ইলেকট্রিক চুলায় ঘরে রান্না করা যাবে কিনা

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3042
Questioner: Umma Hafsa
Question Asked: 23 Jul 2026, 06:34 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 06:39 PM
Views: 9
Tokens: 3,156
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইলেকট্রনিক চুলায় সরকারি ছাত্রী হোস্টেল এ রান্না করা যাবে? ম্যামরা জানেন কিন্তুু সামনে না করেন

Answer

উত্তর

ইলেকট্রনিক চুলায় রান্না করার শরয়ী বিধান

ইলেকট্রনিক চুলা (হিটিং কয়েল, ইন্ডাকশন কুকটপ বা অন্যান্য) দ্বারা রান্না করা জায়েজ। বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করা ইসলামি শরীয়তে কোনো অপবিত্রতা বা নিষিদ্ধ বিষয় নয়। এটি আধুনিক যুগের একটি বৈধ প্রযুক্তি, যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা জায়েজ।

মূল হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে এ বিষয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং, যে কোনো হালাল উপাদান দিয়ে রান্না করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/২১৭; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫০৪)

সরকারি ছাত্রী হোস্টেলে রান্না করার বিধান

সরকারি ছাত্রী হোস্টেলে ইলেকট্রনিক চুলায় রান্না করার বৈধতা নির্ভর করে হোস্টেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়মাবলির ওপর।

১. যদি হোস্টেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে নিষেধ করেন: তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রান্না করা গুনাহ হবে। কেননা কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের (যেমন হোস্টেল সুপার বা ম্যাম) দেওয়া বৈধ নির্দেশনা মেনে চলা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃপক্ষেরও আনুগত্য করো।” (সূরা নিসা ৪:৫৯)

হানাফি ফকিহগণ বলেছেন, কোনো স্থানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার জন্য কোনো নির্দেশ দেন, তবে তা অমান্য করা জায়েজ নয়। (সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৪৭৪)

২. যদি কর্তৃপক্ষ জানেন এবং নীরবতা অবলম্বন করেন (অর্থাৎ সরাসরি বাধা দেন না): তাহলে তা অপ্রকাশিত অনুমতি হিসেবে গণ্য হতে পারে। হানাফি ফিকহে ‘সুকূত’ (নীরবতা) কখনো কখনো সম্মতি হিসেবে ধরা হয়, তবে শর্ত হলো যে সেটি বাধ্যবাধকতা বা ভয় ছাড়া হওয়া চাই। যদি ম্যামরা জানেন এবং সামনে না করেন (অর্থাৎ নীরব থাকেন), তাহলে এটাকে তাদের অনিচ্ছাকৃত অনুমতি (রিযা) ধরা যেতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরাসরি অনুমতি নেওয়াই উত্তম।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন:

“যদি কোনো বিষয়ে মালিক বা কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে এবং আপত্তি না করে, তবে তা অনুমতি হিসেবে গণ্য হয়, যদি না অন্য কোনো প্রমাণ বিপরীত নির্দেশ করে।” (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৪/৩৪৫)

সতর্কতা ও সুপারিশ

  • ইলেকট্রনিক চুলা ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অগ্নিকাণ্ড বা শর্টসার্কিটের ঝুঁকি থাকলে তা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • হোস্টেলের লিখিত বা মৌখিক নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত। যদি নিয়মানুযায়ী রান্না নিষিদ্ধ হয়, তবে তা করা জায়েজ নয়, এমনকি কেউ দেখলেও না।
  • কর্তৃপক্ষের নীরবতা যদি অব্যাহতি বা অবজ্ঞা না হয়, বরং সুবিধা করার মানসিকতা হয়, তবে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু যদি নীরবতা ভয় বা লজ্জায় হয়, তাহলে সেটা অনুমতি নয়।
  • উত্তম পন্থা হলো: ম্যাম বা কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি অনুমতি চেয়ে নেওয়া। তাহলে সন্দেহমুক্তভাবে রান্না করা যাবে।

চূড়ান্ত ফতোয়া

ইলেকট্রনিক চুলায় রান্না করা জায়েজ। তবে সরকারি ছাত্রী হোস্টেলে তা নির্ভর করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়মের ওপর। যদি কর্তৃপক্ষ জানেন এবং নীরব থাকেন, তবে তা জায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সরাসরি অনুমতি নেওয়াই উত্তম ও নিরাপদ।

(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫০৪; রদ্দুল মুহতার, ৪/৩৪৫; মাআরিফুল কুরআন, ২/৫৩৯; বাহিশতি জেওর, ৮/৪২)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.