আহলে হাদীস মত অনুসারে যাকাত ফরজ হওয়ার নেসাব ও শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত।
Zakat and Charity · Ahle Hadith / Salafi
Question
অন্যদিকে আমার মেয়ের জন্মের পর থেকে যত টাকা সালামী পেয়েছে সে টাকা জমিয়ে আমি আমার মেয়ের নামেই ১১ গ্রাম স্বর্ণ ও ২ ভড়ি রূপা কিনে রেখেছি। যেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে এই সম্পদের ওপরও কি যাকাত ফরজ হবে? যেহেতু ও এখনও সাবালিকা হয়নি।
Answer
উত্তর: আহলে হাদীস মত অনুসারে আপনার ও আপনার মেয়ের সম্পদের উপর যাকাত ফরজ নয়
আপনার নিজের স্বর্ণ ও রূপা
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য স্বর্ণের নেসাব হলো ২০ মিসকাল (প্রায় ৮৫ গ্রাম) এবং রূপার নেসাব হলো ২০০ দিরহাম (প্রায় ৫৯৫ গ্রাম)। আপনার কাছে আছে ২ ভড়ি স্বর্ণ (প্রায় ২৩.৩৩ গ্রাম) এবং ২ ভড়ি রূপা (প্রায় ২৩.৩৩ গ্রাম)। উভয়ই নেসাবের চেয়ে অনেক কম। তাই আপনার উপর যাকাত ফরজ নয়।
দলিল:
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "স্বর্ণে যাকাত নেই যতক্ষণ না তা বিশ মিসকালে পৌঁছে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৭৩; সনদ সহিহ)
- আর রূপায় যাকাতের নেসাব প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: "দুইশ দিরহামের কমে যাকাত নেই।" (সহিহ বুখারী, হাদিস: ১৪৪৭)
এক্ষেত্রে আপনি যদি এসব স্বর্ণ-রূপা ব্যবহার করেন (যেমন অলংকার) তবুও নেসাব পূর্ণ না হওয়ায় যাকাত ওয়াজিব নয়। শাইখ ইবনে বায (রহ.) বলেন: "নারীদের অলংকারের স্বর্ণ-রূপা যাকাতযোগ্য, তবে তা নেসাব পরিমাণ হতে হবে।" (মাজমু’ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৪/৯০)
আপনার মেয়ের স্বর্ণ ও রূপা (নাবালিকা অবস্থায়)
মেয়ের নামে ১১ গ্রাম স্বর্ণ (প্রায় ০.৯৪ ভড়ি) ও ২ ভড়ি রূপা আছে। এটিও নেসাবের নিচে (স্বর্ণের নেসাব ৮৫ গ্রাম, রূপার নেসাব ৫৯৫ গ্রাম)। তাই যাকাত ফরজ নয়।
নাবালিকার সম্পদে যাকাত:
প্রকৃত কথা হলো, নাবালিকার সম্পদেও যাকাত ফরজ, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর ধরে থাকে। অভিভাবকের দায়িত্ব তা আদায় করা। শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন: "নাবালক-নাবালিকার সম্পদে যাকাত ওয়াজিব, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়।" (আশ-শারহুল মুমতি’, ৬/২৬)
তবে যেহেতু আপনার মেয়ের সম্পদ নেসাবের নিচে, তাই যাকাত ফরজ নয়।