প্রস্রাব বা বায়ু বের হওয়ার সমস্যা হলে করণীয় কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
ওযু ভেঙে যাওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনার বান্ধবীর জন্য ইসলামী সমাধান হলো "সাহিবে উযর" (معذور) বা ওযরগ্রস্ত ব্যক্তির বিধান প্রযোজ্য হবে। এর মানে, যদি তার এই সমস্যা এমনভাবে চলতে থাকে যে প্রতিটি ওয়াক্তের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওযু ধরে রাখা তার পক্ষে সম্ভব হয় না, তাহলে প্রতিটি ফরজ নামাজের জন্য শুধু একবার ওযু করলেই হবে। সেই ওযু অবস্থায় নামাজের মধ্যে বারবার বায়ু বের হলেও তার ওযু ভাঙবে না এবং পুনরায় ওযু করতে হবে না। শুধু তখনই ওযু ভাঙবে যখন অন্য কোনো ওযু ভঙ্গকারী কাজ ঘটবে (যেমন পেশাব-পায়খানা, রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি)।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হানাফি মাজহাব অনুযায়ী)
১. ওযু ভাঙার সাধারণ নীতি
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, শরীর থেকে বায়ু বের হলে ওযু ভেঙে যায়। কিন্তু বায়ু বের হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত (ইয়াকীন) হতে হবে। শুধু সন্দেহ বা অনুমানের ভিত্তিতে ওযু ভাঙবে না। (রদ্দুল মুহতার ১/২৯৩)
২. "সাহিবে উযর" হওয়ার শর্ত
যে ব্যক্তির এমন কোনো রোগ বা সমস্যা থাকে যার কারণে প্রতিটি ওয়াক্তের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পবিত্রতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না, তাকে সাহিবে উযর (معذور) বলা হয়। হানাফি ফিকহে এর শর্ত হলো:
- যদি কোনো ব্যক্তির এমন অবস্থা হয় যে সে যদি একটি ফরজ নামাজের পুরো সময় (ওয়াক্ত) ওযু ধরে রাখতে পারে না, তাহলে সে উযরগ্রস্ত বলে গণ্য হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/২১৫)
৩. আপনার বান্ধবীর জন্য বিধান
যেহেতু আপনার বান্ধবী প্রতিবার ওযু করার সময় বা নামাজের মধ্যে বায়ু বের হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন এবং এটি ক্রমাগত হতে থাকে, তাহলে তিনি উযরগ্রস্ত ব্যক্তির হুকুম পাবেন। এর জন্য বিধান হলো:
১. প্রতিটি ফরজ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর একটি করে ওযু করবেন।
২. সেই ওযু দিয়ে ঐ ওয়াক্তের ফরজ, সুন্নত ও নফল সব নামাজ পড়তে পারবেন।
৩. নামাজের মধ্যে বায়ু বের হলেও তার ওযু ভাঙবে না, যতক্ষণ না সে উক্ত ওয়াক্ত শেষ করে বা অন্য কোনো ওযু ভঙ্গকারী কাজ (যেমন পেশাব, পায়খানা, রক্ত বের হওয়া) ঘটে।
৪. তবে যদি অন্য কোনো নাপাকির মাধ্যমে ওযু ভেঙে যায়, তাহলে নতুন করে ওযু করতে হবে।
৪. বায়ু বের হওয়া বুঝতে পারা প্রসঙ্গে
আপনি লিখেছেন, "অনেক সময় বায়ুর শব্দ বা গন্ধ বোঝা যায় না, কিন্তু সে বোঝে যে বায়ু বের হয়ে গেছে।" হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বায়ু বের হওয়ার ব্যাপারে যদি নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকীন) হয়, তাহলে ওযু ভাঙবে। কিন্তু যদি নিশ্চিত না হয়ে শুধু সন্দেহ থাকে, তাহলে ওযু ভাঙবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩) তবে যেহেতু আপনার বান্ধবী উযরগ্রস্ত, তাই তাকে প্রতিটি ওয়াক্তের শুরুতে ওযু করে নামাজ পড়তে হবে। নামাজের মধ্যে বায়ু বের হলেও তিনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে তার ওযু ভাঙেনি।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
-
উযরগ্রস্ত হওয়ার শর্ত: যদি তার এই সমস্যা এত বেশি না হয় যে পুরো একটি ওয়াক্ত ওযু ধরে রাখতে পারে, তাহলে তিনি উযরগ্রস্ত হবেন না। বরং স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতিবার বায়ু বের হলে ওযু ভাঙবে। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী ("এরকম কন্টিনিউ হতেই থাকে" এবং "নামাজের মধ্যে অনেকবার হয়") মনে হচ্ছে তিনি উযরগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
-
ডাক্তারি পরামর্শ: দয়া করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এটি কোনো চিকিৎসাজনিত সমস্যা হতে পারে, যা নিরাময়যোগ্য।
হাদিস ও ফিকহি রেফারেন্স
-
ইবনে আবিদীন (রদ্দুল মুহতার) ১/২৯৩: তিনি বলেন, "যে ব্যক্তির কোনো ওযর আছে, যেমন প্রস্রাব আটকে থাকা বা বায়ু বের হওয়া ইত্যাদি, এবং সে এক ওয়াক্তের পুরো সময় ওযু ধরে রাখতে পারে না, তাহলে সে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য ওযু করবে এবং তা দিয়ে ঐ ওয়াক্তের সকল নামাজ পড়বে।"
-
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩: "যদি কোনো ব্যক্তির সর্বদা বায়ু বের হতে থাকে, তাহলে সে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য ওযু করবে।"
উপসংহার: আপনার বান্ধবী উক্ত নিয়ম অনুযায়ী উযরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবেন। তিনি প্রতিটি ফরজ নামাজের জন্য একবার ওযু করবেন এবং সেই ওযু দিয়ে সব নামাজ পড়বেন। নামাজের মধ্যে বায়ু বের হলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই, তার ওযু ভাঙবে না। আল্লাহ তাআলা তার সমস্যা দূর করুন এবং ইবাদতে সহজতা দান করুন। (আমীন)