হায়েয গণনার দিন

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2791
Questioner: Taslima Islam
Question Asked: 17 Jul 2026, 01:33 AM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 02:59 AM
Views: 49
Tokens: 6,167
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কয়েকবছর যাবৎ অনিয়মিত হায়েজ ৭/৮/৯/১০ এমন করে হয়। আবার কখনও ১০ দিনের বেশিও হয় হায়েজের দিনগুলোতে। এখন এটার হিসাব কিভাবে করবো হায়েয এবং ইস্তেহাজার?

Answer

উত্তর: অনিয়মিত হায়েজ ও ইস্তেহাজার হিসাব

প্রিয় প্রশ্নকারী বোন, আপনার সমস্যা বুঝতে পেরেছি। কয়েক বছর ধরে আপনার হায়েজের দিন সংখ্যা অনিয়মিত—কখনও ৭, ৮, ৯, ১০ দিন হয়, আবার কখনও ১০ দিনের বেশি হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এ অবস্থায় হায়েজ ও ইস্তেহাজার সঠিক হিসাব করার পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো। দয়া করে ধৈর্য ধরে সম্পূর্ণ উত্তর পড়ুন।


১. প্রথমে জেনে নিন: হায়েজ ও ইস্তেহাজার সংজ্ঞা (হানাফি মতে)

  • হায়েজ (মাসিক): ৩ দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী, গাঢ় কালো/লাল, পুরু ও তীব্র গন্ধযুক্ত রক্ত।
  • ইস্তেহাজা (অস্থায়ী রক্তস্রাব): ৩ দিনের কম বা ১০ দিনের বেশি রক্ত, অথবা পাতলা, হালকা রঙের (হলুদ, সবুজ) রক্ত। এটি রোগ হিসেবে গণ্য—এ অবস্থায় নামাজ, রোজা ইত্যাদি আদায় করতে হয়।

২. আপনার অবস্থা: "মুদতারিবা" (অনিয়মিত অভ্যাস)

যেহেতু আপনার হায়েজের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই (কখনও ৭, ৮, ৯, ১০, কখনও বেশি), তাই ইসলামি পরিভাষায় আপনি মুদতারিবা (অস্থির অভ্যাসওয়ালী) হিসেবে গণ্য। হানাফি ফিকাহে এ অবস্থার সমাধান ধাপে ধাপে নিন্মরূপ:

(ক) তাময়িজ (পার্থক্য) বের করার চেষ্টা করুন

প্রথমে দেখুন, আপনার রক্ত কি কখনো গাঢ় ও পুরু হয়, আর কখনো পাতলা ও হালকা হয়?

  • গাঢ়, কালো, পুরু ও দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত → হায়েজ (সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে)
  • পাতলা, হলুদ, সবুজ বা পানির মতো রক্ত → ইস্তেহাজা

👉 আপনি যদি স্পষ্টভাবে দিনগুলো চিহ্নিত করতে পারেন, তাহলে সেই নিয়মেই আমল করুন।
(উৎস: রদ্দুল মুহতার ১/২৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৬)

(খ) যদি তাময়িজ সম্ভব না হয়, তবে আপনার নিকটাত্মীয়ার অভ্যাস দেখুন

হানাফি ফিকাহ অনুসারে, তাময়িজ সম্ভব না হলে আপনাকে আপনার নিকটাত্মীয়দের (মা, বোন, ফুফু) হায়েজের অভ্যাস গ্রহণ করতে হবে। যদি তাদের অভ্যাস জানা থাকে, তাহলে সেটাই আপনার জন্য হায়েজের দিন সংখ্যা গণ্য হবে।
(উৎস: ফাতাওয়া উসমানী ২/২২৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/২১২)

