নির্দিষ্ট কাউকে মান্নতের মাল দেয়ার নিয়ত করার পর তাকে খুজে পাওয়া না গেলে করণীয় কি?

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 301
Questioner: Ismam Akhter
Question Asked: 18 May 2026, 08:37 PM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 09:03 PM
Views: 61
Tokens: 2,653
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারোকাতুহ। (ইমারজেন্সি)
আমি আমার মেয়ের অসুস্থতার সময় মানত করেছিলাম যে ও সুস্থ হলে আমি ৫ হাজার টাকার মধ্যে একটা খাসি কাউকে দিয়ে দিব।তারপর আমি একজন এর কথা নির্দিষ্টভাবে চিন্তা করেছিলাম তাকেই দিব।কিন্তু এখন সে আর আমাদের এইখানে থাকে না অন্য এলাকায় চলে গেছে এই ক্ষেত্রে আমি মানত কিভাবে পূর্ণ করবো?
অন্য কোনো জরুরতমন কে কি দেয়া যাবে?
জাযাকাল্লাহু খইরন।

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রথমত: আপনার মানতটি ছিল শর্তসাপেক্ষ (معلّق) – আপনার মেয়ে সুস্থ হলে আপনি একটি খাসি (৫,০০০ টাকার মধ্যে) কাউকে দান করবেন। এখন মেয়ে সুস্থ হওয়ায় এই মানত পূর্ণ করা আপনার ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক) হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ত: আপনি যখন মানত করছিলেন, তখন আপনি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির কথা মনে মনে চিন্তা করেছিলেন, কিন্তু মুখে তা বলেননি। মূলত মানতের ক্ষেত্রে মুখের উচ্চারণই বিবেচ্য, মনে মনে চিন্তা করা যথেষ্ট নয়। তাই আপনি যাকে চিন্তা করেছিলেন, তাকে দেওয়া জরুরি নয়। তবে যদি আপনি মুখেও বলে থাকেন যে "অমুক ব্যক্তিকে দেব", তাহলে সেই ব্যক্তিকেই দেওয়া আবশ্যক হতো। কিন্তু যেহেতু আপনি শুধু মনে মনে চিন্তা করেছিলেন, তাই এখন আপনার জন্য বৈধ যে কোনো গরিব বা অভাবী ব্যক্তিকে একটি খাসি (৫,০০০ টাকা মূল্যের) দান করা। এটি পুরো মানত আদায় হবে।

তৃতীয়ত: আপনি চাইলে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে পারেন। যদি সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তাকে দেওয়া উত্তম। কিন্তু যদি না পাওয়া যায়, তাহলে অন্য কোনো গরিব ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েজ। এমনকি আপনি চাইলে একজন অভাবী আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে দিতে পারেন। তবে নিজের স্ত্রী, সন্তান বা পিতামাতাকে দেওয়া যাবে না, কারণ তাদের ভরণপোষণ আপনার ওপর আবশ্যক।

চতুর্থত: খাসির পরিবর্তে আপনি ৫,০০০ টাকা নগদ দান করলেও মানত আদায় হবে কি? হ্যাঁ, যদি খাসি কেনা কষ্টকর হয়, তাহলে সমমূল্যের টাকা দান করলেও মানত আদায় হবে। কিন্তু খাসি দেওয়াটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে সেটাই উত্তম।

মহান হানাফি ফকিহগণের মতামত:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, মানতের বস্তুটি যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত না হয়, তাহলে যে কোনো ফকীর-মিসকীনকে দেওয়া জায়েজ। (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৭৩৬)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে বলা হয়েছে: "যদি কেউ মানত করে যে 'অমুক ব্যক্তিকে একটি দিরহাম দেব', কিন্তু সেই ব্যক্তি মারা যায়, তাহলে তার উত্তরাধিকারীদের দেওয়া জরুরি নয়; বরং যে কোনো সাদকা করা যেতে পারে।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২১৭)

সারকথা:
আপনার মানতের বস্তুটি (খাসি) আপনি এখন অন্য কোনো গরিব ব্যক্তিকে দান করে মানত পূর্ণ করতে পারেন। যদি সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পাওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তাকে দেওয়া উত্তম। তবে জরুরি অবস্থায় অন্য কাউকে দেওয়াও বৈধ এবং মানত আদায় হবে। আল্লাহ তাআলা আপনার মানত কবুল করুন।

দলিল:

  • কুরআন: "তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যেদিনের অকল্যাণ হবে সুদূরপ্রসারী।" (সূরা আল-ইনসান: ৭)
  • হাদিস: "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করে, সে যেন তা পূর্ণ করে।" (সহিহ বুখারি, ৬৪২৩)
  • হানাফি ফিকহ: "মানতের বস্তু যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য উল্লেখ করা না হয়, তাহলে যে কোনো ফকীরকে দেওয়া জায়েজ।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩১২)

জাযাকাল্লাহু খইরান।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.