হাজ্জীদের জিলহজ্জ মাসে নফল সিয়াম
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
যারা হজ্জে থাকবে তাদের জন্য জিলহজ্জ মাসে নফল সিয়াম রাখার বিধান সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।
হজ্জ পালনকারীদের জন্য জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৮ দিন রোজা রাখার বিধান কি?
হজ্জ পালনকারীদের জন্য আরাফার দিনের রোজা রাখার বিধান কি?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
হজ্ব পালনকারীদের জন্য জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৮ দিনের নফল সিয়ামের বিধি
জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৮ দিন (১ থেকে ৮ তারিখ) সিয়াম রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) – এটি হজ্বকারী ও অ-হজ্বকারী উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। তবে হজ্ব পালনকারীদের জন্য বিশেষ বিবেচনা হলো: যদি সিয়াম রাখতে গিয়ে হজ্বের আমল দুর্বল হয় (যেমন অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে তাওয়াফ, সায়ী ইত্যাদি করতে কষ্ট হয়), তবে সিয়াম না রাখাই উত্তম। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, হজ্বকারীর জন্য ৮ দিনের সিয়াম রাখা মাকরূহ নয়, তবে যদি দুর্বলতা সৃষ্টি করে তবে তা পরিত্যাগ করা উচিত। (রদ্দুল মুহতার, ২/১৫৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৫)
হজ্ব পালনকারীদের জন্য আরাফার দিনের সিয়ামের বিধি
আরাফার দিন (৯ জিলহজ্জ) সিয়াম রাখা অ-হজ্বকারীদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ (গত বছরের ও আগামী বছরের গুনাহ মাফ হয় – সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১১৬২)। কিন্তু হজ্ব পালনকারীদের জন্য আরাফার দিন সিয়াম রাখা মাকরূহ (নিকৃষ্ট বা অপছন্দনীয়)। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) আরাফাতের দিন সিয়াম রাখেননি এবং সাহাবাদেরকেও তা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনানু আবি দাউদ, হাদীস: ২৪৪০; তিরমিযী, হাদীস: ৭৫১) হজ্বকারীর জন্য আরাফার দিন সিয়াম না রাখা মাকরূহে তানযিহী (অপছন্দনীয়) – কারণ সিয়ামের কারণে দুর্বলতা এসে দুআ ও জিকিরে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। (আল-হিদায়া, ১/১২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯৬) হ্যাঁ, যদি কেউ এত শক্তিশালী হয় যে সিয়াম রাখলেও তার ইবাদতে কোনো অসুবিধা না হয়, তবে সে রাখত পানবে। এ দিন সিয়াম না রাখাই সুন্নাহ ও ইমামদের অভিমত।
সারসংক্ষেপ:
- জিলহজ্জের প্রথম ৮ দিন সিয়াম রাখা হজ্বকারী ও অ-হজ্বকারী উভয়ের জন্যই মুস্তাহাব। তবে হজ্বকারী যদি দুর্বলতার আশঙ্কা করে, তবে না রাখাই ভালো।
- আরাফার দিন (৯ জিলহজ্জ) হজ্বকারীদের জন্য সিয়াম রাখাও সুন্নাত ও ফজিলতপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হজ্বের সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।