কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ের সময় দোকান সরাসরি ব্যাংক থেকে পুরো টাকা নিলে এবং ব্যাংক তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কিস্তি নিলে তা কি জায়েয হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2709
Questioner: Rashed Khan
Question Asked: 14 Jul 2026, 06:03 PM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 06:07 PM
Views: 27
Tokens: 4,218
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

https://ifatwa.info/104268/
হুজুর উক্ত ফতোয়ায়ে আমি প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে একটি বিষয় আমি ক্লিয়ার করিনি। আজকে আমার মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে কথা বলতে গিয়ে জিনিসটা আমার মনে একটা সন্দেহ সৃষ্টি করল। আমি যে যে দোকান থেকে ফ্রিজ বা মালামাল কিনলাম এই দোকানের সাথে তো আসলে আমার কিস্তির চুক্তি টা হল না। দোকান ব্যাংক থেকে পুরা টাকাটা একবারই পাচ্ছে। পরবর্তীতে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ব্যাংক আমার থেকে কিস্তিতে সেই টাকাটা নিচ্ছে। তাহলে এটা কি জায়েজ হবে

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় করা জায়েজ নয়। কারণ এটি একটি সুদী (রিবা) লেনদেনের শামিল, যা ইসলাম স্পষ্টভাবে হারাম করেছে।

কারণ ও বিশ্লেষণ:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  • দোকান ব্যাংকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ টাকা একবারে পেয়ে যায়।
  • ব্যাংক তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আপনার কাছ থেকে কিস্তিতে সেই টাকা নিচ্ছে।
  • দোকানের সাথে আপনার কোনো কিস্তির চুক্তি হয়নি।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে যে কিস্তিতে টাকা দিচ্ছে, তা মূলত একটি সুদী ঋণ। কারণ ব্যাংক আপনাকে টাকা ধার দিচ্ছে এবং তার বিনিময়ে কিস্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ (সুদ) নিচ্ছে। ইসলামী শরিয়তে ঋণের উপর কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া সুদ (রিবা) হিসেবে গণ্য এবং তা হারাম।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।"
(সূরা আল-বাকারা, ২:২৭৫)

এছাড়া হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"সুদখোর, সুদদাতা, তার সাক্ষী ও লেখক সকলেই অভিশপ্ত।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৯৮)

হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি:
হানাফী ফিকহের প্রধান গ্রন্থসমূহে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো পণ্যের মূল্য নির্ধারণের পর যদি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি কিস্তির চুক্তি না হয়, বরং তৃতীয় পক্ষ (ব্যাংক) ঋণ দিয়ে কিস্তি আদায় করে, তাহলে তা সুদী লেনদেন বলে গণ্য হবে এবং জায়েজ নয়।
(রদ্দুল মুহতার, ৫/১৬২; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৩/২১৬)

আপনার জন্য করণীয়:
আপনি যদি পণ্যটি কিস্তিতে কিনতে চান, তাহলে নিম্নোক্ত শর্তগুলো মেনে চলুন:

  1. সরাসরি দোকানের সাথে কিস্তির চুক্তি করুন: দোকানের সাথে স্পষ্টভাবে চুক্তি করুন যে আপনি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করবেন।
  2. কিস্তির মূল্য নির্ধারিত থাকতে হবে: পণ্যের ক্রয়মূল্য ও কিস্তির সংখ্যা নির্ধারিত করে নিন। কোনো শর্তে অতিরিক্ত অর্থ (সুদ) যোগ করা যাবে না।
  3. ব্যাংকের মাধ্যমে সুদী লেনদেন এড়িয়ে চলুন: ব্যাংক যদি সুদী পদ্ধতিতে ঋণ দেয়, তবে তা গ্রহণ করা হারাম।

উপসংহার:
আপনার বর্তমান পদ্ধতিটি হারাম এবং তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আপনি যদি ইতোমধ্যে এ ধরনের লেনদেন করে ফেলেন, তবে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে এ থেকে দূরে থাকুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুদ (রিবা) থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন।
(আমীন)

রেফারেন্স:

  • কুরআন: সূরা আল-বাকারা (২:২৭৫)
  • হাদীস: সহীহ মুসলিম (১৫৯৮)
  • হানাফী ফিকহ: রদ্দুল মুহতার (৫/১৬২), ফাতাওয়া আলমগীরী (৩/২১৬), ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৩৮)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.