২ভড়ি স্বর্ণ এবং কিছু টাকা থাকলে কি যাকাত/কোরবানি ওয়াজিব হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 281
Questioner: sanjida mahmud
Question Asked: 18 May 2026, 11:45 AM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 11:59 AM
Views: 30
Tokens: 4,063
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন চাকরিজীবী নারী। আমার কাছে নিজের জমানো কিছু টাকা এবং দুই ভরির কাছাকাছি সোনা আছে, যার জন্য আমি ২-৩ বছর যাবত যাকাত এবং কোরবানি দিয়ে আসতেছি।
আমার স্বামীর প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যাংক লোন আছে, ঋণ সংক্রান্ত মামলায় সে এখন জেলে আছে। আমি তার দুইটা লোনের(২৮লক্ষ) জামিনদার। সে ঋন পরিশোধ করতে না পারায় আমাকে জেল পর্যন্ত খাটতে হইছে।
সে জামিনদার বানানোর সময় এইরকম বলে সিগনেচার নিয়েছে, ওয়াইফ সিগনেচার না দিলে লোন হবে না তাই আমার সিগনেচার লাগবে, এখানে আমার কোন রিস্ক নাই।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে শরীয়াহ্ অনুযায়ী তার ঋণের দায় কি আমার উপর বর্তাবে? আমার উপর কি যাকাত বা কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব না?
আমি কি আখিরাতে ঋণগ্রস্থ হিসেবে গণ্য হব?

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে শরীয়াহ্র দৃষ্টিকোণ থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা যাচ্ছে:

১. স্বামীর ঋণের দায় কি আপনার উপর বর্তাবে?

শরীয়াহর নিয়ম অনুযায়ী, স্বামীর ব্যক্তিগত ঋণের দায় স্ত্রীর উপর বর্তায় না, যদি না স্ত্রী নিজে সেই ঋণের জামিনদার বা সহ-ঋণগ্রহীতা হন। আপনি তাঁর দুটি লোনের (২৮ লক্ষ টাকা) জামিনদার হয়েছেন। তবে এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:

  • উক্ত লোনটি সুদী ব্যাংক লোন, যা ইসলামী শরীয়াহতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। হারাম কাজের জন্য জামিনদার হওয়াও নাজায়েয এবং সেই জামানত শরীয়াহতে বৈধ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৫:১২০; ফাতাওয়া উসমানী, ২:৪০০)
  • জামিনদারির সময় স্বামী আপনাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সই নিয়েছে যে, "এতে আপনার কোনো ঝুঁকি নেই"। এটি প্রতারণা ও ধোঁকা। শরীয়াহতে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া জামিনদারি বাতিল বা দুর্বল বলে গণ্য হতে পারে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩:৪৫০)
  • তবে আপনি যদি আদালতের রায়ে বা আইনগত বাধ্যবাধকতায় টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন, তবে সেটি জোরপূর্বক আদায় হিসেবে গণ্য হবে। আপনার নিয়ত যদি হারাম কাজে সহায়তা না করা হয়, তবে আপনি গুনাহগার হবেন না, বরং যতটুকু আদায় করবেন তা আপনার উপর ওয়াজিব বিবেচিত হবে না।

মোটকথা: শরীয়াহর দৃষ্টিতে স্বামীর ঋণের দায় আপনার উপর বর্তাবে না। আপনার জামিনদারি হারাম লেনদেনের জন্য হওয়ায় তা শরীয়তসম্মত নয়। তবে প্রশাসনিক বা আইনগত চাপে পড়লে আপনি বাধ্য হয়ে দিলে তা আপনার ইচ্ছাকৃত দায় নয়, বরং জবরদস্তি। আখিরাতে আপনি ঋণগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবেন না, তবে এই হারাম লেনদেনে জড়িত থাকার জন্য তওবা করা জরুরি।

২. আপনার উপর যাকাত ও কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব হবে কি?

যেহেতু স্বর্ণ এবং টাকা মিলিত হয়ে ৫২.৫ ভড়ি রূপার সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাই আপনার কেননা সর্বনিম্ন কোয়ালিটির রূপা তথা সনাতন রূপার ভড়ি ৩,৪৪১ টাকা। ৩,৪৪১৫২.৫ =১,৮০,৬৫২ টাকা হয়। অন্যদিকে স্বর্ণের ভড়ি (সনাতন) ১,৫৮,৬৫৯২=৩,১৭,৩১৮ টাকা। সুতরাং ২ ভড়ি স্বর্ণ এবং যৎসামান্য টাকা মিলিত হয়ে ৫২.৫ ভড়ি রূপার স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। তাই আপনার উপর যাকাত ফরয হবে।

  • কুরবানি: উপরের হিসাব অনুপাতে যেহেতু যাকাত ফরয হয়, তাই কুরবানিও ওয়াজিব হবে। স্বামীর ঋণের কারণে তা রহিত হবে না।

সুতরাং, আপনাকে নিজস্ব সম্পদের উপর যাকাত ও কুরবানির বিধান পালন করতে হবে।

৩. আপনি কি আখিরাতে ঋণগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবেন?

না, আপনি স্বামীর ঋণের জন্য আখিরাতে ঋণগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবেন না। কারণ ঋণগ্রস্তের দায়িত্ব তখনই হয়, যখন ব্যক্তি নিজে ঋণ গ্রহণ করে। জামিনদার ব্যক্তি শুধু দেনার দায়ভার বহন করে, কিন্তু সে নিজে ঋণী নয়। তবে যদি আপনি জেনেশুনে হারাম লেনদেনে সহায়তা করে থাকেন, তবে সে জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। হাদীসে এসেছে, "মুমিনের আত্মা তার ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ঝুলন্ত থাকে" (তিরমিযী) – এটি মূল ঋণগ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য। আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

পরামর্শ ও তওবা

১. সুদী ব্যাংক লেনদেন এবং জামিনদারি থেকে সম্পূর্ণরূপে তওবা করুন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন। ২. নিজের সম্পদের যাকাত যথাসময়ে আদায় করুন এবং কুরবানি ওয়াজিব হলে দিতে ভুলবেন না। ৩. স্বামীর ঋণের জন্য আপনি আইনগতভাবে বাধ্য হলে কর্তব্যরত অবস্থায় আদায় করুন, কিন্তু মনে রাখবেন এটি আপনার ইচ্ছাকৃত দায় নয়।

তথ্যসূত্র

  • আল-হিদায়া (৪:৩৬০) - কাফালার শর্তাবলী।
  • রদ্দুল মুহতার (৫:১২০) - হারাম কাজের জামানত বৈধ নয়।
  • ফাতাওয়া উসমানী (২:৪০০) - সুদী লোনের জামানত নাজায়েয।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৩:৪৫০) - প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া জামানত।
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১:১৮৪) - যাকাতের ক্ষেত্রে দায় কর্তনের নিয়ম।
  • মাআরিফুল কুরআন (সূরা বাকারা, আয়াত ২৭৫-২৮১) - সুদের হারাম।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.