বিয়ের জন্য বাবা-মাকে রাজি করাতে আমল করলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2806
Questioner: Mohammad Tawsif
Question Asked: 17 Jul 2026, 02:11 PM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 03:06 PM
Views: 47
Tokens: 5,443
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজনকে পছন্দ করি। এখন তার পরিবারের সবাই রাজি আছে। আমার পরিবারের সবাই রাজি। আম্মা রাজি, কিন্তু আব্বা রাজি নন। তিনি কেন রাজি নন, তারও কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা উত্তর দেন না।

আর আমাদের বাসায় আম্মার কোনো মতামতের গুরুত্ব নেই। আব্বা যা বলেন, সেটাই হয়।

এখন আমি যদি কোনো হুজুরের কাছে গিয়ে এমন কোনো তদবির, আমল বা দোয়া করাই,বা তাবিজ করাই যাতে আব্বা-আম্মা রাজি হয়ে যান—তাহলে ভবিষ্যতে কি কোনো সমস্যা হবে? অর্থাৎ, আমার বাবা-মায়ের কোনো ক্ষতি বা অকল্যাণ হবে কি?

তারা যদি রাজি থাকতেন, তাহলে বিয়েটা হয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবে ছোটবেলা থেকেই আমার কথার কোনো মূল্য নেই। সব সময় তাদের কথাই মানতে হয়েছে। এমনকি তাদের কথা না শুনলে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। তারা যেটা বলে সেটা নাকি করতে হবে

তাই জানতে চাই, যদি কোনো হুজুরের মাধ্যমে এমন কিছু করা হয় যাতে তারা রাজি হয়ে যান, তাহলে ভবিষ্যতে আমার বাবা-মায়ের কোনো ক্ষতি বা সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা আছে কি?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতি অনুযায়ী, আপনার আব্বা বিয়েতে রাজি নন, কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ দিচ্ছেন না। আপনি চান, কোনো হুজুরের মাধ্যমে তাবিজ, দোয়া বা তদবির করিয়ে আব্বা-আম্মাকে রাজি করাতে। এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান নিচে উল্লেখ করা হলো—

১. পিতার অনুমতি ছাড়া বিয়ে:

ইসলামি শরিয়তে নারীর জন্য পিতার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা জায়েয নয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নারীর বিবাহের জন্য পিতার সম্মতি আবশ্যক। তবে পিতা যদি অযৌক্তিকভাবে বাধা দেন এবং কোনো শরিয়তসম্মত কারণ না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে বিবাহের জন্য পিতার অনুমতি প্রয়োজন হলেও, মুসলিম সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পিতাকে বোঝানো বা মধ্যস্থতা করা যেতে পারে। তবে সরাসরি পিতার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করা নাজায়েয।

(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৫; ফাতাওয়া শামী, ৩/৫৫)

২. তাবিজ-দোয়া-তদবিরের বৈধতা ও ক্ষতি:

তাবিজ, দোয়া বা তদবির যদি কুরআন ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে হয় (যেমন—কুরআনের আয়াত দ্বারা তাবিজ, মাসনুন দোয়া পড়া, সাদকা ইত্যাদি), তাহলে তা জায়েয এবং তাতে পিতার কোনো ক্ষতি হবে না; বরং এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে যদি তা কুফরি, শিরকি বা অবৈধ কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে করা হয় (যেমন—যাদু-টোনা, জ্বিনের সাহায্য নেওয়া, অশ্লীল তাবিজ ইত্যাদি), তাহলে তা হারাম এবং পিতার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে বাবা-মার মন পরিবর্তনের জন্য বৈধ উপায় হলো—

  • দোয়া করা (বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়)।
  • সাদকা করা (দান করা)।
  • নিজের আচরণে বাবাকে সম্মান করা, তার মন বোঝার চেষ্টা করা।
  • কোনো সম্মানিত আলেম বা পরিবারের বড়দের মাধ্যমে বাবাকে বোঝানো।

এসব পদ্ধতিতে বাবা-মার কোনো ক্ষতি নেই বরং বরকত হয়।

(সূত্র: মা’আরিফুল কুরআন, ৮/৪৬২; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৩০)

৩. আপনার করণীয়:

  • আপনি চাইলে বৈধ উপায়ে (যেমন—হুজুরকে কুরআনের আয়াত বা মাসনুন দোয়া পড়ে ফুঁক দেওয়ার জন্য বলতে পারেন) তাবিজ-তদবির করতে পারেন। তবে শর্ত হলো—হুজুর যেন কোনো হারাম পদ্ধতি ব্যবহার না করেন।
  • বেশি বেশি দোয়া করুন—বিশেষ করে "رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ" (সূরা ফুরকান: ৭৪) এবং নবীজির শেখানো দোয়া "اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا" ইত্যাদি।
  • নিজে সক্ষম হলে আব্বাকে ভালোবেসে, সম্মান করে, নম্রভাবে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। হঠাৎ করে রাগ বা মনোমালিন্য সৃষ্টি না করে ধৈর্যের সাথে কথা বলুন।
  • আব্বা যদি পুরোপুরি অমত থাকেন এবং কোনো কারণ না বলেন, তাহলে আপনি দোয়া করতে থাকুন এবং সময়ের অপেক্ষায় থাকুন। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া জায়েয নয়, তবে আপনার বৈধ অধিকার বিয়ের ব্যাপারে পিতার অযৌক্তিক বাধা শরিয়তে সমর্থিত নয়। তাই ধৈর্য ও বুদ্ধির সাথে কাজ করুন।

৪. ভবিষ্যতের সমস্যা:

যদি বৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাহলে বাবা-মার কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বরং তাদের মন পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার এবং আপনার পরিবারের কল্যাণ হবে। কিন্তু যদি অবৈধ কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (যাদু-টোনা), তাহলে তা কবিরা গুনাহ এবং বাবা-মার মানসিক-শারীরিক ক্ষতি হতে পারে, পাশাপাশি আপনার বিবাহিত জীবনেও অশান্তি আসতে পারে।

উপসংহার:

তাই আপনি কোনো সম্মানিত, বিশুদ্ধ আকিদাসম্পন্ন হুজুরের কাছে কুরআন-সুন্নাহসম্মত তাবিজ বা দোয়া করাতে পারেন। তাতে বাবা-মার কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ। তবে সম্পূর্ণ বিষয়টি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রেখে করুন এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করতে থাকুন। আল্লাহ অন্তরকে নরম করে দিতে পারেন।

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.