নিজের উপর আল্লাহর গজব পড়ার কথা বলা বা শর্তসাপেক্ষে আত্মঅভিশাপ দেওয়া ইসলামে জায়েজ কি না?
Faith and Belief · Hanafi
Question
যদি কেউ বলে যে আল্লাহর গজব পড়ুক আমার উপর মানে নিজের উপর। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যদি বলে অমুক কাজটা যদি আমি করে থাকি তাইলে আল্লাহর গজব পড়বে আমার উপর। এটা বলা কী ঠিক?
Answer
উত্তর:
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে নিজের উপর আল্লাহর গজব কামনা করা বা শর্তসাপেক্ষে নিজের উপর গজব পড়ার কথা বলা ইসলামী দৃষ্টিতে জায়েজ নয় বরং নিষিদ্ধ। কারণ এটি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি অসম্মানজনক এবং আত্ম-অভিশাপের শামিল। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের বা অপর কারো উপর অভিশাপ দিতে নিষেধ করেছেন।
প্রমাণ:
১. হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَوْلَادِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ
"তোমরা নিজেদের উপর, নিজেদের সন্তানের উপর এবং নিজেদের সম্পদের উপর বদদোয়া করো না।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯)
এখানে "বদদোয়া" বলতে নিজের উপর গজব, অভিশাপ বা ক্ষতি কামনা করাকেই বোঝানো হয়েছে।
২. কুরআন: আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ
"তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছ, অথচ আল্লাহর নিকট তা গুরুতর।"
(সূরা আন-নূর: ১৫)
নিজের উপর "আল্লাহর গজব পড়ুক" বলা তুচ্ছ বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর নামের অপব্যবহার ও নিজের প্রতি জুলুম।
৩. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
ফকীহগণ বলেছেন: নিজের উপর বা অন্যের উপর গজব বা অভিশাপ কামনা করা মাকরুহ তাহরিমি (ঘৃণিত ও নিষিদ্ধ) এবং এটি গুনাহের কাজ। এমনকি কেউ যদি নিজের উপর "আল্লাহর গজব পড়ুক" বলে শপথ করে, তবে তা শপথ হিসেবেও গণ্য হবে না, বরং তাকে তওবা করতে হবে।
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৪২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/৩২৫; কিতাবুল ফিকহ আলা মাযহাবিল হানাফী, ২/৪৫৩)
৪. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: কোন মুসলমানের জন্য নিজের উপর অভিশাপ দেওয়া বা নিজেকে জাহান্নামী বলা জায়েজ নয়। যদি কেউ এমন বলে, তবে তার তওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক।
(আল-ইখতিয়ার, ৪/২২৫)
সংক্ষেপে:
- নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য "আমার উপর আল্লাহর গজব পড়ুক" বলা হারাম ও নিষিদ্ধ।
- একে "শর্তযুক্ত আত্মঅভিশাপ" বলা যায়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ।
- বরং নির্দোষ প্রমাণের জন্য কুরআন-হাদিসসম্মত পন্থা অবলম্বন করতে হবে, যেমন সত্য কথা বলা বা কাজীর কাছে বিচার চাওয়া।
- যারা এভাবে কথা বলে ফেলেছেন, তাদের উচিত তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার নাম ও গুণাবলীর সঠিক মর্যাদা বুঝার তাওফিক দিন। আমীন।