রাগান্বিত বা ঝগড়ার সময় নিয়ত ছাড়া কেনায়া শব্দ বললে কি তালাক হয়?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
268
Questioner:
Habiba Khanam
Question Asked:
18 May 2026, 12:22 AM
Reviewed & Published:
18 May 2026, 12:57 AM
Views:
31
Tokens:
3,418
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
রাগান্বিত অবস্হায় বা ঝগড়ার সময় নিয়ত ছাড়া কেনায়া শব্দ বললে কি তালাক হয়? যেমন চলে যাও, তুৃমার সাথে সংসার করব না,তুৃমার মত বউ লাগবে না,আরেকটা কর গা বিয়ে এভাবে বললে কিন্তু নিয়ত ছাড়া এমনিতে রাগে
Answer
উত্তর: রাগান্বিত অবস্থায় নিয়ত ছাড়া কেনায়া শব্দে তালাকের বিধান
প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার:
রাগের মাথায় বা ঝগড়ার সময় স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে: "চলে যাও", "তোমার সাথে সংসার করব না", "তোমার মত বউ লাগবে না", "আরেকটা কর গা বিয়ে" – কিন্তু এসব বলার সময় তার তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত (ইচ্ছা) না থাকে, তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে?
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
তালাকের শব্দ দুই প্রকার:
- সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যেমন "তালাক", "ছাড়" ইত্যাদি। এগুলো বললে নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়।
- কেনায়া (আশুঙ্গিক/অস্পষ্ট) শব্দ: যেমন "তুমি মুক্তি", "যাও", "আমার আর দরকার নেই" ইত্যাদি। এগুলোর তালাক হতে গেলে নিয়ত বা এমন পরিস্থিতি (কারিণা) থাকতে হবে যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে স্বামী তালাক দিতে চেয়েছে।
হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
- "রদ্দুল মুহতার" (৪/৫০০): কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য তিনটি শর্তের একটি জরুরি:
- (ক) স্বামীর নিয়ত থাকা,
- (খ) শব্দটি তালাকের জন্য বহুল প্রচলিত হওয়া,
- (গ) কথা বলার সময় এমন পরিস্থিতি (মারামারি, ঝগড়া, বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ) যা স্পষ্ট করে যে তালাকের ইচ্ছা ছিল।
- "ফাতাওয়া আলমগীরী" (১/৩৭১): "যদি স্বামী স্ত্রীকে 'যাও' বলে কিন্তু তার নিয়ত তালাকের না হয়, তবে তালাক হবে না, যদি না সেখানে অন্য কোনো কারিণা থাকে।"
- "ইমদাদুল ফাতাওয়া" (২/৪৩৮-৪৩৯): "রাগের অবস্থায় বলা কেনায়া শব্দে তালাক তখনই হবে যখন স্বামীর নিয়ত ছিল অথবা কথা বলার পরিবেশ তা প্রমাণ করে।"
প্রদত্ত বাক্যগুলোর বিশ্লেষণ:
১. "চলে যাও":
- এটি একটি কেনায়া শব্দ। যদি স্বামী শুধু রাগের মাথায় বলে, কোনো তালাকের নিয়ত না থাকে, এবং ঝগড়ার সময় তা বিচ্ছেদের অর্থে না হয় (যেমন কেবল শান্ত হওয়ার জন্য বলে), তাহলে তালাক হবে না।
- তবে যদি ঝগড়ার প্রসঙ্গে "চলে যাও" বলা হয় এমন কারিণায় যে স্ত্রী চলে গেলে আর ফিরবে না, তাহলে তালাক পতিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. "তোমার সাথে সংসার করব না":
- এটি সংসার না করার কথা, সরাসরি তালাক নয়। নিয়ত না থাকলে সাধারণত তালাক হয় না। তবে কারিণা (যেমন দীর্ঘদিন বিচ্ছেদের কথা) থাকলে হানাফি ফিকহে কিছু মতভেদ আছে। সাধারণত বলা হয়, একবার বললে তালাক হবে না, কিন্তু বারবার বললে বা পরিস্থিতি থেকে তা প্রমাণিত হলে তালাক পতিত হতে পারে। (আল-হিদায়া, ১/২৩০)
৩. "তোমার মত বউ লাগবে না":
- এটি স্ত্রীর গুণের প্রশংসা না করা, সরাসরি বিচ্ছেদের শব্দ নয়। নিয়ত ছাড়া তালাক হবে না।
৪. "আরেকটা কর গা বিয়ে":
- এটি অন্যমারের পরামর্শ দেওয়ার শব্দ। স্বামী যদি এতে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করার ইঙ্গিত করে (অর্থাৎ "আমি তোকে ছেড়ে দিলাম"), তবে তালাকের নিয়ত থাকতে হবে। না থাকলে তালাক হবে না। কিন্তু কেউ কেউ বলেন, যদি রাগের মাথায় এমন শব্দ ঝগড়ার সময় বলে, তাহলে এটি তালাকের কারিণা হতে পারে (যেমন স্বামী বোঝাতে চায় "তুই মুক্ত, তোর ইচ্ছামতো বিয়ে কর")। তবে বাস্তবে নিয়ত না থাকলে তা গণ্য হবে না। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৯০)
রাগের প্রভাব:
- হানাফি মতে: রাগের অবস্থায় তালাক দেওয়া সাধারণত সিদ্ধ হয়, যদি না স্বামী এমন উত্তেজিত হয় যে তার জ্ঞান লোপ পেয়েছে (পাগলের মতো) অথবা সে নিজের কথার নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
- "রদ্দুল মুহতার" (৪/৪৭০): "ধমক বা রাগ তালাককে অকার্যকর করে না, যতক্ষণ না ব্যক্তি নিজের কথার অর্থ বোঝার ক্ষমতা রাখে।"
- "ফাতাওয়া উসমানী" (২/২৬৫): "সাধারণ রাগ তালাকের বৈধতায় প্রতিবন্ধক নয়। কিন্তু অতি প্রবল রাগ (যাতে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়) হলে তালাক পতিত হয় না।"
শেষ সিদ্ধান্ত:
- সতর্কতা: ওপরের বাক্যগুলো সাধারণত নিয়ত ও স্পষ্ট কারিণা ছাড়া তালাক পতিত করে না। তবে যেহেতু তালাক একটি গুরুতর বিষয় এবং দ্বীনের বিধান, তাই যেকোনো কেনায়া শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।
- ব্যবহারিক সমাধান: যদি কেউ রাগে এমন শব্দ বলে ফেলে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীকে জানিয়ে দেয়া জরুরি যে তার তালাকের কোনো নিয়ত ছিল না। তবে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রচলন (উরফ) একে তালাকে পরিণত করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট মাসআলায় স্থানীয় একজন আলিম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (৪/৫০০-৫১০)
- ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৩৭১)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪৩৮-৪৩৯)
- ফাতাওয়া উসমানী (২/২৬৫, ২/২৯০)
- আল-হিদায়া (১/২৩০)
- শারহু মা‘আনিল আসার (৩/২১০)
সতর্কতা: এই উত্তরটি সাধারণ হানাফি ফিকহের আলোকে দেয়া হয়েছে। বাস্তবে কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো আলিমের সাথে যোগাযোগ করা অধিক নিরাপদ।