বারান্দায় আসা বন্য কবুতর ও তার বাচ্চা খাওয়া কি জায়েজ?

Food and Drink · Hanafi

Question No: 2866
Questioner: Halima
Question Asked: 19 Jul 2026, 01:59 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 02:10 PM
Views: 31
Tokens: 2,891
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, আমার বারান্দায় কবুতর ২টা বাচ্চা ফুটাইছে। আমরা কবুতর পালিনা,কোথা থেকে এসে বাসা করে বাচ্চা দিল। বাচ্চাগুলো মোটামুটি বড় হয়েছে৷ এখন এটা খাওয়া জায়েজ হবে কি?

Answer

উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় এসব কবুতর যদি কাহারো মালিকানাধীন না হয়,বরং বন্য কবুতর হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার বাচ্চা খাওয়া জায়েজ (হালাল)। তবে শর্ত হলো সেগুলোকে শরয়ি নিয়মে (যবেহ) করতে হবে, অর্থাৎ জীবিত অবস্থায় গলা কেটে রক্ত বের করে দিতে হবে।

কারণ ও দলিল:

১. কবুতর হালাল পাখি:
ইসলামি শরিয়তে কবুতর হালাল পাখির অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে কবুতর সম্পর্কে কোনো নিষেধ নেই বরং সাধারণ হালাল পাখির মধ্যে এটি গণ্য। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে কবুতর খাওয়া জায়েজ
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩০৪; ফতোয়া আলমগিরি, ৫/২৯০)

২. অধিকার ও মালিকানা:
যেহেতু কবুতরগুলো বন্য অবস্থায় আপনার বারান্দায় এসে বাসা বেঁধেছে এবং আপনি এগুলো পালেন না, তাই এগুলো আপনার মালিকানাধীন নয়। তবে বন্য প্রাণী নিজ জায়গায় এলে তা ধরে যবেহ করলে তা হালাল হয়। বাচ্চাগুলোও একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
(ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৭৮; ফতোয়া উসমানি, ২/৪০৫)

৩. যবেহ করার শর্ত:
এগুলো খাওয়ার আগে অবশ্যই ইসলামি নিয়মে যবেহ করতে হবে (গলার কণ্ঠনালি ও রক্তনালি কাটা, বিসমিল্লাহ বলা, কিবলামুখী হওয়া সুন্নত)।
(হেদায়া, ৪/৩৩৪; বাহিশতি জেওর, ৩/১৮৮)

মাসআলা:

  • যদি কবুতরের বাচ্চা এতটাই ছোট হয় যে যবেহ করা সম্ভব নয় (যেমন ডিম থেকে সদ্য ফুটেছে), তাহলে সেগুলো খাওয়া জায়েজ নয়; বরং বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আপনি বলেছেন “মোটামুটি বড়” – তাই এটি যবেহ করার উপযুক্ত হলে খেতে পারেন।
  • কবুতরের ডিমও হালাল, তবে তা যবেহ সাপেক্ষে নয়; বরং ডিম সরাসরি খাওয়া যায় (কবুতরটি হালাল হওয়ায়)।

সতর্কতা:

  • বারান্দায় কবুতর আসা ও বাচ্চা দেওয়াকে আপনি নিয়মিত পালনের নিয়ত না করলে এটি জায়েজ। তবে যদি আপনি এগুলোকে নিজের তত্ত্বাবধানে রাখেন এবং খাওয়ান, তাহলে তা আপনার মালিকানাধীন হবে এবং তখন যবেহ জরুরি।
  • পশু-পাখির প্রতি দয়া ও ইনসাফের নির্দেশ ইসলামে আছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অযথা কষ্ট না দেওয়াই উত্তম।

সারকথা:
প্রশ্নে বর্ণিত কবুতর যদি কাহারো মালিকানাধীন না হয়, বরং বন্য কবুতর হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে তার বাচ্চা খাওয়া জায়েজ, শুধু শরয়ি পদ্ধতিতে যবেহ করতে হবে।

আল্লাহু আলাম (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.