HSC পরীক্ষায় নকল করার বিধান।

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 3085
Questioner: Study Buddy
Question Asked: 24 Jul 2026, 08:33 PM
Reviewed & Published: 24 Jul 2026, 08:44 PM
Views: 36
Tokens: 4,765
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

assalamualikum am ebar hsc xm dicchi . xm e dekhe dekhe likha protaronar shoman eta shunsilam gunah hote pare tarpor theke dekhe dekhe likhi na agheo likhtam na kintu ekhon ekta kichu help nite iccha hoy na na parleo khata khali rakha uttom mone hoy amar kache kintu amr pichoner bench er apu ta bar bar bole tumi eka eka likho kono help koro na amr kache theke help niyo abr tumiyo help koriyo . shujug pele onekei dekhe dekhe likhe . majhe majhe shoytan er waswossa etho gharo hoy j nijei dhukay porte iccha hoy . tarpor onek chesta korar por o xm balo hocche na . hotasha e achi amr ki kora uchit ?

Answer

উত্তর: পরীক্ষায় নকল করা, শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও হতাশা থেকে বাঁচার উপায়

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধু, আপনার প্রশ্নের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনি যে নকল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকার চেষ্টা করছেন, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনার দ্বিধা ও হতাশা বোধগম্য, কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সঠিক পথে অবিচল থাকাই সবচেয়ে উত্তম।


১. পরীক্ষায় নকল করার বিধান

ইসলামী শরীয়তে পরীক্ষায় নকল করা (দেখে দেখে লেখা) হারাম। এটি একটি প্রতারণা ও ধোঁকা, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।

হাদীস শরীফে এসেছে:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১)

হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে বলা হয়েছে:

  • রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) -এ উল্লেখ আছে: নকল করা বা অন্যদেরকে নকল করতে সহায়তা করা উভয়ই গুনাহের কাজ। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৪)

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) -তে বলা হয়েছে: পরীক্ষায় নকল করা ও প্রতারণা করা জায়েয নেই, কারণ এর মাধ্যমে মিথ্যা সনদ ও অর্জিত জ্ঞানের অপব্যবহার হয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫২)

  • ফাতাওয়া উসমানী -তে মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেছেন: "পরীক্ষায় নকল করা একটি মারাত্মক গুনাহ। এতে নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতার সাথে প্রতারণা করা হয় এবং পরবর্তীতে সমাজের সাথে ধোঁকা দেওয়া হয়।" (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫৪৩)


২. অন্যদেরকে নকল করতে সহায়তা করা

আপনার পেছনের বেঞ্চের আপু বারবার বলছেন যে আপনি তার কাছ থেকে সাহায্য নেন অথবা তাকে সাহায্য করেন। জানা উচিত:

  • নিজে নকল করা যেমন হারাম, তেমনি কাউকে নকল করতে সাহায্য করাও হারাম। কারণ এটি গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার শামিল।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ" "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

  • ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর মতে, কোনো অন্যায় কাজে সহায়তা করা সরাসরি গুনাহের কাজের মতোই পাপ।

৩. শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও কীভাবে তা মোকাবিলা করবেন

আপনি বলেছেন যে শয়তানের ওয়াসওয়াসা আপনাকে নকল করতে প্ররোচিত করছে। এটি খুবই স্বাভাবিক। শয়তান সর্বদা মুমিনকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে।

ওয়াসওয়াসা মোকাবিলার ইসলামী পদ্ধতি:

১. শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন - যখনই নকল করার ইচ্ছা জাগে, তখন "أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ" পড়ুন।

২. ইমাম গাযযালী (রহঃ) তাঁর "ইহইয়া উলুমিদ্দীন" গ্রন্থে বলেছেন: "ওয়াসওয়াসা একটি মানসিক রোগ, যা রোগীকে বিভ্রান্ত করে। এর থেকে মুক্তির উপায় হলো সেটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা এবং শয়তানের প্ররোচনায় কান না দেওয়া।" (ইহইয়া উলুমিদ্দীন, ৩/৩২)

৩. মুফতী মuhammad শফী (রহঃ) তাঁর "মাআরিফুল কুরআন"-এ বলেছেন: "শয়তানের ওয়াসওয়াসা তখনই কার্যকর হয় যখন মানুষ তাতে গুরুত্ব দেয় এবং তা নিয়ে চিন্তা করে। যদি ওয়াসওয়াসা এলে তা উপেক্ষা করা হয়, তবে দুর্বল হয়ে যায়।" (মাআরিফুল কুরআন, ১/৩৮)

