ইসতেহাজা অবস্থায় নামাজ পড়ার নিয়ম কি? হায়েযের পর রক্ত আসলে নামাজ হবে কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2689
Questioner: MD AL IMRAN
Question Asked: 14 Jul 2026, 10:01 AM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 10:16 AM
Views: 71
Tokens: 5,293
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,

একজন মেয়ের সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে হায়েয থেকে পবিত্র হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি প্রায় এক মাস থেকে তিনার ইসতেহাজা চলতেছে। এটা গতো কয়েকমাস থেকে নিয়মিত হচ্ছে।

ধরণটা এমন যে শুধু প্রসাবের সাথে কয়েক ফোটা ব্লাড আসে। এমনি চলা ফেরা বা সাধারণ অবস্থায় আসে না।

এমতাঅবস্থায় তার নামাজ পড়ার ধরন বা বিধান বা হুকুম কি হবে?

দয়া করে যদি জানাতেন খুবই ভালো হতো।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত মেয়েটির অবস্থা ইসতেহাজা (استحاضة)-এর অন্তর্ভুক্ত। হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, ইসতেহাজার রক্ত হায়েযের রক্তের মতো নয়; বরং এটি একটি রোগ বা শারীরিক জটিলতা, যা নাপাকি সৃষ্টি করে না। তাই এ অবস্থায় নামাজ, রোজা, কুরআন তেলাওয়াত, মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি সব ইবাদত করা জায়েজ। যেহেতু তার শুধু প্রসাবের সাথে কয়েক ফোটা ব্লাড আসে। এমনি চলা ফেরা বা সাধারণ অবস্থায় আসে না। সুতরাং নামাজের মধ্যেও যেহেতু ব্লাড আসেনা,তাই তার নামাজ আদায়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়,অযু ভেঙ্গে যাওয়ার কথা নয়।

তাই সে সাভাবিক সুস্থ মানুষের মতোই নামাজ আদায় করবে।

গুরুত্বপূর্ণ হুকুম:

ইসতেহাজার পরিচয়:

  • হায়েযের স্বাভাবিক মেয়াদ (সাধারণত ৭ দিন) পার হওয়ার পর যদি রক্ত চলতে থাকে, তাহলে তা ইসতেহাজা বলে গণ্য হবে।
  • মেয়েটির অভ্যাস অনুযায়ী, প্রথম ৭ দিন হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। এরপর থেকে পুরো মাসই ইসতেহাজা।
  • যেহেতু শুধু প্রসাবের সাথে কয়েক ফোটা রক্ত আসে, সাধারণ অবস্থায় আসে না, সেটিও ইসতেহাজা।

রোজা ও কুরআন তেলাওয়াত:**

  • রোজা রাখা যাবে এবং কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা জায়েজ (হায়েযের সময় যেমন নিষিদ্ধ, তা নয়)।
  • তবে কুরআন স্পর্শ করার জন্য অজু থাকা জরুরি।

ইসতেহাজার সময়সীমা:

  • যদি কয়েক মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকে, তবে প্রত্যেক মাসে ১০ দিনের বেশি রক্ত আসলে তা ইসতেহাজা। হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী:
    • প্রথম ১০ দিন (অভ্যাস ৭ দিন হলেও) হায়েয গণ্য হবে যদি রক্ত টানা আসে।
    • কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে "প্রায় এক মাস থেকে রক্ত আসছে" - তাই শুরুতে ৭ দিন হায়েয, বাকি দিন ইসতেহাজা।
  • মেয়েটি যদি নিশ্চিত না হয় কখন ইসতেহাজা শুরু হয়েছে, তাহলে সে তার অভ্যাস (৭ দিন) অনুযায়ী আমল করবে এবং ৭ দিন পরেই পবিত্র মনে করে নামাজ শুরু করবে।

প্রয়োজনীয় সতর্কতা:

  • প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করার সময় ভালো করে ধুয়ে নেবে এবং প্রসাবের সাথে রক্ত আসলে সেটি পবিত্রতা নষ্ট করে। তাই অজুর পূর্বে স্থানটি ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (শামী): ১/২৯২-২৯৪ (ইসতেহাজার বিধান)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/৪১ (ইসতেহাজায় অজু ও নামাজ)
  • বেহেশতি জেওর: পৃষ্ঠা ১০২-১০৫ (মাসয়ালা নং ১-১০)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/১৯১ (ইসতেহাজার হুকুম)

সারসংক্ষেপ:
প্রশ্নে উল্লেখিত মেয়েটির অবস্থা ইসতেহাজা (استحاضة)-এর অন্তর্ভুক্ত। হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, ইসতেহাজার রক্ত হায়েযের রক্তের মতো নয়; বরং এটি একটি রোগ বা শারীরিক জটিলতা, যা নাপাকি সৃষ্টি করে না। তাই এ অবস্থায় নামাজ, রোজা, কুরআন তেলাওয়াত, মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি সব ইবাদত করা জায়েজ। যেহেতু তার শুধু প্রসাবের সাথে কয়েক ফোটা ব্লাড আসে। এমনি চলা ফেরা বা সাধারণ অবস্থায় আসে না। সুতরাং নামাজের মধ্যেও যেহেতু ব্লাড আসেনা,তাই তার নামাজ আদায়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়,অযু ভেঙ্গে যাওয়ার কথা নয়।

তাই সে সাভাবিক সুস্থ মানুষের মতোই নামাজ আদায় করবে।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.