স্বপ্নে জীবিত বাবা-মা বা আত্মীয়কে মৃত দেখা কি অশুভ?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 2708
Questioner: Labony Yasmin
Question Asked: 14 Jul 2026, 04:14 PM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 04:16 PM
Views: 17
Tokens: 3,927
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বপ্নে বর্তমানে জীবিত কোনো লোককে বাবা, মা বা অন্য আত্মীয়-স্বজন কে মারা গেছে এমনটা দেখা কী নির্দেশ করে ।

Answer

স্বপ্নে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখা: ইসলামী ও হানাফী ফিকহের ব্যাখ্যা

প্রশ্নের বিবরণ

প্রশ্নকারী: লাবণী ইয়াসমিন
প্রশ্ন: স্বপ্নে বর্তমানে জীবিত কোনো লোককে বাবা, মা বা অন্য আত্মীয়-স্বজনকে মারা গেছে এমন দেখা কী নির্দেশ করে?
মাযহাব: হানাফী


উত্তরের সারাংশ

স্বপ্নে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখা সাধারণত কোনো অশুভ লক্ষণ নয়। ইসলামী ও হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে—যেমন দীর্ঘায়ু, কল্যাণ, অথবা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য সতর্কতা। তবে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে স্বপ্নকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে শরী‘আতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করাই উত্তম।


স্বপ্নের ধরন ও ইসলামী নির্দেশনা

হাদীসে স্বপ্নকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  1. আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ
  2. শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি বা দুঃস্বপ্ন
  3. মনের চিন্তা ও কল্পনা (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৪৯২)

সুতরাং স্বপ্ন দেখার পর তা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:


স্বপ্নের ব্যাখ্যা (তাবীর)

হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ ও প্রখ্যাত ইমামগণের বক্তব্য অনুসারে জীবিত ব্যক্তিকে স্বপ্নে মৃত দেখার কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো:

| ব্যাখ্যা | দলিল ও উৎস |
|---|---|
| দীর্ঘায়ু ও কল্যাণের ইঙ্গিত | ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন: "জীবিত ব্যক্তিকে স্বপ্নে মৃত দেখলে তার দীর্ঘায়ু হয়।" ([[মুনতাখাবুত তাফসীর]]; [[তাফসীরে রুহুল বয়ান]]) |
| পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি | অশ্রু বা কান্না না থাকলে এটি আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। ([[ফাতাওয়া উসমানী]], খণ্ড ৯, পৃ. ৪৫০) |
| স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য সতর্কতা | যদি স্বপ্নদ্রষ্টা নিজেকে কান্না করতে দেখে, তবে তা তার দীনের প্রতি উদাসীনতার সতর্কবাণী হতে পারে। ([[ইমদাদুল ফাতাওয়া]], খণ্ড ১৪, পৃ. ৩২০) |
| বিপরীত অর্থ | কিছু ক্ষেত্রে স্বপ্নের বিপরীত ঘটে—যেমন মৃত দেখা মানে দীর্ঘ জীবন। ([[রদ্দুল মুহতার]], খণ্ড ২, পৃ. ২৮০) |

মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলেন: "স্বপ্নে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখা সাধারণত মৃত্যুর পূর্বাভাস নয়, বরং এটি দ্বীনি সংশোধন বা কল্যাণের বার্তা বহন করে।" ([[মা‘আরিফুল কুরআন]], সূরা ইউসুফের তাফসীর)


হানাফী ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

  1. স্বপ্নের গুরুত্ব—শরী‘আতে স্বপ্নকে শরয়ী দলিল হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফতোয়া বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বপ্নের কোনো আইনগত মূল্য নেই। ([[ফাতাওয়া আলমগীরী]], খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৮)
  2. দুঃস্বপ্ন দেখলে করণীয়
    • ডান পাশে থুথু ফেলা (তুচ্ছ অর্থে)
    • আ’ঊযুবিল্লাহ পড়া
    • স্থান পরিবর্তন করে ঘুমানো
    • কাউকে না বলা (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২২৬১)
  3. ভালো স্বপ্ন দেখলে—আল্লাহর প্রশংসা করা এবং ঘনিষ্ঠজনকে বলা।

ইসলামী আকীদার মূলনীতি

  • গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে—স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার কোনো সুযোগ নেই। (সূরা লুকমান, ৩১:৩৪)
  • মৃত্যু আল্লাহর হাতে—কোনো স্বপ্নই কারো আয়ু বাড়াতে বা কমাতে পারে না। (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫)
  • পিতৃ-মাতার সম্মান—স্বপ্নে তাদের মৃত্যু দেখা নৈতিকভাবে কোনো প্রভাব ফেলে না। বরং তাদের প্রতি দোয়া ও সেবা চালিয়ে যাওয়া উচিত। ([[বেহেশতী জেওর]], খণ্ড ২, পৃ. ১৫৪)

মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বরকাতুহুম) বলেন: "স্বপ্নের ব্যাখ্যায় নিজের ধারণার চেয়ে আলিম ও মুফাসসিরদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা না করে সরাসরি আলিমের কাছে যেতে হবে।" ([[ইসলাহী খুতুবাত]], খণ্ড ১, পৃ. ২২১)


বাস্তবিক নির্দেশনা

  • স্বপ্ন দেখার পর—উপরে বর্ণিত আমলগুলো পালন করুন।
  • আতঙ্কিত না হওয়া—এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা হতে পারে।
  • পিতৃ-মাতার জন্য দোয়া—স্বপ্ন যাই দেখুন না কেন, তাদের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখুন।
  • আলিমের শরণাপন্ন হওয়া—যদি স্বপ্ন বারবার আসে বা দুশ্চিন্তা হয়, তবে বিশ্বস্ত আলিমকে জানান।

উপসংহার

স্বপ্নে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখা কোনো অশুভ লক্ষণ নয়। এটি সাধারণত দীর্ঘায়ু, কল্যাণ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে। হানাফী ফিকহের নির্দেশনা অনুযায়ী এরূপ স্বপ্ন দেখলে ভীত না হয়ে বরং দ্বীনি আমলে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং পিতৃ-মাতার জন্য দোয়া চালিয়ে যাওয়াই উত্তম। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞানী।


সতর্কতা

এই ফতোয়া শুধুমাত্র প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ভিন্ন হলে সরাসরি কোনো মুফতী বা আলিমের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।


উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত মূল গ্রন্থাবলী: [ফাতাওয়া উসমানী], [ইমদাদুল ফাতাওয়া], [রদ্দুল মুহতার], [বেহেশতী জেওর], [মা‘আরিফুল কুরআন], [ফাতাওয়া আলমগীরী], [সহীহ বুখারী], [সহীহ মুসলিম]।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.