বিয়ে করার পর অস্বীকার করার কারণে বিয়েতে কি কোনো প্রভাব পড়বে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 276
Questioner: Nowrin Nowal
Question Asked: 18 May 2026, 04:37 AM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 05:10 AM
Views: 31
Tokens: 2,200
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কেউ যদি বিয়ে করে অন্যদের বলে আমি বিয়ে করি নি বিয়ের আগে রুম ডেট করেছি, বিয়ের কাগজ ছিড়ে ফেলে, কোন দিন দায়িত্ব নিতে না চাই, তাহলে এই সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারি।

Answer

উত্তর প্রদান

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পবিত্রতা ও দায়িত্ব অস্বীকার করা একটি জঘন্য অপরাধ। এখানে স্বামী বিবাহের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে, বিবাহের কাগজ ছিঁড়ে ফেলছে, এবং দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য নিম্নে ইসলামী বিধান ও করণীয় উল্লেখ করা হলো।

১. বিবাহের বৈধতা ও স্বীকৃতি

ইসলামী শরী‘আতে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি, যা সাক্ষী ও ঘোষণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলা বা অস্বীকার করলে বিবাহ বাতিল হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত বিবাহের শর্ত (প্রস্তাব, গ্রহণ, সাক্ষী) পূর্ণ হয়েছে, ততক্ষণ বিবাহ বৈধ থাকবে। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৭৩)

যদি স্বামী প্রকাশ্যে বলে যে সে বিয়ে করেনি, তবে এটি তার মিথ্যা কথা হবে। স্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারে (যেমন সাক্ষী বা লিখিত দলিল), তাহলে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে।

২. স্বামীর দায়িত্ব অস্বীকার ও স্ত্রীর করণীয়

স্বামী যদি দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে, তাহলে স্ত্রী নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন:

ক. খোলা (Khula) বা তালাকের আবেদন:
স্বামী যদি ন্যায্য অধিকার (খোরপোষ, সহবাস, সহবাসের সময় নির্ধারণ) পালনে অস্বীকার করে, তাহলে স্ত্রী ইসলামী আদালতে বা স্থানীয় মুফতির কাছে খোলা বা তালাকের আবেদন করতে পারে। খোলায় স্ত্রী কিছু অর্থের বিনিময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/৪৪৫)

খ. ফাসখ (Faskh) অর্থাৎ আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বাতিল:
স্বামী বিবাহ অস্বীকার করলে এবং দায়িত্ব না নিলে, স্ত্রী ইসলামী বিচারকের (কাজী) কাছে বিবাহ বাতিলের আবেদন করতে পারে। কাজী যদি স্বামীর অস্বীকৃতিকে প্রমাণিত মনে করেন, তাহলে তিনি বিবাহ বাতিলের নির্দেশ দিতে পারেন। (সূত্র: ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/৪৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩/১৫০)

গ. স্বামীর মিথ্যা অস্বীকৃতির পরিণতি:
স্বামী যদি জেনেশুনে মিথ্যা বলে যে বিয়ে করেনি, তাহলে এটি একটি বড় গুনাহ। হাদীসে এসেছে, "যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে, তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।" (বুখারী, ২৬৭০) তাকে তওবা করতে হবে এবং স্ত্রীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

৩. ব্যবহারিক সমাধান

  • মুফতি/আলেমের সাহায্য নিন: স্থানীয় কোনো মুফতি বা ইসলামী পণ্ডিতের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করুন। তারা স্বামীকে শাসন করতে এবং দায়িত্ব বোঝাতে পারেন।
  • সাক্ষী ও প্রমাণ জোগাড় করুন: বিবাহের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের খুঁজে বের করুন। তাদের সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
  • আইনি সহায়তা: ইসলামী আইনের পাশাপাশি দেশীয় আইনেও বিবাহের দলিল সংরক্ষণের গুরুত্ব রয়েছে। কাগজ ছিঁড়ে ফেলার প্রমাণ থাকলে পুলিশে অভিযোগ করা যেতে পারে।
  • ধৈর্য ও দোয়া: স্বামী যদি দায়িত্ব নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে, তাহলে স্ত্রী নিজে সর্বোত্তম পন্থায় ধৈর্য ধারণ করবে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (সূরা বাকারা: ১৫৩)

৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • স্ত্রী যদি নিজে থেকে তালাক নিতে চায়, তাহলে খোলা বা ফাসখের মাধ্যমে তা সম্ভব। স্বামী রাজি না হলেও আদালত নির্দেশ দিতে পারে।
  • বিবাহের কাগজ ছিঁড়ে ফেলা বা ডেট বলে অপবাদ দেওয়া স্ত্রীর জন্য মানসিক অত্যাচারের শামিল। এতে স্ত্রী যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে স্বামীকে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৮৭)

করণীয় সারসংক্ষেপ

প্রথম ধাপ: স্বামীকে বোঝান ও সংশোধনের সুযোগ দিন।
দ্বিতীয় ধাপ: মুফতি বা আলেমের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করুন।
তৃতীয় ধাপ: ইসলামী আদালতে ফাসখ বা তালাকের আবেদন করুন।
চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনে থানায় অভিযোগ (দলিল ছিড়ে ফেলা ও মানসিক নির্যাতনের জন্য)।

আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি ন্যায়বিচারক।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.