অনিচ্ছাকৃত তালাকের শব্দ উচ্চারণ ও জাদু/ওয়াসওয়াসার প্রভাবে তালাকের হুকুম।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এরপরদিন আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম জোরে জোরে তালাক বলার জন্য এবং এই সময়টায় আমি মানুষের ক্ষতি বা জাদু দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম এবং দাদা তা একটা বিশেষ মাধ্যমে ধরতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেন।
এরপর আরেকদিন মাগরিবের নামাজ পড়ে হুট করে শুধু জিহবা নড়ে উঠে তালাক বলে। কিন্তু ঠোঁট ওইদিন নড়ে নি। আমার কনো নিয়ত বা ইচ্ছাই ছিল না তালাকের কারণ স্ত্রীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক।
এরপরদিন আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম জোরে জোরে তালাক বলার জন্য এবং এই সময়টায় আমি মানুষের ক্ষতি বা জাদু দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম এবং দাদা তা একটা বিশেষ মাধ্যমে ধরতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেন।
এরপর আরেকদিন মাগরিবের নামাজ পড়ে হুট করে শুধু জিহবা নড়ে উঠে তালাক বলে। কিন্তু ঠোঁট ওইদিন নড়ে নি।
এরপর আরেক রাত্রে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে ঘুমানোর আগে বলে ফেলি আমার অমুক বন্ধু ভল আছে তমুক বন্ধু ভাল আছে ওইদিকে তুমি তোমার বৌরে দিনে তালাক দাও ১৪ বার যা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত কথা এবং নিজেকে বুঝানো এর ক্ষেত্রে। যে সবাই ভাল আছে তুমি কেন এসব করবে
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণিত ঘটনা ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি:
প্রথম ঘটনা:
আপনি ব্যাংকে কাজ করার সময় প্রচুর তালাকের চিন্তা আসে এবং ৪/৫ ঘন্টা ধরে আপনি দু‘আ পড়তে থাকেন এবং কাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে আপনার জিহবা ও ঠোঁট নড়ে ওঠে ‘তালাক’ বলে ফেলেন, কিন্তু ‘দেব’ শব্দটি বলার আগেই আপনি বাস্তবতায় ফিরে আসেন এবং শরীর ঝাড়া দিয়ে বলেন, "আমি আমি এ সব কী বলতেছি"।
- হুকুম: যেহেতু আপনার কোনো নিয়ত বা ইচ্ছা ছিল না, বরং আপনি মানসিক চাপ, ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ-প্রবণতা) এবং জাদু/ক্ষতি দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন (যা আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন এবং দাদা তা শনাক্ত করে চিকিৎসা দিয়েছেন), তাই এটি একটি অনিচ্ছাকৃত, জোরপূর্বক (ইকরাহ) ও মানসিক অস্থিরতার ঘটনা।
- হানাফি ফিকহের মূলনীতি: “তালাক কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন তা ইচ্ছা ও ইরাদার সাথে উচ্চারিত হয়।” (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫২)
- আপনি শব্দও শুনতে পাননি বলে উল্লেখ করেছেন, তাই এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।
দ্বিতীয় ঘটনা:
মাগরিবের নামাজের পর হুট করে শুধু জিহবা নড়ে ওঠে ‘তালাক’ বলে ফেলেন, কিন্তু ঠোঁট নড়ে নি এবং কোনো শব্দ হয়নি।
- হুকুম: ঠোঁট না নড়া এবং শব্দ না হওয়ার কারণে এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ তালাকের জন্য শব্দ উচ্চারণ করা আবশ্যক (শারহু মা‘আনিল আছার, ৩/৩৪৩)।
তৃতীয় ঘটনা:
বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় ঘুমানোর আগে আপনি বলেন:
“অমুক বন্ধু ভাল আছে, তমুক বন্ধু ভাল আছে, ওইদিকে তুমি তোমার বৌকে দিনে তালাক দাও ১৪ বার”—এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং নিজেকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে।
- হুকুম: যেহেতু আপনি এটি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেননি, বরং বন্ধুদের সাথে সাধারণ কথাবার্তায় উল্লেখ করেছেন এবং তা অনিচ্ছাকৃত, তাই এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩১২)
সারসংক্ষেপ:
আপনার উপরোক্ত কোনো ঘটনাতেই তালাক কার্যকর হয়নি। আপনার স্ত্রী আপনার সাথে বৈধভাবে বিবাহিত ও সম্পর্ক বহাল রয়েছে।
পরামর্শ:
১. ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে নিয়মিত ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং সূরা নাস, ফালাক পড়ুন।
২. মানসিক চিকিৎসা নিন অথবা কোনো অভিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করে জাদু/ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হোন।
৩. স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখুন এবং এ নিয়ে অযথা চিন্তা করবেন না।
৪. যদি আবারও অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ দিয়ে তালাকের শব্দ বের হয়, তবে সাথে সাথে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ে এড়িয়ে যান।
আল্লাহ তাআলা আপনার ওয়াসওয়াসা দূর করে দিন এবং আপনার বিবাহকে সুদৃঢ় করুন।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, বেহেশতি জেওর)
প্রযোজ্য সূত্র:
- রদ্দুল মুহতার: ৩/২৫২-২৫৩
- ফাতাওয়া উসমানী: ২/৩১২
- শারহু মা‘আনিল আছার: ৩/৩৪৩
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/৩৮০