(গ) যদি নিকটাত্মীয়ার অভ্যাসও অজানা থাকে, তাহলে ১০ দিন হায়েজ ধরুন

অনেক বড় হানাফি আলেমের ফতোয়া: যদি কোনো নারীর নির্দিষ্ট অভ্যাস না থাকে, তাময়িজও সম্ভব না হয় এবং আত্মীয়ার অভ্যাসও জানা না থাকে, তাহলে প্রথম ১০ দিন হায়েজ এবং বাকি দিনগুলো ইস্তেহাজা গণ্য করবেন।
(উৎস: বাহিশ্তি জেওর (হায়েজ অধ্যায়), মাওলানা আশরাফ আলী থানভী; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/৩৯; রদ্দুল মুহতার ১/২৮৬)

উদাহরণ: আপনি যদি ১২ দিন রক্ত দেখেন, তাহলে প্রথম ১০ দিন হায়েজ, শেষ ২ দিন ইস্তেহাজা।
সতর্কতা: হায়েজের সর্বনিম্ন ৩ দিন—যদি রক্ত মাত্র ২ দিন হয়, তবে তা ইস্তেহাজা।


৩. ইস্তেহাজার সময় করণীয়

ইস্তেহাজার দিনগুলোতে আপনি পুরোপুরি পাক অবস্থায় থাকবেন।

  • নামাজ আদায় করবেন, রোজা রাখবেন (রমজানে), কুরআন স্পর্শ করতে পারবেন।
  • প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন অজু করতে হবে (ওযু ভেঙে গেলে আবার অজু করবেন)।
  • ইস্তেহাজার দিনগুলোতে সহবাস করা জায়েজ (তবে হায়েজের সময় হারাম)।

৪. ভবিষ্যতে নিয়মিত করার পরামর্শ

  • একটি ডায়েরি রাখুন: প্রতিমাসে কত দিন রক্ত যায়, তার রং ও পুরুত্ব কেমন—লিখে রাখুন।
  • কয়েক মাস ধরে যদি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা (যেমন ৭ বা ৮ দিন) বারবার আসে, সেটাই আপনার নতুন অভ্যাস (আদত) হবে। তখন সেই অভ্যাস অনুযায়ী হায়েজ গণ্য করবেন।
  • মনে রাখবেন: হায়েজ কখনো ১০ দিনের বেশি হয় না। যদি ১০ দিনের বেশি রক্ত যায়, তাহলে তা ইস্তেহাজা (অসুখ) ধরা হবে।

৫. জরুরি সতর্কতা

  • আপনার উল্লেখিত "অনিয়মিত" অবস্থা যদি হঠাৎ করে (যেমন ওষুধ, মানসিক চাপ, বা শারীরিক সমস্যার কারণে) হয়, তাহলে একজন ইসলামি পণ্ডিতের শরণাপন্ন হন।
  • কোনো অবস্থাতেই নিজের ধারণার ওপর ভিত্তি করে নামাজ ছাড়বেন না।
  • সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান: আপনার এলাকার কোনো আলেম বা মুফতির কাছে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খুলে বলুন। তারা আপনার পূর্ণ বিবরণ শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

৬. উল্লেখযোগ্য হানাফি কিতাবের রেফারেন্স

| কিতাব | অধ্যায়/পৃষ্ঠা | |--------|---------------| | রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) | ১/২৮৪-২৮৬ (হায়েজ ও ইস্তেহাজার বিবরণ) | | ফাতাওয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া) | ১/৩৬-৪০ (মুদতারিবার বিধান) | | বাহিশ্তি জেওর (আশরাফ আলী থানভী) | হায়েজ অধ্যায় (অনিয়মিত হায়েজের সমাধান) | | ইমদাদুল ফাতাওয়া (থানভী) | ১/২১২-২১৫ | | ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী) | ২/২২৩-২২৫ (তাময়িজ ও আদতের গুরুত্ব) | | আল-হিদায়া (মারগানী) | ১/২২ (হায়েজের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা) |


পরিশেষে: আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও সঠিক বুঝ দান করুন। আপনার সমস্যা জটিল মনে হলেও হানাফি ফিকাহে এর স্পষ্ট সমাধান বিদ্যমান। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি নিজের মাসিক ডায়েরি করে কয়েক মাস পর্যবেক্ষণ করেন এবং তার পর একজন আলেমের কাছে যান।

যেকোনো প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন।
(জবাবটি হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের আলোকে প্রস্তুত)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.