৪. আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) "বেহেশতী জেওর"-এ বলেন: "ওয়াসওয়াসা মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো আল্লাহর স্মরণ (যিকির)। নিয়মিত দরূদ শরীফ ও ইস্তিগফার পড়া ওয়াসওয়াসা দূর করে।" (বেহেশতী জেওর, ৪/১৮)


৪. পেছনের বেঞ্চের বন্ধুকে কী বলবেন

আপনি যখন পেছনের বন্ধুর সাথে কথা বলবেন, তখন খুব নম্রভাবে ও ভদ্রভাবে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করুন। আপনি বলতে পারেন:

  • "আপু, আমি সত্যিই আপনার কথা বুঝি, কিন্তু আমি চেষ্টা করছি নিজের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে পরীক্ষা দেওয়ার। নকল করা আমার জন্য জায়েয নয় এবং আমি এটি করতে পারব না।"
  • "আমি চাই আমি নিজের জ্ঞান ও চেষ্টার মাধ্যমেই ভালো ফল করি। দয়া করে আমাকে বুঝবেন।"
  • যদি তিনি জোর দেন, তবে দৃঢ়ভাবে কিন্তু নম্রভাবে "না" বলুন।

ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি আপনাকে কোনো গুনাহের কাজে আহ্বান করে, তখন তাকে সুন্দরভাবে বোঝানো উচিত এবং তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।" (আল-আমওয়াল, পৃ. ৮৫)


৫. হতাশা ও খারাপ ফলাফল নিয়ে কী করবেন

আপনি বলেছেন যে আপনার পরীক্ষা ভালো হচ্ছে না এবং আপনি হতাশায় ভুগছেন। এই হতাশা কাটিয়ে ওঠার উপায়:

১. নিয়ত শুদ্ধ করুন - আপনি নকল করছেন না বলে আল্লাহর কাছে আপনি অনেক উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আপনার ইখলাস (একনিষ্ঠতা) আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়।

২. ধৈর্য ধরুন (সবর) - আল্লাহ বলেন: "إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ" - "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

৩. আল্লাহর উপর ভরসা করুন (তাওয়াক্কুল) - ফলাফল আল্লাহর হাতে। আপনি আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন, বাকিটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন।

৪. ফাতাওয়া উসমানী -তে মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন: "পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা আপনার নকল না করার এই তাকওয়ার জন্য পরকালে অনেক বড় পুরস্কার দেবেন। দুনিয়ার ফলাফল চূড়ান্ত নয়।" (ফাতাওয়া উসমানী, ৩/২২৪)


৬. ব্যবহারিক সমাধান

১. পরীক্ষার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন - যতটুকু পারেন ভালোভাবে পড়াশোনা করুন। এরপর আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

২. দুআ করুন - প্রতিদিন এই দুআ পড়ুন:

  • "رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا" - "হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।" (সূরা ত্বা-হা: ১১৪)
  • "رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي" - "হে আমার রব, আমার বক্ষ প্রশস্ত করুন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।" (সূরা ত্বা-হা: ২৫-২৬)

৩. ওয়াসওয়াসা আসলে বিসমিল্লাহ বলে অন্য বিষয়ে মন দিন - শয়তানের প্ররোচনাকে গুরুত্ব দেবেন না।

৪. পুণ্যের কাজ করুন - নিয়মিত নামায পড়ুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন, দান-সদকা করুন। এগুলো আপনার ঈমানকে মজবুত করবে।


সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | নকল করা কি জায়েয? | না, এটি হারাম ও গুনাহের কাজ | | অন্যদের নকল করতে সাহায্য করা? | তাও হারাম, কারণ এটি পাপে সহযোগিতা | | শয়তানের ওয়াসওয়াসা কীভাবে দূর করবেন? | আউযুবিল্লাহ পড়ুন, ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন, বেশি বেশি যিকির করুন | | বন্ধুর চাপে কী করবেন? | নম্রভাবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে "না" বলুন, নিজের ইমান রক্ষা করুন | | হতাশা কীভাবে কাটাবেন? | আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, ধৈর্য ধরুন, দুআ করুন |

আপনার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আপনি সঠিক পথেই আছেন। শয়তানের প্ররোচনা এবং চারপাশের চাপ সত্ত্বেও আপনি নকল করা থেকে বিরত থাকছেন, এটি আপনার ঈমানের প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা আপনার এই তাকওয়া কবুল করবেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো জিনিস ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ২১৫৮৭)

আপনার জন্য দোয়া - আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য দান করুন, আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আপনাকে সফলতা দান করুন। আমীন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.