ রাত, যা সুবহে সাদিকের পূর্বের সময়।

  2. হাদিস:
    রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ، يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟
    “আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতে শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলেন: কে আছ যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছ যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?” (বুখারি, মুসলিম)

  3. হানাফি ফিকহের মত:

    • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার শিষ্যগণ শেষ রাত (সাহরি পর্যন্ত) ইস্তেগফারের শ্রেষ্ঠ সময় বলেছেন।
    • বাদায়েউস সানায়ে-তে বলা হয়েছে: “আসহার অর্থ শেষ রাত, যা সুবহে সাদিকের পূর্ব মুহূর্ত।”
    • ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ আছে: “ফজরের পূর্বের ইস্তেগফার দ্বারা উদ্দেশ্য হল শেষ রাত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়।”

সঠিক ব্যাখ্যা:

  • “ফজরের আগে” বলতে সুবহে সাদিকের পূর্ব মুহূর্ত বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত (সুবহে সাদিক) হওয়ার আগ পর্যন্ত ইস্তেগফার করা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ।
  • যদি কেউ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর (সুবহে সাদিক) নামাজ পড়ার পূর্ব মুহূর্তে ইস্তেগফার করে, সেটি ‘ফজরের আগে’ নয়, বরং ‘ফজরের ওয়াক্তের শুরুতে’ ইস্তেগফার গণ্য হবে। এটি সঠিক নয়, কারণ কুরআন ও হাদিসে উল্লেখিত ‘আসহার’ শব্দটি শেষ রাতের জন্য নির্দিষ্ট।

উপসংহার:
ফজরের আগের ইস্তেগফার সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রযোজ্য। এই সময়টুকুই ইস্তেগফারের জন্য সর্বোত্তম। ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামাজের পূর্ব মুহূর্ত ইস্তেগফারের বিশেষ সময় নয়, বরং তখন জামাআতে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইস্তেগফারের ফজিলতপূর্ণ সময় বুঝে তা পালনের তাওফিক দান করুন।

সূত্র:

  • আল-কুরআন (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৭)
  • সহিহ বুখারি ও মুসলিম
  • বাদায়েউস সানায়ে (হানাফি ফিকহ)
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি)
  • বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.