তালাক দিয়েছে কিনা,এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে আমি ঐ কথা বলছি বললে তালাক হবে কি??

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2902
Questioner: JOYNON Begum
Question Asked: 20 Jul 2026, 11:23 AM
Reviewed & Published: 20 Jul 2026, 11:38 AM
Views: 36
Tokens: 4,614
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে তোমাকে তালাক দিলাম এমন কোন কিছু বলেনি। কিন্তু পরে যখন আমি তাকে এই সম্পর্কে বারে বারে জিজ্ঞাসা করছি তখন রাগ করে বলছে আমি ঐ কথা বলছি মানে তালাক নাকি বলছে। কিন্তু পূর্বে উনি তালাক দিলাম এমন কিছু বলেনি।

এখানে কি তালাক হবে??

Answer

উত্তর: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনার স্বামী প্রথমে আপনাকে স্পষ্ট কোনো তালাকের শব্দ বলেননি। তবে আপনি বারবার জিজ্ঞাসা করায় তিনি রাগ করে বলেছেন: "আমি ঐ কথা বলছি" (অর্থাৎ তালাকের কথাটি বলছি)। এখন জানতে চান, এতে কি তালাক হয়েছে?

হানাফি ফিকহের বিস্তারিত সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রথম অবস্থা: স্বামী কোনো তালাকের শব্দ বলেননি

যেহেতু স্বামী প্রথমে “তোমাকে তালাক দিলাম” বা এর মতো স্পষ্ট (সরীহ) বা ইঙ্গিতবোধক (কিনায়া) কোনো শব্দ উচ্চারণ করেননি, তাই সেখানে কোনো তালাক হয়নি। এটি স্পষ্ট।

২. দ্বিতীয় অবস্থা: “আমি ঐ কথা বলছি” বলার পর তালাকের হুকুম

যখন স্বামী রাগ করে বললেন, “আমি ঐ কথা বলছি” (অর্থাৎ তালাকের কথাটি বলছি), তখন এটি একটি কিনায়া (ইঙ্গিতবোধক) শব্দ। কেননা তিনি সরাসরি “তালাক” শব্দ না বলে অন্য শব্দে তালাকের দিকে ইঙ্গিত করছেন।

হানাফি ফিকহে কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক হওয়ার জন্য নিয়ত (ইন্তিখাব) শর্ত। অর্থাৎ স্বামীর অন্তরে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেই তালাক পতিত হবে। নিয়ত না থাকলে তালাক হবে না। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়াত; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৪)

৩. রাগের অবস্থায় তালাকের হুকুম

স্বামী রাগের বশে কথাটি বলেছেন—এতে তালাকের হুকুম পরিবর্তিত হয় না, যতক্ষণ না তিনি সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন (যেমন: উন্মাদ বা অজ্ঞান)। সাধারণ রাগে তালাক দিলে তা কার্যকর হয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৮; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৩)

৪. এখন করণীয়

এই অবস্থায় স্বামীর নিয়তই চূড়ান্ত মানদণ্ড। আপনাকে তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে: “আপনি যখন ‘আমি ঐ কথা বলছি’ বলেন, তখন কি আপনার অন্তরে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল?”

সম্ভাব্য ফলাফল:

  • যদি স্বামী বলেন, “হ্যাঁ, আমি তালাক দিতে চেয়েছিলাম”, তাহলে একটি রাজ‘ঈ তালাক ঘটে গেছে। অর্থাৎ স্বামী ইদ্দতের (তিন মাসিক) মধ্যে ফিরিয়ে নিতে চাইলে পুনরায় বিবাহের প্রয়োজন ছাড়াই ফিরে আসতে পারবেন।
  • যদি স্বামী বলেন, “না, আমার নিয়ত তালাকের ছিল না; শুধু রাগে মুখ দিয়ে বেরিয়েছে”, তাহলে কোনো তালাক হয়নি। তার কথা বিশ্বাস করা হবে, কারণ নিয়তের ব্যাপারে সে-ই জানে।
  • যদি স্বামী দ্বিধায় থাকেন বা দ্বন্দ্ব হয়, তবে একজন স্থানীয় মুফতি বা ইসলামি বিচারকের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা জরুরি।

৫. কুরআন-হাদিসের আলোকে পরামর্শ

  • আল্লাহ তাআলা বলেন: “তালাক দুইবার; এরপর হয় ভালোভাবে রাখা, অথবা সৌজন্যের সাথে ছেড়ে দেওয়া।” (সূরা বাকারা: ২২৯)
  • এই আয়াতের আলোকে তালাক একটি গুরুতর বিষয়; অযথা আলোচনা বা রাগের বশে ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • আপনার স্বামীর উচিত, ভবিষ্যতে তালাকের শব্দ নিয়ে খেলা না করা এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ করা। আপনিও বারবার জিজ্ঞাসা করে তাকে উত্তেজিত না করার চেষ্টা করুন।

৬. চূড়ান্ত ফতোয়া

উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীর নিয়তের ওপরেই নির্ভর করছে তালাক হওয়া বা না হওয়া। আপনি যদি নিশ্চিত না হন, তাহলে স্বামীকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে সিদ্ধান্ত নিন। অথবা কোনো বিশ্বস্ত আলেমের কাছে গিয়ে পরিষ্কার করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.