গোপনে বিয়ে, পরে স্ত্রী ও পরিবারের চাপে তালাক ও মোহরানা মাফের বিষয়ে প্রশ্ন।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এখানে যেই জিনিস টা আমার জানা দরকার সেটা হলো...ছেলেকে মেয়ের ফ্যামিলি থেকে এভাবে বলা হয়েছিল /অথবা মেয়ের পক্ষ থেকে ।যে তার থেকে মোহরানা দাবি করবে না তারা ,বিচ্ছেদ হোক।ছেলে যদিও মানসিক কষ্টের কারনে তালাক নামায় সাক্ষর করেছে,মানে বিষ য়টা এমন ছিল না যে মোহরানার টাকা দেওয়া লাগবে না তাই সে রাজি হয়েছে তালাক দিতে।যাই হোক এরপর আর মোহরানা সম্পর্কে কোনো পক্ষ কোনো কথা বলে নি।তবে ছেলের মনে প্রশ্ন হচ্ছে মোহরানা কি এভাবে মাফ হয়ে গেছে?
Answer
উত্তর:
মোহরানা (দেনমোহর) স্ত্রীর একটি সম্পূর্ণ আইনগত অধিকার। এটি বিবাহের মাধ্যমেই ওয়াজিব হয়ে যায় এবং তা ছাড় দেওয়ার বা মাফ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র স্ত্রীর নিজের। কোনোভাবেই স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও স্বেচ্ছায় মাফ না করা পর্যন্ত তা বাকি থাকে।
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায়:
- ছেলে মানসিক চাপে পড়ে তালাকের কাগজে সাক্ষর করেছে, কিন্তু তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তালাক দিয়েছে।
- মেয়ের পরিবার বা মেয়ে নিজে বলেছিল যে, “তোমার থেকে মোহরানা দাবি করব না, শুধু বিচ্ছেদ হও।”
- এরপর কোনো পক্ষই মোহরানা নিয়ে আর কোনো কথা বলেনি।
এক্ষেত্রে মোহরানা মাফ হয়েছে কি না, তা নির্ভর করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর:
১. স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও স্বেচ্ছায় মাফের প্রয়োজন
ইসলামী আইন অনুযায়ী, দেনমোহর স্ত্রীর সম্পূর্ণ অধিকার। এটা মাফ করার জন্য স্ত্রীর নিজের স্পষ্ট ইচ্ছা ও স্বেচ্ছায় ঘোষণা জরুরি। পরিবারের কেউ তার পক্ষ থেকে মাফ করতে পারে না, যদি না সে তাদেরকে এ ব্যাপারে অনুমতি দেয়।
ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার) তে এসেছে:
“মোহরানা স্ত্রীর অধিকার; তা মাফ করার অধিকার কেবল তারই। তার অভিভাবক বা অন্য কেউ তার অনুমতি ছাড়া মাফ করতে পারে না।”
(রদ্দুল মুহতার, ৩/৩৩৬)
এক্ষেত্রে ছেলেকে বলা হয়েছিল যে “মোহরানা দাবি করব না” – কিন্তু এটি যদি শুধু পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় এবং মেয়ে নিজে স্পষ্টভাবে মাফ না করে, তাহলে মোহরানা মাফ হয়নি।
২. ছেলের মানসিক চাপে সাক্ষর করা
ছেলের মানসিক চাপ ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও তালাক নামায় সাক্ষর করাটি তালাকের বৈধতাকে প্রভাবিত করে না (যেহেতু তালাক জোরপূর্বক বা অপারগ অবস্থায় দেওয়া হয়নি, বরং চাপের মুখে ইচ্ছা করেই সাক্ষর করেছে)। তবে মোহরানা মাফের বিষয়ে তার মানসিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং মেয়ের পক্ষ থেকে মাফের ইচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. কোনো পক্ষই পরবর্তীতে মোহরানা নিয়ে কথা বলিনি
মোহরানা মাফ হওয়ার জন্য স্পষ্ট ঘোষণা না থাকলে, নীরবতা বা কোনো আলোচনা না হওয়াকে মাফ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এটি স্ত্রীর অধিকার হিসেবে বাকি থাকে।
ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে উল্লেখ আছে:
“মোহরানা কেবল স্ত্রীর রেজামন্দি ও স্পষ্ট ইবারত ছাড়া মাফ হয় না। মৌনতা বা ইঙ্গিত যথেষ্ট নয়।”
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩২৯)
সিদ্ধান্ত:
প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ** স্ত্রী যদি নিজ ইচ্ছায় মোহরানা মাফ করে থাকে,সেক্ষেত্রে মোহরানা মাফ হয়েছে**। অথবা যদি স্ত্রীর সাথে কথা বলে মোহরানা না দেয়ার ভিত্তিতেই তালাক দেয়া হয়,সেক্ষেত্রে মোহরানা মাফ হয়েছে।
অন্যথায় মোহরানা মাফ হয়নি। এক্ষেত্রে সহবাস বা খালওয়াতে সহীহাহ এর পর তালাক দিয়ে থাকলে পূর্ণ মোহরানা দিতে হবে। সহবাস বা খালওয়াতে সহীহাহ এর পূর্বে তালাক দিয়ে থাকলে অর্ধেক মোহরানা দিতে হবে।
والله أعلم بالصواب