বইটি পড়া জায়েজ হবে কি?
Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তরঃ
বিষাদ সিন্ধু একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস, যা কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা। এতে বাস্তব ইতিহাসের সাথে কল্পনার মিশ্রণ রয়েছে। ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যদি কোনো বই পড়তে চান, তবে তা অবশ্যই এমন হতে হবে যা জ্ঞানের দিক থেকে নির্ভরযোগ্য এবং আকীদা-বিকৃতি থেকে মুক্ত।
১. উপন্যাস বা কল্পকাহিনী পড়ার বিধান
সালাফী উলামাগণ সাধারণভাবে উপন্যাস, গল্প-উপন্যাস, বিশেষ করে যেগুলো ইসলামের ইতিহাসকে বিকৃত করে, সেগুলো পড়া থেকে সতর্ক করেছেন। কারণ এতে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত থাকে এবং মানুষ ভুল তথ্য গ্রহণ করতে পারে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ
"একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথে যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫)
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন:
"যে কিতাবে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত থাকে, তা পড়া নিষিদ্ধ, যদি না তার মধ্যে সত্য ও মিথ্যা চিহ্নিত করার জ্ঞান থাকে।"
(মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ১০/৬৪)
শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন:
"ইসলামের ইতিহাস নিয়ে লেখা উপন্যাসগুলো পড়া উচিত নয়, কারণ এগুলোতে অনেক মিথ্যা ও বিকৃতি থাকে। বরং নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ পড়া উচিত।"
(ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দরব, ২/৩৩০)
২. ভাষা শেখার উদ্দেশ্যে পড়া
ভাষা শেখার উদ্দেশ্যে হলেও, যদি বইটিতে শিরক, বিদ‘আত, মিথ্যা বা ইসলামের মর্যাদাহানিকর কিছু থাকে, তবে তা পড়া জায়েয হবে না। কারণ মাধ্যম নিষিদ্ধ হলে উদ্দেশ্যও নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:
"ভাষা শেখার জন্যও এমন বই পড়া জায়েয নয়, যাতে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত থাকে, বিশেষ করে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত হলে। বরং বিশুদ্ধ আরবি ভাষার বই বা উপকারী সাহিত্য পড়া উচিত।"
(আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান, ২/২৮৯)
৩. বিকল্প ব্যবস্থা
ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আপনি নির্ভরযোগ্য ইসলামী বই, যেমন:
- সাহীহ বুখারী, মুসলিমের অনুবাদ
- ইমাম ইবনু কাসীরের তাফসীর
- শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যার কিতাবসমূহ
- শাইখ ইবনু বায, ইবনু উসাইমীনের ফাতাওয়া সংকলন
এগুলো পড়তে পারেন। এতে ভাষা শিখার পাশাপাশি দ্বীনী জ্ঞানও বাড়বে।
সারসংক্ষেপ
বিষাদ সিন্ধু বইটি ভাষা শেখার জন্য পড়া জায়েয নয়, কারণ এতে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য থাকতে পারে। বরং বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ইসলামী বই পড়া উচিত। তবে যদি কেউ শুধু ভাষাগত দক্ষতার জন্য পড়তে চায়, এবং সে জানে যে এটি সম্পূর্ণ কল্পকাহিনী ও ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরযোগ্য নয়, এবং তার আকীদায় কোনো প্রভাব ফেলবে না, তাহলে কিছু আলিমের মতে সতর্কতার সাথে পড়া যেতে পারে, তবে উত্তম হলো তা পরিহার করা।
আল্লাহু আলাম।